‘বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত’

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভিজিতের বিজয়

‘বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত’

বিবিধ ডেস্ক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
‘বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত’

নোবেল পাওয়ার প্রতিক্রিয়ায় অভিজিৎ বলেন, ‘নোবেল পাব ভাবিনি। একেবারে অপ্রত্যাশিত। পুরস্কার পাওয়ার পর বাবার কথাই প্রথম মনে পড়ে। বাবা থাকলে খুব ভালো লাগত। বাঙালি হিসেবে আমি গর্বিত। অমর্ত্য সেনের পর দ্বিতীয় হওয়াটা সত্যিই একটা মর্যাদার। আরও ভালো কাজ করতে চাই।’

এমআইটির এ গবেষক বলেন, ‘নোবেল পাওয়ার কথা কল্পনাতেও ছিল না। মানুষ বয়স হলে এ ধরনের পুরস্কার পায়। ৬০ বছর বয়সের পর তবু মানুষ এ ধরনের পুরস্কারের ব্যাপারে ভাবতে পারে। আমার তো সবে ৫৮ বছর। আর আমার স্ত্রী সবে ৪৭ বছর।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা খুবই ভালো হলো যে, যে পদ্ধতিতে আমরা কাজ করছি তা স্বীকৃতি পেল। প্রতিষ্ঠা পেল। যখন শুরু করেছিলাম, বারবার শুনতে হয়েছে, এটা কি অর্থনীতি? এটা করে কি কিছু শেখা যায়? কেউ বলেছেন, এত ঝামেলা করে লাভ কী? কেউ বলেছেন, এগুলো কি খেলা হচ্ছে?’

উল্লেখ্য, তার পদ্ধতিতে যারা আস্থা রাখেননি, তাদের মধ্যে তার অতি পরিচিত, অতি ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরাও ছিলেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাঙালি অর্থনীতিবিদরাও।

বিরোধিতা যে সর্বদা বিশেষজ্ঞ মহলে বিতর্কে আটকে ছিল, এমনও নয়। ভ্রান্ত পদ্ধতি প্রয়োগের আরোপ এসেছে, তাচ্ছিল্যের তিক্ততা বর্ষিত হয়েছে। সাক্ষ্যভিত্তিক নীতি তৈরি করার বিরুদ্ধে প্রায় জনমত তৈরি করতে নেমে পড়েছিলেন কোনো কোনো অর্থনীতিবিদ। বিশেষত ভারতে একটা সমালোচনা খুবই শোনা যেত, যে দেশ এত গরিব, সেখানে দারিদ্র্য নিরসনে কোন পদ্ধতি কার্যকর হবে, তা বোঝার জন্য এত টাকা খরচ কেন? এ কি অপচয় নয়? কিন্তু অভিজিৎ ও তার সহযোগীরা বারবার বুঝিয়েছেন, কীভাবে প্রকল্প তৈরি করলে টাকাটা বাস্তবিক গরিবের কাজে লাগে, আগে তা না বুঝলে তো সবটাই অপচয়।

নোবেল পাওয়ার পর তার কথায় উঠে এলো সেই দারিদ্র্য দূরীকরণের কথা ও দেশের কথা। তার ভাষায়, ‘অনেক সময় ভোটের কথা, জনপ্রিয়তা, নাম কেনার কথা মাথায় রেখে পরিকল্পনা করা হয়। তা না করে ভারতের মতো দেশের ক্ষেত্রে যেকোনো পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে আগে ভাবনা-চিন্তা করা উচিত। কোনো সরকারি প্রকল্প রূপায়ণের ক্ষেত্রে লক্ষ রাখা উচিত, তার মাধ্যমে কীভাবে সর্বাধিক সংখ্যক দেশের মানুষ উপকৃত হতে পারেন।’