কাশ্মীরে কান্নার কাব্য

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

কাশ্মীরে কান্নার কাব্য

বিবিধ ডেস্ক ১:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৮, ২০১৯

print
কাশ্মীরে কান্নার কাব্য

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে উত্তপ্ত, সংঘর্ষপ্রবণ ও বিক্ষত এক জনপদ কাশ্মীর। ৭১ বছর ধরে কাশ্মীর লড়াই করছে নিজের পরিচয়ের জন্য। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষের মতামত বা অংশগ্রহণ ছাড়াই কাশ্মীরের মালিকানা কিংবা নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তন হয়েছে বহুবার। এত বছর ধরে কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা সমস্যা চললেও কাশ্মীর সমস্যার কোনো সুরাহা হয়নি। কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখেন এক স্বাধীন জন্মভূমির-

১৮২২
দেশীয় রাজ্য হওয়ার আগে কাশ্মীর পাস্তুন দুরানি সাম্রাজ্যের অন্তর্গত ছিল। পরবর্তীকালে রণজিৎ সিংহ এটিকে শিখ সাম্রাজ্যের সঙ্গে যুক্ত করেন। জম্মু ছিল তখনকার শিখ সাম্রাজ্যের একটি করদ রাজ্য। ১৮২২ সালে জম্মুর রাজা কিশোর সিং প্রয়াত হলে শিখেরা উত্তরাধিকারী হিসাবে পুত্র গুলাব সিংকে স্বীকৃতি দেয়। গুলাব সিং প্রাথমিকভাবে শিখদের অধীনে থেকে তার সাম্রাজ্য বিস্তার শুরু করেন।

১৯৩০
জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) জন্ম। কাশ্মীরের মুসলিমরা তৎকালীন রাজা হরি সিংয়ের পক্ষপাতদুষ্ট নীতিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না। হরি সিংয়ের পতন ঘটাতে এনসির প্রতিষ্ঠাতা শেখ আবদুল্লাহ কাশ্মীর স্বাধীন কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। ১৯৪৭ সালে অক্টোবরে পাকিস্তান থেকে সশস্ত্র পাহাড়ি গোত্রের যোদ্ধারা কাশ্মীরে ঢুকে পড়ে। হরি সিং বুঝতে পারেন যে তার ভারতের সাহায্য দরকার। প্রধামন্ত্রী জহরলাল নেহরুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে নেহরু ও প্যাটেল উভয়েই এই শর্তে সৈন্য পাঠাতে রাজি হন যে মহারাজা ভারতের পক্ষে ‘সংযোজন চুক্তি’ স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে ভারতের হাতে কাশ্মীরের প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও যোগাযোগের দায়িত্ব ন্যস্ত হবে। হরি সিং চুক্তি স্বাক্ষর করেন ও ভারতীয় সৈন্য প্রবেশ করে। সশস্ত্র সংঘাত (ভারত ও পাকিস্তানের ভেতর) অব্যাহত থাকে।

১৮৪৫
এ বছর শীতকালে ব্রিটিশ এবং শিখদের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৪৬ সালে সব্রাওন এর যুদ্ধ পর্যন্ত গুলাব সিং নিরপেক্ষ থাকেন, তারপর তিনি একজন মধ্যস্থ এবং স্যর হেনরি লরেন্স-এর বিশ্বস্ত পরামর্শদাতা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন। দুই বছর পর ১৮৪৭ সালে দুটি চুক্তি হয়। মহারাজা গুলাব সিং নামের এ ডোগরা শাসক ইস্ট এশিয়া কোম্পানির সঙ্গে অমৃতসর চুক্তি করেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর অঞ্চল কিনে নেন।

১৯৪৮
জানুয়ারিতে ভারত জাতিসংঘে (রাষ্ট্রপুঞ্জে) কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে যায় এবং কাশ্মীরের কিছু অংশে পাকিস্তানের সশস্ত্র উপস্থিতি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ইউএন গণভোট আয়োজনের পরামর্শ দিলেও ভারত বা পাকিস্তান কেউই অঞ্চলটিতে কীভাবে বেসামরিকীকরণ করা হবে, সে প্রশ্নে একমত হতে পারে না। ১৯৪৮ পর্যন্ত এ নিয়েই সংঘাত চলে। এ বছর মার্চ মাসে জম্মু ও কাশ্মীরে হরি সিং একটি অন্তর্বর্তী সরকার চালু করেন। শেখ আবদুল্লাহকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়।

১৯৫৭
জম্মু ও কাশ্মীরে তার প্রথম আইনসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। জম্মু ও কাশ্মীর গণপরিষদ বাতিল হয়ে বিধানসভা গঠিত হয়। ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দ বল্লভ শ্রীনগর সফর করেন এবং বলেন জম্মু ও কাশ্মীর এখন পুরোটাই ভারতের অংশ। ফলে গণভোটের আর কোনো সম্ভাবনা থাকে না। ১৯৬০ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশন উভয়েই জম্মু ও কাশ্মীরের ওপর তাদের অধিক্ষেত্র বা জুরিসডিকশন প্রসারিত করে। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে সেটা করা হয়।

১৯৬২
চীন এবং ভারতের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধের পর জম্মু ও কাশ্মীরের একটি এলাকা নিজ নিয়ন্ত্রণে নেয় চীন। এই এলাকাই বর্তমানে ‘আকসাই চীন’ নামে পরিচিত।

১৯৬৬
আগস্ট ১৯৬৫ থেকে জানুয়ারি ১৯৬৬ ভারত ও পাকিস্তানের ভেতর আবার যুদ্ধ। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী ও পাক রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান যুদ্ধের সমাপ্তি সূচক ‘তাসখন্দ চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। ১৯৬৬ সালে জম্মু ও কাশ্মীরে পুনরায় গণভোটের দাবিতে কিছু সশস্ত্র দল আত্মপ্রকাশ করে। এদের ভেতর উল্লেখযোগ্য ছিল ‘গণভোট ফ্রন্ট’ এবং ‘জম্মু ও কাশ্মীর ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট।

১৯৬৫
মে মাসে কাশ্মীরে এতদিন প্রচলিত ‘প্রধানমন্ত্রী’ ও ‘সদর-ই-রিয়াসাত’ পদদ্বয় ‘মুখ্যমন্ত্রী’ ও ‘রাজ্যপাল (গভর্নর)’ পদে বদলে দেওয়া হয়। ১৯৬৫ সালের জুনে আবদুল্লাহর রাজনৈতিক দল ‘এনসি’ ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কংগ্রেসে’র সঙ্গে একীভূত হয়।

১৯৪৯
জানুয়ারিতে জাতিসংঘ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ বিরতির মধ্যস্থতা করে। এটা করাচি চুক্তি নামেও পরিচিত। যার ফলে দুই দেশই যার যার দখলকৃত ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ রাখার অনুমতি পায়। তখনো গণভোট বিষয়ে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। জুলাইয়ে হরি সিংয়ে পুত্র করণ সিংকে ক্ষমতা দেবেন বলে নিজে সিংহাসন ছেড়ে দেন। শেখ আবদুল্লাহ ও তার তিন সহকর্মী ভারতীয় জাতীয় সংসদে ‘অনুচ্ছেদ ৩৭০’ বিষয়ে আলোচনা করতে যোগ দেন। তখন এই অনুচ্ছেদটি রচিত হচ্ছিল। ১৯৫০ সালে ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়। এতে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের একটি প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য হিসেবে ঘোষণা করে এবং অনুচ্ছেদ ৩৭০-এর আওতায় কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা বা স্পেশাল স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। ১৯৫১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাদেশিক সংবিধান রচনার জন্য প্রদেশটির প্রাদেশিক সংসদ কাজ শুরু করে। সংসদের সব সদস্যই শেখ আব্দুল্লাহর ন্যাশনাল কাউন্সিলের সদস্য। ১৯৫২ সালে কাশ্মীরি নেতৃবৃন্দ ‘ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া’-র সঙ্গে প্রদেশের সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়ে জম্মু ও কাশ্মীর প্রাদেশিক সংসদ বা আইনসভায় আলাপ করেন যার প্রেক্ষিতে ‘সামগ্রিক দিল্লিচুক্তি (কম্প্রিহেন্সিভ দিল্লি এগ্রিমেন্ট)’ স্বাক্ষরিত হয়। ১৯৫৩-তে মন্ত্রিসভার সমর্থন হারানোর অভিযোগে শেখ আবদুল্লাহকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে অপসারিত করা হয় এবং বকশী গুলাম মুহাম্মদ তার স্থলাভিষিক্ত হন। ১৯৫৪-তে রাষ্ট্রপতির একটি অধ্যাদেশ-এর মাধ্যমে ভারতীয় সংবিধানের আরো কিছু প্রবিধান জম্মু ও কাশ্মীরের সংবিধানের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ১৯৫৬ সালে জম্মু ও কাশ্মীর নিজস্ব সংবিধান গ্রহণ করে ও নিজেকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।

১৯৭১
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে কেন্দ্র করে ভারত ও পাকিস্তানের ভেতর পুনরায় যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৭২ সালে ভারত ও পাকিস্তান ‘সিমলা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে যা যুদ্ধবিরতির রেখাকে ‘লাইন অফ কন্ট্রোল’ বা ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’ হিসেবে পরস্পর মেনে নেয়।

১৯৭৫
প্রধানমন্ত্রী ইন্ধিরা গান্ধী ও শেখ আব্দুল্লাহ ‘কাশ্মীর চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন যা অনুচ্ছেদ ৩৭০ অর্থাৎ পুনরায় জোর দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ঘোষণা করে। ভারতীয় ইউনিয়ন ও কাশ্মীরের প্রাক-১৯৫৩ সম্পর্ক বিষয়ে শ্রীমতি গান্ধী বলেন, ‘ঘড়ির কাঁটা পেছনে ফেরানো যায় না’। এর মাধ্যমে তিনি বোঝান, গণভোট আয়োজন সম্ভব নয়। শেখ আব্দুল্লাহ গণভোটের দাবি ছেড়ে দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী পদে কংগ্রেসের সমর্থনে পুনর্বহাল হন।

১৯৯০
কাশ্মীরি যুবকরা ভারতীয় শাসনের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে এসে ভারতীয় সৈন্যবাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে শ’য়ে শ’য়ে আত্মাহুতি দেয়। ‘জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্টে’র মত সশস্ত্র দলগুলোর কর্মকাণ্ড বাড়ায় কেন্দ্রীয় শাসন ঘোষণা হয়। তারপরও অসংখ্য কাশ্মীরি পণ্ডিত (ব্রাহ্মণ) ও শিখরা ইসলামী গোষ্ঠীগুলোর সশস্ত্র কর্মকাণ্ডে হাজার বছরের মাতৃভূমি ত্যাগ করে। প্রায় পাঁচ থেকে দশ লাখ হিন্দু ও শিখ উপত্যকা ত্যাগ করে। কেন্দ্রীয় সরকার ‘আর্মড ফোর্সেস স্পেশাল পাওয়ার্স এ্যাক্ট’ প্রণয়ন করে এবং যা কিনা ভারতের সেনাবাহিনীকে কাশ্মীরে সশস্ত্র জঙ্গি গ্রুপগুলোকে দমনে অদৃষ্টপূর্ব ক্ষমতা দান করে।

১৯৯৫
প্রধানমন্ত্রী পি ভি নরসিংহ রাও সংসদে এই আশ্বাস দেন, অনুচ্ছেদ ৩৭০ কখনোই ভারতীয় সংসদ থেকে বিলুপ্ত হবে না। তিনি পুনরায় এই মত ব্যক্ত করেন, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তিনি অচিরেই কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের অবসান চান। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত ‘জম্মু ও কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট’-কে বাতিল করে। ১৯৯৬ সালে সেপ্টেম্বর জম্মু ও কাশ্মীরে আইন পরিষদ নির্বাচন পুনরায় অনুষ্ঠিত হয়। ফারুক আব্দুল্লাহ পুনরায় সরকার গঠন করেন।

১৯৯৯
এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী পাকিস্তান সফর করেন। জুন মাসে ভারত ও পাকিস্তান কারগিলে পাক আক্রমণের মুখে যুদ্ধ শুরু করে। ডিসেম্বরে ভারতীয় বিমান আইসি-৮১৪ দিল্লি থেকে কাঠমান্ডু উড্ডয়নের পথে কাশ্মীরি জিহাদিদের হাতে হাইজ্যাক হয়। ভারত বিমানের যাত্রীদের নিরাপদে দিল্লি পাঠাতে তিনজন সশস্ত্র কাশ্মীরি কারাবন্দীকে মুক্তি দেয়।

২০০১
অক্টোবরে শ্রীনগরের আইন পরিষদে হামলা করা হয়। ডিসেম্বরে সশস্ত্র জিহাদিরা নয়া দিল্লিতে ভারতের জাতীয় সংসদ ভবনে হামলা চালায়। ২০০৪ সালে দশকব্যাপী অস্থিরতার পর ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক খানিকটা স্বাভাবিক হয়। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং পাক রাষ্ট্রপতি জেনারেল পারভেজ মোশাররফের সঙ্গে দেখা করেন। ২০০৫ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত জম্মু ও কাশ্মীরে সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র নানা গ্রুপ এবং প্রতিবাদকারী বেসামরিক ব্যক্তিবর্গের ভেতর নানা সংঘর্ষ অব্যাহত থাকে। তবে সেটা ১৯৯০-এর দশকে জিহাদি আন্দোলনের তুঙ্গ মুহূর্তে যে পরিসরে ছিল, অতটা ব্যাপ্তি আর ধারণ করে না।

২০০৮
নভেম্বরে লস্কর-ই-তৈয়বা নামক জঙ্গি গ্রুপের সদস্যরা ভারতের বন্দর নগরী মুম্বাইয়ের নানা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থান বিশেষত: বিলাসবহুল হোটেলগুলোয় হামলা চালায়। ২০১০-এ এক তরুণ জিহাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভ উত্তাল পরিস্থিতি দেখা দেয়। ২০১১ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ১.২০০ পাথর নিক্ষেপকারীকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’র পাশে ভারতীয় মানবাধিকার কমিশন ২,০০০ অচিহ্নিত গণকবরের হদিস পায়।

২০১৩
জুনে বিজেপি সরকার পিডিপির (পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি) সঙ্গে মৈত্রী থেকে সরে যায়। ২০০১ সালে ভারতীয় জাতীয় সংসদে হামলার জন্য কাশ্মীরী ইসলামী নেতা আফজাল গুরুকে ফাঁসি দেওয়া হয়। ২০১৩ মার্চে জম্মু ও কাশ্মীরে ‘পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি’র সঙ্গে বিজেপি প্রথমবারের মত সরকার গঠন করে। ২০১৬ সালের এপ্রিলে মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মোহম্মাদ সাঈদের মৃত্যুর পর তার কন্যা মেহবুবা মুফতি কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী হন।

২০১৬
জুলাই বুরহান ওয়ানী, অপর এক তরুণ সশস্ত্র ইসলামী নেতা, সেনাবাহিনীর সঙ্গে গুলি বিনিময়ের সময় নিহত হন। জম্মু ও কাশ্মীরে বিক্ষোভ মারাত্মক আকার ধারণ করে। কয়েক মাসের জন্য কারফিউ আরোপ করা হয়। ২০১৬ সেপ্টেম্বরে বিক্ষুব্ধ এই প্রদেশের উরিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঘাঁটিতে সশস্ত্র জিহাদিরা হামলা করে। উত্তরে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘নিয়ন্ত্রণ রেখা’র চারপাশে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালায়। ২০১৭ সালে জুলাইয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের হাজার হাজার মানুষ পথে নেমে বুরহান ওয়ানীর মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করে। অমরনাথ তীর্থযাত্রার পথে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের উপর জিহাদিরা হামলা করে।

২০১৯
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসে নরেন্দ্র মোদি নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। আগস্টে প্রচুর সংখ্যক ভারতীয় সেনা জম্মু ও কাশ্মীরে সরিয়ে নেয়া হচ্ছিল। অমরনাথের তীর্থযাত্রীদের ফিরতে বলা হয়। কারণ তীর্থযাত্রীদের যাবার পথে পাক চিহ্ন সম্বলিত স্থলমাইন পাওয়া যায়। ৪ আগস্ট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাশ্মীরী নেতৃবৃন্দকে গৃহবন্দী করা হয়। কাশ্মীরে ইন্টারনেট ও মোবাইল সার্ভিস রদ করা হয় ও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। ৫ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অনুচ্ছেদ ৩৭০ ও ৩৫ক বাতিলের জন্য একটি ‘রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ’ জারি করেন। জম্মু ও কাশ্মীরকে দ্বিখণ্ডিত করে লাদাখকে কেন্দ্রশাসিত এলাকা এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে তার বিধানসভাসহই পূর্বের মত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভারতের বিরোধী দলগুলো সংসদে এর প্রতিবাদ করে চলেছে আর কাশ্মীর উপত্যকায় বর্তমানে পুরো অচলাবস্থা বিরাজমান।