পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

আলো আঁধারীর এরশাদ

পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক

বিদিশা এরশাদ ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

print
পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক

এরশাদের সঙ্গে আমার পরিচয় বা সম্পর্ক ছিল মিরাকল, কোনো প্ল্যান করে আসেনি। আমার জন্ম হয়েছে একটা সাধারণ পরিবারে, শিক্ষকের ঘরে। তাই আর দশটা ছেলেমেয়ে যেভাবে বড় হয়েছে আমিও তেমনিই বড় হয়েছি। তবে বন্ধু-বান্ধবীরা বলত, ছোটবেলায় আমি নাকি একটু স্পেশাল ছিলাম। বড় হওয়ার পর দেখলাম, সেটাই প্রমাণ হয়েছে-হয়ে গেলাম এরশাদের স্ত্রী।

আমার বিয়েটা অঙ্ক কষে হয়নি। ওটা ছিল নিখাদ প্রেম, সঙ্গে মিরাকল তো ছিলই। না হয় বাবা সাতসমুদ্র তেরনদী পাড়ি দিয়ে লন্ডনে পাঠাল আমাকে, আর আমি ওখান থেকে সব ছেড়েছুড়ে চলে এলাম এরশাদের প্রেমে পাগল হয়ে! যাই হোক, আমি এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, এরশাদ সাহেব আমাকে প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছিলেন। উনার প্রেমের কাছে পৃথিবীর কেউ না করতে পারবে বলে মনে হয় না। উনিই বিয়ে করেছিলেন, উনাকে আমি জোর করে বিয়ে করিনি। নিশ্চয়ই আমার ভিতর তিনি ওই কোয়ালিটি পেয়েছিলেন।

বাধ্য করেছিল মানে, তার প্রেম এত স্ট্রং ছিল যে, আমার পক্ষে প্রত্যাখ্যান করা সম্ভব ছিল না। এটা আমি কেন, যে যে নারী তার প্রেমে পড়েছে, সবাই একই কথা বলবে। পরিবেশ, পরিস্থিতি, সমাজের কারণে এখন তারা হয়তো স্বীকার করবে না। কিন্তু আমি তো স্বীকৃত, বিবাহিত, তার সন্তানের মা। আমার তো লুকোচুরির কিছু নেই। তাই আমার বলতেও কোনো দ্বিধা নেই।

উনি আমাকে নিয়ে রংপুরে প্রচুর ঘুরেছেন। আমি দেখেছি উনার কী পপুলারিটি! ব্রেকাপ হওয়ার পর আমি উনার নাম থেকে বাবার নামে ফেরত যাই। চাইছিলাম, বিদিশা সিদ্দিক নামেই সবাই চিনুক। পাসপোর্টে নাম চেঞ্জ করলাম কিন্তু মানুষ চেঞ্জ হতে দেবে না। দেশের যেখানেই যাই, সবাই বলে-ওই যে এরশাদের বউ, তকমা গায়ের মধ্যে লাগানো থাকবেই। আমি বলতাম, উনার সঙ্গে আমি এখন আর নেই।

তারা বলে, আপা আপনারা ঠিক হয়ে যান। মানুষ ধরেই নিয়েছে, এই গিঁট খুলতে হবে। বিদিশার সঙ্গে এরশাদই যায়, আর কিছু যায় না। সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসেই এমনটা করেছে, আমাকে না। আমার কষ্ট লাগে, মায়া লাগে কিন্তু আমি তো অন্যদের মতো তাকে নিয়ে ঠাট্টা করতে পারি না। তিনি যে আমার সন্তানের পিতা!

তাছাড়া আমার প্রতি তার যে প্রেম-ভালোবাসা ছিল, ডিভোর্সের পরও সেটা কখনই দুর্বল হয়নি। তিনি নোংরা রাজনীতির শিকার হয়েছিলেন, ব্যবহার করা হয়েছিল, ট্র্যাপ্টড হয়েছিলেন। খারাপ রাজনীতির মধ্যে পড়ে গিয়েছিলেন। উনি ইচ্ছে করে সবকিছু করেছেন, আমি মনে করি না। আমি মনে করি, এরশাদের প্রচুর ভালো দিক আছে, যদিও জীবতাবস্থায় ভুল স্বীকার করেননি। তবুও মুখের ভাষা বা কথায় কি সব হয়? প্রেম কি কাগজে সিগনেচার দিয়ে বাতিল করে দেওয়া যায়? সব ডিভোর্স কি কাগজ দিয়ে হয়ে যায়? হয় না।

সবারই ভুল আছে, এরশাদেরও নিশ্চয়ই প্রচুর ভুল আছে। তবে তিনি আসলে অনেক লার্নেড ছিলেন। নয় বছর রাষ্ট্রনায়ক ছিলেন এবং আমি মনে করি সফল রাষ্ট্রনায়ক। উত্তরবঙ্গের মানুষ তো উনার নামেই পাগল। এটা কি এমনিতেই? উনার সময় তো মানুষ ভালো ছিল, দুর্নীতি ছিল না।

তার প্রেম নিয়ে এখন অনেক কথা হয়। আমি বলি, এরশাদ শুধু প্রেম বিলিয়ে গেলেন, প্রতিদান পাননি। গার্লফ্রেন্ডদের স্টাবলিসড করে দিয়েছেন। সব গার্লফ্রেন্ডের দুই-তিনটা করে ফ্ল্যাট আছে গুলশানে। বাড়ি, গাড়ি দিয়ে গেছেন। কোথায় সেই গার্লফ্রেন্ডরা? মৃত্যুর কিছুদিন আগে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। তখন তিনি অসুস্থ। আমি দেখতে গিয়েছিলাম, সিএমএইচ-এ। আমাকে দেখে বসতে বললেন। কাঁদলেন, আমিও কাঁদলাম। অনেক হিসাব নিকাশ করে গিয়েছিলাম-এই বলব, ওই বলব। কিচ্ছু করতে পারিনি। হাত ধরে বসেছিলাম শুধু!