বড় বাপের পোলায় খায়

ঢাকা, বুধবার, ২১ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

দেশে দেশে রোজার বৈচিত্র্য

বড় বাপের পোলায় খায়

বিবিধ ডেস্ক ৩:৫৪ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

print
বড় বাপের পোলায় খায়

আমাদের ইফতার সংস্কৃতি সবারই জানা। বাংলাদেশের মানুষের কাছে নিজের পরিবার-পরিজনদের নিয়ে ইফতার করাটা অনেক দিনের রীতি। ইফতারের তালিকায় থাকে খেজুর, শরবত, ছোলা, মুড়ি, পিঁয়াজু, বেগুনি, চপ, জিলাপি, কাবাব, হালিম ইত্যাদি। তবে ইফতার বাজার হিসেবে পুরান ঢাকার চকবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের।

নাজির হোসেনের ‘কিংবদন্তির ঢাকা’ বইয়ে উল্লেখ আছে, ‘১৮৫৭ সালের আগেই চকবাজার জমজমাট হয়। সে সময়েই চকবাজারে গড়ে ওঠে নানা রকম মুখরোচক খাবারের দোকান। রোজার সময় মোগলাই খাবার এবং রকমারি ইফতার বিক্রি করা হতো এখানে।’ আর ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ঢাকাই ইফতারে সেই বহু বছরের পুরনো সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর ইতিহাসের সাক্ষী। যাকে বলে পুরান ঢাকাই শাহী স্পেশাল।

তাই তো ইফতারের আগে পুরান ঢাকার বিক্রেতার কণ্ঠে কণ্ঠে ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়’ ধ্বনি ইফতারের সময়কে আরও মোহনীয়, আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। রকমারি ইফতার বাজারের একটি জনপ্রিয় আইটেম ‘বড় বাপের পোলায় খায়’। ঐতিহ্যবাহী এই পদটি প্রায় ৭৫ বছরের পুরনো বলে জানা যায়।

এটি তৈরিতে ডিম, গরুর মগজ, আলু, ঘি, কাঁচা ও শুকনো মরিচ, গরুর কলিজা, মুরগির মাংসের কুঁচি, মুরগির গিলা কলিজা, সুতি কাবাব, মাংসের কিমা, চিঁড়া, ডাবলি, বুটের ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ ১৫ পদের খাবার আইটেম ও ১৬ ধরনের মসলা প্রয়োজন। আর মোট ৩১টি পদের যে মিশ্রণ তৈরি হয়, তার নামই ‘বড় বাপের পোলায় খায়’।

একটি বড় গামলায় এই ৩১ ধরনের পদ দুই হাতে ভালোভাবে মাখিয়ে তারপর ঠোঙায় করে বিক্রি করা হয়। এটি কিনতে ছোট-বড় সব বয়সী রোজাদারের মধ্যে রীতিমতো কাড়াকাড়ি লেগে যায়। কেবল এই আইটেমটির জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা ছুটে যান চকবাজারে। এখনো পুরান ঢাকার এমন অনেক পরিবার আছে, যাদের এটি ছাড়া ইফতার জমে না, পূর্ণতা পায় না।

নতুন ঢাকার বাসিন্দারাও দিন দিন এ খাবারটির প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। চকবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ‘বড় বাপের পোলায় খায়’ ৪০০-৪৫০ টাকা। এ ছাড়াও পুরান ঢাকা ইফতার ঐতিহ্যের মেন্যুতে আছে টানা পরোটা, শাহী হালিম, শাহী জিলাপি, লাচ্ছি, ঘুগনি, ছোলাসহ মুখরোচক সব খাবারের পসরা তো আছেই।

পুরো ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ এখানে ভিড় জমায় ইফতার কেনার জন্য। রমজান শুরুর কয়েক দিন আগে থেকেই বিভিন্ন শপিং সেন্টার আর খাবারের দোকানগুলোতে চলে সাজ সাজ রব।