সি ভি রমণ ও সুব্রামানিয়াম

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

নোবেল পরিবার

সি ভি রমণ ও সুব্রামানিয়াম

চাচা-ভাতিজা

বিবিধ ডেস্ক ১:৫৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

print
সি ভি রমণ ও সুব্রামানিয়াম

আকাশ কিংবা সাগর কেন নীল এই প্রশ্নের বিজ্ঞানভিত্তিক জবাব যিনি দিয়েছেন তিনি হলেন রমণ প্রভাবের আবিষ্কর্তা আচার্য চন্দ্রশেখর ভেঙ্কট রমণ বা সংক্ষেপে সি ভি রমণ। আর বিজ্ঞানপিপাসু ব্যক্তিবর্গ আলোর বিক্ষেপণে রমণ প্রভাবের কথা জানে না এমনটা হওয়ার নয়। এই আবিষ্কারের হাত ধরেই আচার্য রমণ স্বীয় মাতৃভূমি ভারতবর্ষকে দিয়েছেন সর্বশ্রেষ্ঠ পুরস্কারটি। সময়টা ১৯৩০ সাল। রমণই ভারতবর্ষের প্রথম বিজ্ঞানী যিনি পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার অর্জন করে মাতৃভূমিকে করেছেন গৌরবান্বিত। তার ভাইপো সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখরও সর্বশ্রেষ্ঠ এই পুরস্কারটি জিতেছিলেন ১৯৮৩ সালে।

ব্রিটিশ ভারতের মাদ্রাজ বা তামিল নাড়ু প্রদেশের ত্রিচিনোপলি শহরে ১৮৮৮ সালের ৭ নভেম্বর জন্ম নেন রমণ। ১৯০৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞান ও ইংরেজিতে বিএ পাস করলেন, প্রথম হলেন এবং পেলেন স্বর্ণপদক। পরবর্তীতে ১৯০৭ সালে ১৯ বছর বয়সে রমণ সর্বোচ্চ নম্বরসহ পাস করলেন তার এমএ পরীক্ষায়। ১৯০৬ সালের নভেম্বরে মাত্র আঠারো বছর বয়সে তিনি তার প্রথম একাডেমিক পেপারটি প্রকাশ করেন। মূলত এই পেপারটি আলোর প্রকৃতির ওপর লেখা। কিন্তু অধ্যাপকটি এ নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামালেন না। পরে রমণ এটা সরাসরি পাঠিয়ে দেন ‘ফিলোসফিক্যাল ম্যাগাজিন’-এ এবং তারা এটা সাঙ্গে সঙ্গেই তা গ্রহণ করে।

রমণ যখন জন্মেছিলেন তখন ভারতবর্ষে বিজ্ঞানী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করা ঠিক যুতসই ছিল না। তবু বিজ্ঞানের প্রতি তার আকর্ষণ তাকে বিজ্ঞানের পথে নিয়ে যায়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা করার উদ্দেশ্যে তিনি ১৯৪৮ সালে ব্যাঙ্গালোরে ‘রমণ রিসার্চ ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এখানে গবেষণা চালিয়ে গেছেন। ১৯৭০ সালে ৮২ বছর বয়সে এই গুণী বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়।

চাচা রমণের মতো বিজ্ঞানী সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখরও নক্ষত্রে বিবর্তন ও তাত্ত্বিক কাঠামো নিয়ে গবেষণার জন্য বিখ্যাত। ভারী নক্ষত্রদের জীবনের শেষের দিকের অবস্থা নিয়ে তিনি বিশেষভাবে কাজ করেছেন, হিসাব করে বের করেছেন ‘চন্দ্রশেখর সীমা’। এই সীমা হচ্ছে শে^ত বামন নক্ষত্রদের সর্বোচ্চ ভরের পরিমাপ। ১৯৮৩ সালে উইলিয়াম ফাউলারের সঙ্গে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন তিনি। বহু তাত্ত্বিক বিষয়ে অবদান রাখলেও তার নোবেল পেতে ভূমিকা রেখেছে তার প্রাথমিক জীবনের কাজগুলোই। পুরো নাম পদ্মবিভূষণ সুব্রামানিয়াম চন্দ্রশেখর।

১৯১০ সালের ১৯ অক্টোবর লাহোরের একটি তামিল হিন্দু পরিবারে তার জন্ম। তার বাবা ছিলেন ইন্ডিয়ান রেলওয়ের হিসাবরক্ষক। পাশাপাশি ছিলেন ভায়োলিন ও মিউজিকোলজিস্ট। মাও ছিলেন শিক্ষতা মহিলা। বলা হয় তার মাই প্রথম জীবনে তার মধ্যে জ্ঞানের প্রতি ভালোবাসা তৈরি করেন। ২১ আগস্ট ১৯৯৫ সালে ৮৪ বছর বয়সে তিনি পৃথিবীকে চির বিদায় জানান।