বাইশ গজের রাজার খেলা

ঢাকা, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯ | ২ শ্রাবণ ১৪২৬

বাইশ গজের রাজার খেলা

রাশেদ রহমান ১২:৩৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯

print
বাইশ গজের রাজার খেলা

ক্রিকেটকে বলা হয় রাজার খেলা। শৌখিন রাজ-রাজড়াদের সময় কাটানোর জন্য যে খেলার আবির্ভাব আজ তা ছড়িয়ে গেছে বিশ্বব্যাপী। আভিজাত্যের খোলস খুলে ব্যাট-বলে উঠে গেছে এমনকি শ্রমিকের হাতেও। কীভাবে শুরু হয়েছিল এই মহারণ, ইতিহাস ঘেঁটে তা জানা যাক-

ক্রিকেট শুরু হয়েছিল ষোড়শ শতকের শেষদিকে। মূলত দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে শুরু হলেও অষ্টাদশ শতাব্দীতে এটি ইংল্যান্ডের জাতীয় খেলারূপে গণ্য হয় এবং ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে এটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৪৪ সাল থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ম্যাচ খেলা হলেও ইতিহাস স্বীকৃত টেস্ট ক্রিকেট ম্যাচ খেলা শুরু হয় ১৮৭৭ সালে। দর্শক সংখ্যার দিক দিয়ে ক্রিকেট, বিশ্বের দ্বিতীয় জনপ্রিয় খেলা, ফুটবলের ঠিক পরেই। ক্রিকেট খেলার উৎস অজানা।

বিশেষজ্ঞরা একমত হয়েছেন, সম্ভবত স্যাক্সন অথবা নরম্যানদের সময়ে উইল্ড-এ বসবাসকারী শিশুরা এই খেলা চালু করেছিল। উইল্ড দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডের কেন্ট এবং সাসেক্সের মধ্যবর্তী একটি ঘন অরণ্য ও তার মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গা। ক্রিকেট খেলার সর্বপ্রথম স্পষ্ট উল্লিখিত তারিখ সোমবার, ১৭ জানুয়ারি, ১৫৯৭ খ্রিস্টাব্দ। সম্ভবত ক্রিকেট খেলার উদ্ভব হয়েছিল বোলস খেলা থেকে। যেহেতু বোলস পুরনো খেলা, তাই মনে করা হয় বলটিকে তার লক্ষ্যের আগে ব্যাটসম্যান ব্যাট দিয়ে থামিয়ে সেটিকে আঘাত করে দূরে পাঠানো থেকেই ক্রিকেট খেলার উৎপত্তি। খেলা শুরু হয় মেষ-চারিত কোনো মাঠ বা ফাঁকা জায়গায়, মূল সরঞ্জামের মধ্যে বল হিসাবে ব্যবহার করা হয় ভেড়ার দলা পাকানো পশম (বা এমনকি একটি পাথর অথবা একটি ছোটো কাঠের ডেলা); ব্যাট হিসেবে ব্যবহার করা হয় একট লাঠি বা একটি বাঁকা দ- বা খামারবাড়ির কোনো যন্ত্র; উইকেট হিসেবে একটি বসার টুল বা গাছের গোড়ার শিকড় অথবা কোনো দরজা।

১৫৯৭ সালে ইংল্যান্ডের গিল্ডফোর্ড, সারে অঞ্চলে চলা জমির মালিকানার বিতর্ক সম্বন্ধীয় একটি আইনি মামলায় ক্রেকেট শব্দটির উল্লেখ পাওয়া যায়। ঊনষাট বছর বয়সী জন ডেরিক নামক একজন শব-পরীক্ষক আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন, তখন থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যখন তিনি ফ্রি স্কুলে পড়তেন, তখন তিনি এবং তার বন্ধুরা ওই জায়গায় ক্রেকেট খেলেছিলেন। ডেরিকের বর্ণনা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, ১৫৫০ সাল নাগাদ সারেতে এই খেলা হয়েছিল এবং এটাই সর্বপ্রথম সর্বজনীনভাবে গৃহীত উল্লেখ।

প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে ক্রিকেট খেলার প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় ১৬১১ সালে, যখন সাসেক্সে দুজন লোকের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশ করা হয় রবিবার গির্জায় না গিয়ে ক্রিকেট খেলার জন্য। ওই একই বছর একটি অভিধান ক্রিকেটকে সংজ্ঞায়িত করে বালকদের খেলা হিসাবে এবং সম্প্রতি খেলাটি যে প্রাপ্তবয়স্করাও খেলছে তা উত্থাপন করে।

১৬৪৮ সালে গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নতুন পিউরিটান সরকার ‘বেআইনি সমাবেশগুলো’ কঠোর হাতে দমন করেছিল, বিশেষ করে যেসব খেলায় প্রচুর কর্কশ আওয়াজ হয় যেমন ফুটবল। তখন ক্রিকেট খেলায় বিশেষ একটা প্রভাব ফেলে। তবে তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। যাই হোক, এই খেলা কিছু বৈতনিক বিদ্যালয় যেমন উইনচেস্টার এবং সেন্ট পলস-এ জাঁকজমকভাবে বেড়ে উঠেছিল। অলিভার ক্রনওয়েলের শাসনকালে ক্রিকেটকে যে নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়েছিল এরও কোনো অকাট্য প্রমাণ নেই। বিভিন্ন বাধা, সমর্থন, সহযোগিতার ভিতর দিয়ে ধীরে ধীরে ক্রিকেট মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে।

অষ্টাদশ শতকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় প্রথম ক্রিকেট খেলার প্রচলন করে। ১৯৩৪ সালে ব্রিটিশ ভারতে বিসিসিআই রঞ্জি ট্রফি প্রতিযোগিতার প্রচলন ঘটায়। ১৯৩৮-৩৯ মৌসুমে বাংলা শিরোপা লাভ করে।