‘আমরা লজ্জিত, দুঃখিত’

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

রক্তে রঞ্জিত লঙ্কা শ্রী

‘আমরা লজ্জিত, দুঃখিত’

বিবিধ ডেস্ক ১:৫৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৪, ২০১৯

print
‘আমরা লজ্জিত, দুঃখিত’

শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ মুসলিম। হামলার সঙ্গে জড়িত ন্যাশনাল তৌহিদ জামাত (এনটিজে) নামে একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠীর নাম আসার পর শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। নিজেদের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পডেছেন অনেকেই।

ব্যবসার সূত্রে কলম্বোতে বসবাসকারী বাংলাদেশের নাগরিক খালেকুজ্জামান সোহেল বলেন, ‘শ্রীলঙ্কান মুসলমানরা যতটা না আতঙ্কগ্রস্ত তার চেয়ে বেশি লজ্জিত এবং দুঃখিত। তারা যেন বিশ্বাসই করতে পারছেন না, তাদের সম্প্রদায়ের কেউ দেশের ভেতর এ ধরনের হামলা করতে পারে।’

কলম্বোতে মুসলিম সংগঠন ন্যাশনাল শূরা কাউন্সিলের কর্মকর্তা আজমান আবদুল্লাহ বলেন, আতঙ্কের চেয়ে মুসলিমরা ‘ক্ষুব্ধ, ব্যথিত’। ‘আতঙ্ক যে একবারেই নেই তা বলব না, নানা ধরনের গুজব শোনা যাচ্ছে। তবে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের খ্রিস্টান ভাইয়েরা বুঝতে পারছেন, শ্রীলঙ্কার মুসলিমরা কোনোভাবেই তাদের ক্ষতি চায় না।’

তিনি আরও জানান, হামলার তীব্র নিন্দা করে মসজিদে মসজিদে ব্যানার ঝোলানো হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শত শত শ্রীলঙ্কান মুসলিম সমবেদনা জানিয়েছেন খ্রিস্টানদের প্রতি। তারা বলছেন, এই সন্ত্রাসের সঙ্গে ইসলামের শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।

একজন লিখেছেন, ‘আমার জন্ম মুসলিম পরিবারে, কিন্তু আমি পড়াশোনা করেছি খ্রিস্টান মিশনারি স্কুলে। ফলে ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তি আমার হৃদয়ের খুব কাছের।’
আরেকজন লিখেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় দুটো গোষ্ঠী একটি শ্রীলঙ্কান এবং আরেকটি সন্ত্রাসী।’

শ্রীলঙ্কান ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ব্রিটেনে শ্রীলঙ্কান মুসলিমদের সব সংগঠন সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে ইতোমধ্যে একটি জরুরি বৈঠকে বসছে। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য মুসলিমদের আশ্বস্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেশটির টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হারিন ফার্নান্দো বলেছেন, ‘হামলাকারীরা দেশের সিংহ ভাগ মুসলিমের প্রতিনিধিত্ব করে না। আমি তাদের মুসলিমই বলব না। এদেশের সাধারণ মুসলিমরা অত্যন্ত সজ্জন এবং অন্য সব সম্প্রদায়ের সঙ্গে তারা সম্প্রীতির সম্পর্ক বজায় রেখে বসবাস করেন।’