ছেলেধরা

ঢাকা, সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯ | ৪ ভাদ্র ১৪২৬

ছেলেধরা

দীপঙ্কর সরকার ৭:৩১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০১, ২০১৯

print
ছেলেধরা

রাফি প্লে শ্রেণি হতে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে নার্সারিতে প্রোমোশন পেয়েছে। চেহারায় বেশ বিজ্ঞ বিজ্ঞ ভাব; অল্প বয়সে পাকলে যা হয় আর কি!
হুটহাট যে কাউকে প্রশ্ন করে বসে ; উদ্ভট সব প্রশ্ন। প্রশ্ন শুনে কেউ যদি ভ্যাবাচেকা খায়; ও বিজয়ের হাসির মাধ্যমে দন্তপাটি বিকশিত করে। ওর বড়ভাইকে যখন টিউটর পড়াতে আসেন তখন ও ব্যাটবল নিয়ে প্রস্তুত থাকে। টিউটর আসামাত্রই হাতে বল ধরিয়ে ব্যাট করে রাফি। ওর অদ্ভুত নিয়ম -পাঁচবার আউট করতে হবে তবেই মাস্টারমশাই ব্যাট পাবেন। কিন্তু পাঁচবার আউট হওয়ার আগেই মাস্টারমশাইকে পড়াতে যেতে হয়। ফলে, টিউটরের আর ব্যাট করা হয় না।

প্রতিদিন ওর বাবা ওর জন্য বাজার থেকে খাবার কিনে আনে। সেই খাবার সকালবেলা ওর হাতে তুলে না দিলে ওকে বিছানা থেকে কেউ নামাতে পারে না। নতুন বছরের ক্লাস তখনো শুরু হয়নি। ও একদিন বাজারে যাওয়ার জন্য বায়না ধরলো। ওর বাবা প্রথমে বাজারে নিয়ে যেতে রাজি হননি কিন্তু কি করে বাবাকে রাজি করাতে হয় সেটা ও খুব ভালোভাবে জানে।

রাফির সর্বশেষ কৌশল ব্রহ্মাস্ত্র অর্থাৎ বাজারে যাওয়ার জন্য কান্না শুরু করে দিলো। অগত্যা, ওকে বাজারে নিয়ে যেতেই হলো। বাবার সাইকেলের পেছনে বসে রাফি বাজারের পথে রওনা দিল। অনর্গল প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। অবশেষে ওরা বাজারে পৌঁছে গেল। বাজারে যা দেখে তাই কিনতে চায় রাফি। উপায়ন্তর না দেখে কিনেও দিতে হয়। তবুও অনেক জিনিসই কেনা হয়নি। ফেরার পথে ওর বাবার হঠাৎ মনে হলো ডিটারজেন্ট নিতে ভুলে গেছে। ওটা না নিয়ে বাড়িতে ফিরলে ওর মা কিছুতেই আস্ত রাখবে না। সাইকেলটা রাফিকে দেখার কথা বলে ওর বাবা ডিটারজেন্ট আনতে গেল। কিন্তু যাবার আগে বলে গেল -
অপরিচিত কোনো লোক কিছু খেতে দিলে যেন না খায় কিংবা অপরিচিত লোক কোথাও নিয়ে যেতে চাইলে ‘ছেলেধরা ছেলেধরা’ বলে চিৎকার করবি।
পাঁচ মিনিট পর ওর বাবা ফিরে এলো। আসামাত্র রাফি বাবাকে জিজ্ঞেস করলো
-গাড়িটা কিনে দাও
-কোন গাড়ি?
-যে গাড়িটা কিনে দাওনি; বলেছিলে মেলায় কিনে দেবে সেই গাড়িটা কিনে দাও
-না, আজ না। মেলায় কিনে দেব
-না, আমার আজই চাই
-মার দেব কিন্তু
-গাড়ি কিনে দাও তা না হলে ছেলেধরা ছেলেধরা বলে চিৎকার করবো।
ওর বাবা আর কথা না বাড়িয়ে খেলনা কিনে বাড়ি ফিরলো। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করলো আজকালকার ছেলেদের সঙ্গে আর কোন দিন পাঙ্গা নেবে না।

প্রচার সম্পাদক
এগারজন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।