কেন পেলেন নোবেল

ঢাকা, শনিবার, ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অভিজিতের বিজয়

কেন পেলেন নোবেল

বিবিধ ডেস্ক ১:৩৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
কেন পেলেন নোবেল

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এস্থার ডুফলো- ঘটনাচক্রে যারা স্বামী-স্ত্রীও বটে, তারা যৌথভাবে একটি বই লিখেছেন, নাম পুওর ইকোনমিক্স। অভিজিৎ এবং এস্থার ডুফলো ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়ান। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, ‘এ বছরের নোবেল বিজেতাদের গবেষণা দুনিয়াভর দারিদ্র্যের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য আমাদের শক্তি বর্ধন করেছে। মাত্র দু’দশকে তাদের নতুন গবেষণাভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি উন্নয়নের অর্থনীতিতে রূপান্তর এনেছে, যা বর্তমানে গবেষণার এক উদীয়মান ক্ষেত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

নোবেল পুরস্কারের মুখপাত্র ব্যাখ্যা করেছেন, ‘এই অর্থনীতিবিদদের বৈশিষ্ট্য হলো, উন্নয়ন অর্থনীতির সমস্যাগুলো নিয়ে বিশেষ করে দারিদ্র্য দূরীকরণের ব্যাপারে তারা সমস্যাজনক সেইসব অংশগুলোকেও ক্ষুদ্রতর অংশে ভেঙে নিয়ে বোঝার চেষ্টা করেছেন- কোনো নীতি কাজ করেছে, কোনো নীতি কাজ করেনি।’

উদাহরণ, স্কুলে যেসব শিশু যাচ্ছে তারা যথেষ্ট শিখছে না কেন। অভিজিৎরা এ বিষয়টিকে ভেঙে নিয়ে দেখতে চেয়েছেন, আর কী দেওয়া হলে, এ ব্যাপারে তাদের সাহায্য করা যায়। এক্ষেত্রে একটা জিনিস যেমন, পাঠ্যবই। কিন্তু তারা এও দেখেছেন শুধু বই দেওয়াই যথেষ্ট নয়, যদি না স্কুলগুলোকে বিনামূল্যে সংস্কারের ব্যবস্থা করা যায়।

এই দৃষ্টিভঙ্গির জন্য ফিল্ড এক্সপেরিমেন্টের প্রয়োজন হয়েছে এবং বোঝার প্রয়োজন হয়েছে যে একটি ক্ষুদ্র নীতির উদ্যোগ গ্রহণ কার্যকরী হচ্ছে কি-না এবং যদি না হয়, তাহলে কেন তা হচ্ছে না। এই ভাবে সমস্যাকে দেখার ফলে সারা পৃথিবীতে কোন নীতি কাজ করছে এবং কোন নীতি পরিত্যাগ করা উচিত তা বোঝার ক্ষেত্রে গবেষকদের সুবিধা হয়েছে।

বিজয়ী ঘোষণার পরপরই ডুফলো বলেছেন, ‘মানুষ দরিদ্রদের উপহাসের পাত্রে পরিণত করে ফেলেছেন, তাদের সমস্যার শিকড় না বুঝেই। আমরা সমস্যা বোঝার চেষ্টা করব এবং প্রতিটি বিষয়কে বৈজ্ঞানিকভাবে এবং খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করব।’

সারা পৃথিবীর ৭০০ মিলিয়ন মানুষ, যারা প্রবল দারিদ্র্যের মধ্যে আজও দিন কাটান, তাদের জন্য কোনো রুপোর ওষুধ খোঁজেননি এবারের নোবেলবিজয়ীরা। তারা খুঁজেছেন দারিদ্র্যের বিভিন্ন দিকগুলো- যথা ভগ্নস্বাস্থ্য, অপর্যাপ্ত শিক্ষা ইত্যাদি। এর পর তারা এগুলোর প্রত্যেকটির আরও অন্দরে গিয়েছেন।