গেটিসবার্গ ভাষণ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

গেটিসবার্গ ভাষণ

বিবিধ ডেস্ক ১২:০৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১১, ২০১৯

print
গেটিসবার্গ ভাষণ

১৮৬৩ সাল। যুক্তরাষ্ট্রে চলছে তুমুল গৃহযুদ্ধ। ১-৩ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার গেটিসবার্গে রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষ নিহত হয়। তাদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধে যুদ্ধের প্রায় চার মাস পর ১৯ নভেম্বর ১৮৬৩ সালে আব্রাহাম লিংকন এক সংক্ষিপ্ত ও দুনিয়া কাঁপানো ভাষণ দেন। মাত্র দুই মিনিটে ২৭২ শব্দের এই বিখ্যাত ভাষণটির অনুবাদ।

সাতাশি বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষরা এই উপমহাদেশে নতুন একটি জাতি সৃষ্টি করেছিলেন, মুক্তির মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে এবং এই প্রতিজ্ঞায় উৎসর্গ হয়ে যে ‘সব মানুষ সমান’।

বর্তমানে আমরা এক বিরাট গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছি যে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পরীক্ষা করছি, এই নীতিতে দীক্ষিত ও উৎসর্গীকৃত ওই জাতি বা অন্য যে কোনো জাতি দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে কি না। সেই যুদ্ধেরই এক মহান দিনে আমরা মিলিত হয়েছি। এই জাতি যাতে বেঁচে থাকতে পারে সেই জন্য যারা এখানে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন, তাদেরই এক অন্তিম আশ্রয়স্থলের একাংশকে উৎসর্গের উদ্দেশ্যে আমরা এখানে মিলিত হয়েছি। এই কার্যসম্পাদন করা আমাদের পক্ষে সর্বতোভাবে যথাযথ ও উপযুক্ত।

কিন্তু বৃহত্তম পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করলে প্রকৃতপক্ষে আমরা এই ভূমি উৎসর্গ করতে পারি না, পবিত্র করতে পারি না, মহিমময় করতে পারি না। যে জীবিত ও মৃত ব্যক্তিরা এখানে সংগ্রাম করেছেন, তারাই এই ভূমিকে পবিত্র করেছেন সেই পবিত্রতার হ্রাস বৃদ্ধি করা আমাদের ক্ষমতাতীত।

আমরা এখানে যা বলি, পৃথিবী সেদিকে দৃষ্টি দেবে অতি অল্প; অথবা তা বেশিদিন স্মরণ রাখবে না। কিন্তু তাদের (বীর সন্তানদের) এখানকার কার্যকলাপ কখনো বিস্মৃত হবে না। বরং তাদের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার জন্য আমরা যারা বেঁচে আছি, আমাদের উৎসর্গীকৃত হওয়া উচিত। এই সম্মানিত মৃত ব্যক্তিরা, যারা তাদের নিষ্ঠার জন্য চরম মূল্য দিয়ে গিয়েছেন, তাদের (দৃষ্টান্ত) দেখে আমাদের নিষ্ঠা আরও বৃদ্ধি করা উচিত। এখানে আজ আমরা এমন দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করব, যেন তাদের জীবনদান ব্যর্থ না হয়; যেন এই জাতি বিধাতার কৃপায় স্বাধীনতার নবজন্ম লাভ করে; এবং জনগণের সরকার, জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার ও জনগণের জন্য গঠিত সরকার যেন কখনো পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত না হয়।

[সূত্র : ছোটদের আব্রাহাম লিংকন/আবুল হাসানাত]