শূরায় অংশগ্রহণ

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

সৌদি নারীর এগিয়ে চলা

শূরায় অংশগ্রহণ

রোকেয়া ডেস্ক ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২১, ২০১৯

print
শূরায় অংশগ্রহণ

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাদশাহ আব্দুল্লাহ সৌদি আরবের রক্ষণশীল কাউন্সিল ‘শূরা’য় প্রথমবারের মতো ৩০ জন নারীকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এই ঘটনা দ্বীতিয়বার পৃথিবী ঘটতে দেখে সোল সালের ২ ডিসেম্বর। সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান এক রাজকীয় ফরমানে সৌদি প্রশাসনে বেশকিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিল পুনর্গঠন করা হয়। এটি বাদশাহর উপদেষ্টা পরিষদ হিসেবে পরিচিত।

কয়েক বছরে সৌদি আরবে নারী ক্ষমতায়নে বেশকিছু পরিবর্তন হয়েছে। সেই পরিবর্তন আরো দৃশ্যমান হয় এই শূরা কাউন্সিলে নতুন করে ২৯ জন নারী সদস্য নিয়োগের ঘোষণায়। সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলের সদস্য সংখ্যা ১৫০ জন। এতদিন শুধু পুরুষরাই এ কাউন্সিলের সদস্য হতে পারতেন। এ কাউন্সিল কোনো আইন প্রণয়ন করতে পারে না, তারা সরকারকে আইন প্রণয়নের বিষয়ে নানা পরামর্শ দিয়ে থাকে। সৌদি আরবের গ্রান্ড মুফতি শেখ আবদুল আজিজ আশ শায়খের নেতৃত্বাধীন সিনিয়র ইসলামি স্কলারদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিল পুনর্গঠনে মুফতি সদস্যদের শুরায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশও দেন বাদশাহ। নিয়োগপ্রাপ্ত নারী সদস্যরা পূর্ণ সদস্য হওয়ার অধিকার ভোগ করবেন। তবে নিজ নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। তবে কাউন্সিলে নারীদের রাখা হলেও তারা পুরুষদের পাশাপাশি বসবেন না। কাউন্সিল ভবনে ঢুকতে নারীদের জন্য থাকবে আলাদা দরজা। সৌদি আরবের শূরা কাউন্সিলে নারী সদস্য নিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন বাদশাহ আবদুল্লাহ। পুরুষ অধ্যুষিত পরামর্শক শূরা কাউন্সিলে ২০১৩ সালে প্রথমবারের মতো ৩০ জন নারীকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এ লক্ষ্যে একটি ডিক্রিও জারি করা হয়েছিল। এতে বলা হয়েছিল, শূরা কাউন্সিলের মোট সদস্যের অন্তত এক-পঞ্চমাংশ হবে নারী। ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করেই বাদশাহ আবদুল্লহ এ সিদ্ধান্ত নেন। পরের বারের শূরা কাউন্সিলে নিয়োপ্রাপ্ত নারীদের মধ্যে আছেন ডক্টরেট ডিগ্রীধারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, কূটনীতিক, লেখক, সাংবাদিক ও ব্লগার হিসেবে পরিচিতরা।

এর অন্যতম কয়েকজন হলেন- কাওসার আল-আরবাশ, মদি আল খালাফ, লীনা কে. আলমাঈনা, ড. আহলাম মুহাম্মদ আল হাকেমি, ড. জায়নাব আবু তালেব, নুরা আল শাবান, হুদা আবদুর রহমান আল হালিশি ও ড. সামিয়া আবদুল্লাহ।

এর আগে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে সৌদি আরবের তৎকালীন বাদশাহ প্রথম ঘোষণা করেছিলেন, তিনি শূরা কাউন্সিলে নারীদের নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।


সাইকেল চালানোর অনুমতি
এ বছর সাইকেল ও মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি পান সৌদি নারীরা। তবে কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় এবং ইসলামি রীতিতে পুরো শরীর ঢেকে এবং কোনো পুরুষ আত্মীয়ের উপস্থিতিতে তা চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।

 

অলিম্পিকে নারী অ্যাথলেট
অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো দেশের নারী প্রতিযোগীদের অংশগ্রহণের অনুমতি দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িছিল রক্ষণশীল মুসলিম দেশ সৌদি আরব। ২০১২ সালে এই প্রথমবারের মতো অলিম্পিকে অংশ নেন সৌদি নারীরা। তাদের মধ্যে সারাহ আত্তার নারীদের ৮০০ মিটার দৌড়ে লন্ডন অলিম্পিকের ট্র্যাকে নেমেছিলেন হিজাব পড়ে। আসর শুরুর আগে নারীদের অংশগ্রহণ করতে না দিলে সৌদি আরবকে অলিম্পিক থেকে বাদ দেওয়ার কথা জানিয়েছিল আইওসি।


পরিচয়পত্র
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে এসে পরিচয়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। সৌদি আরবে নারীদের পরিচয়পত্র নিতে হলে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি প্রয়োজন হতো। ২০০১ সালে সৌদি নারীরা পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই পরিচয়পত্র নেওয়ার সুযোগ পান।