পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা

বিবিধ ডেস্ক ১২:১৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

print
পদ্মা সেতুতে কাটা মাথা

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজে মানুষের কাটা মাথা লাগবে বলে সারা দেশে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। এই কিছুদিন আগেও এই গুজবকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরের অবস্থা ছিল উত্তাল। গুজব প্রতিরোধে মাঠে নামতে হয়েছিল পুলিশকে। এ ধরনের গুজবে কাউকে বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ করেছে পুলিশ সদর দফতর। গুজব প্রতিরোধ ও রটনাকারীদের গ্রেফতার করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজ করছিলেন পুলিশের সাইবার গোয়েন্দারা।

পুলিশ সদর দফতর, সমাজকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, কুচক্রীমহল সবসময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়। এই চক্রের কোনো কিছুই বিশ্বাস করা যাবে না। তবে এই গুজব ছড়িয়ে পড়ার পেছনে যে ঘটনাটি কাজ করেছে তা হলো, ২০১৫ সালের ১ মার্চ নদীতে পশুর রক্ত ঢেলে পদ্মা সেতুর ভিত্তি স্থাপন কাজের উদ্বোধন করে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি। মুন্সীগঞ্জের মাওয়ায় মূল সেতুর পরীক্ষামূলক ভিত্তি স্থাপনের সময়ও নদীতে গরুর রক্ত ঢালতে দেখা যায় চায়নিজ ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের। ভাসিয়ে দেওয়া হয় কয়েকটি মুরগিও। তাদের বিশ^াস, বড় কাজের শুরুতে পশু উৎসর্গের মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, এড়ানো যায় বড় দুর্ঘটনা। তখন গণমাধ্যমেও এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সেই সময়ের রক্তের ওই ছবি এ সময় এসে ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়েছে একটি মহল।

অসাধু ফেসবুক ব্যবহারকারীরা মূল তথ্য আড়াল করে পুরনো সেই ছবিকে মানুষের রক্তের ছবি বলে চালাতে থাকে। পুলিশের সূত্র মতে, ২০১৬-১৭ সালে এই চক্রটি চুপচাপ ছিল। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম এই গুজবের সূত্রপাত হয়। এরপর গত মার্চ মাস থেকে ফের শুরু হয় গুজব। সেটা ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বলা হয়, পদ্মা সেতু তৈরিতে মানুষের মাথা লাগবে। একটি চক্র এ ধরনের মনগড়া বক্তব্য দিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে থাকে। ফলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। তার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরালো চেষ্টায় সেটা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

এ ব্যাপারে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণাকে ‘কুচক্রী মহলের গুজব’ বলে জানিয়েছে পদ্মা সেতু প্রকল্প কর্তৃপক্ষ। এই গুজবের বিষয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তার কাছে একটি চিঠি লিখেন। সেখানে বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ পরিচালনায় মানুষের মাথা লাগবে বলে একটি কুচক্রী মহল বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তা প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, এটি একটি গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। এমন অপপ্রচার আইনত দ-নীয় অপরাধ।