কলেরা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর ২০১৯ | ২ কার্তিক ১৪২৬

দেশে দেশে সর্বনাশা মহামারি

কলেরা

বিবিধ ডেস্ক ১২:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩১, ২০১৯

print
কলেরা

কলেরা একটি সংক্রামক রোগ যা পাশ্চাত্যে এশীয় কলেরা নামেই বেশি পরিচিত। ভিব্রিও কলেরি নামক ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এই রোগ হয়ে থাকে যার প্রধান উপসর্গ মুহুর্মহু প্রচুর জলের মতো পাতলা পায়খানা, সঙ্গে পেটব্যথা, জলাভাবে শারীরিক দৌর্বল্য এবং চিকিৎসা না হলে শেষপর্যন্ত দেহে জলাভাবের ফলে মৃত্যু হয়ে থাকে। মানব শরীরে সংক্রমণের প্রধান বাহক পানীয়জল অথবা খাদ্য। রোগটির প্রাকৃতিক রিজার্ভার আছে কিনা জানা নেই। রিজার্ভার বা ধারক হলো কোনো প্রাণীর দঙ্গল বা প্রাকৃতিক কোনো স্থায়ী উৎস যা বীজাণুটিকে ধারণ করে রাখে (কিন্তু জীবিত ধারকের ক্ষেত্রে- নিজেরা রোগে মারা পড়ে না)। এরা রোগটিকে মানুষের মধ্যে সংক্রমণ হতে সাহায্য করতে পারে এবং রোগটি পৃথিবী থেকে দূর করার প্রধান অন্তরায় হয়ে পড়ে। অনেক দিন ধরে মনে করা হয়ে এসেছে এর ধারক মানুষ নিজেই, কিন্তু কিছু তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী এর ধারক হতে পারে জলীয় পরিবেশ।

ভিব্রিও কলেরি কলেরা টক্সিন নামের এন্টেরোটক্সিন তৈরি করে যার ক্রিয়ায় খাদ্যনালির দেওয়ালের আবরণী কলা থেকে বেশি পরিমাণ ক্লোরাইড ও জল চোয়াতে থাকে যা পাতলা জলের মতো পায়খানা গঠন করে। জোরালো সংক্রমণ ও টক্সিনের বিষক্রিয়া হলে কলেরার প্রাণঘাতী ক্রিয়ায় ১ ঘণ্টায় একজন সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষের রক্তচাপ অস্বাভাবিক কমে যেতে পারে ও ২-৩ ঘণ্টায় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণ মাঝারি মাপের সংক্রমণে ৪-১২ ঘণ্টায় শক (অর্থাৎ নিম্ন রক্তচাপ ইত্যাদি কারণে দেহের সব অংশে রক্ত সরবরাহের অভাব) এবং পরবর্তী দেড় দিন বা কয়েক দিনের মধ্যে মৃত্যু হতে পারে।

সাধারণত আক্রান্ত রোগীর মলের মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। সাধারত পয়ঃপ্রণালির সুষ্ঠু ব্যবস্থার অভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির মল, খাবার ও পানির সংস্পর্শে এসে খাবার ও পানিকে দূষিত করে। পরবর্তীতে ওই খাবার ও পানি গ্রহণের মাধ্যমে কলেরার জীবাণু সুস্থ মানুষের দেহে প্রবেশ করে আক্রান্ত করে। সাধারণত যে কোনো পরিবেশেই কলেরার জীবাণু দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে। এই কলেরা প্রথম প্রাদুর্ভাব বঙ্গদেশে হলেও পড়ে ভারতে, চীনে, ইন্দোনেশিয়া এবং কাস্পিয়ান সাগরে ছড়িয়ে পড়েছিল। শুধু ১৮২৬ সালে যখন এর প্রাদুর্ভাব বন্ধ হয়েছিল ততক্ষণে শুধু ভারতে ১,১৫,০০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল।