ডায়েরি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

ডায়েরি

৭ অক্টোবর ১৯৬৭

বিবিধ ডেস্ক ১২:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৯

print
ডায়েরি

আমাদের গেরিলা দল গঠনের পর এগারো মাস হয়েছে; দিনটা নিরুপদ্রবে এমনকি মেঠো গান গেয়েই কাটছিল। সাড়ে বারোটা নাগাদ এক বুড়ি তার ছাগল চরাতে চরাতে গিরিসংকটের যেখানটায় আমরা শিবির করেছি সেখানটায় চলে এলো। ওর সম্বন্ধে সচেতন হওয়ার প্রয়োজন। বুড়ির কাছ থেকে সৈন্যবাহিনীর সম্পর্কে কোনো সত্যি খবর পাওয়া গেল না। সে বলল, বহুপূর্বে সে ওখানে গিয়েছিল কাজেই কিছু জানে না।

সে শুধু পথঘাটের কিছু খবর দিল-তার রিপোর্ট অনুযায়ী আমরা হিগুয়েরাস থেকে প্রায় এক লীগ, জাগুয়ে থেকে প্রায় এক লীগ আর গুকারো থেকে প্রায় দুলীগ দূরে আছি। সাড়ে পাঁচটায় ইন্টি, অনিকেতো আর পাবলিটো বুড়ির বাড়িতে গেল। বাড়িতে ওর দুটো মেয়ে-একটা পঙ্গু আর একটা আধা-মানন। ওকে পঞ্চাশটা পেসো দিয়ে অনুরোধ করা হলো সে যেন কোনো কথা না বলে। তবে সে যে তার কথা রাখবে এমন ভরসা বেশি ছিল না। আমাদের সতেরো জন বেরিয়ে পড়লাম ম্লান চাঁদের আলোয়, অত্যন্ত ক্লান্তিকর যাত্রা-পেছনে পড়ে রইল আমাদের অবস্থানের বহু চিহ্ন। কাছাকাছি কোনো বাড়ি নেই, আছে কিছু আলুর খেত-এই খাঁড়িটা থেকেই তাতে জলসেচ করা হয়। রাত দুটোয় আমরা বিশ্রামের জন্য থামলাম, আর এগোনো বৃথা। রাত্রিবেলা যখন হাঁটা দরকার তখন চিনো একটা সত্যিকারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেডিওতে এক অদ্ভুত সংবাদ দিল- যারা পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে-ওদের কথামতো সাঁইত্রিশ জন- তাদের বেরোবার পথ আটকাবার জন্য সেরানোতে ২৫০ জনের একটা বাহিনী উপস্থিত হয়েছে। বলল, আমরা আশ্রয় নিয়েছি আকেরো নদী আর ওরোর মাঝখানটায়। খবরটায় মনে হলো, ওরা মনোযোগ অন্যদিকে নিয়ে যেতে চায়।