তরুণদের হতাশাগ্রস্ততা কাম্য নয়

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

তরুণদের হতাশাগ্রস্ততা কাম্য নয়

মোহাম্মদ অংকন ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

print
তরুণদের হতাশাগ্রস্ততা কাম্য নয়

আমার এক তরুণ বন্ধু গ্রাম হতে চাকরির সন্ধানে ঢাকায় এসেছে। চাকরির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছে, সাক্ষাৎকার দিচ্ছে; কিন্তু বেলা শেষে নিরাশ হয়ে বাসায় ফিরছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বলছে- ‘চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা লাগবে।’ আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান বলছে- ‘কম্পিউটার চালানোয় দক্ষ হতে হবে।’ কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া অন্য কোনো অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা নেই বলে সে হতাশায় নিমগ্ন।

বাড়িতে জানাতে পারছে না, কেন তার চাকরি হচ্ছে না। এমতাবস্থায় আমি তাকে চাকরি দিয়ে সহযোগিতা করতে না পারলেও অন্তত হতাশাগ্রস্ত না হতে অনুরোধ করেছি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার পথ সুগম করে দিয়েছি। আর সেই সঙ্গে নিরন্তর প্রচেষ্টার জন্য পরামর্শ দিয়ে চলেছি। নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে তারুণ্য শক্তিকে জাগ্রত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, হতাশাগ্রস্ততা সকল সুযোগকে নুয়ে ফেলবে।
আজকাল অধিকাংশ তরুণ-ই হতাশাগ্রস্ত। পারিপার্শ্বিক পরিবেশই তাদেরকে হতাশ করছে বলে আমি মনে করি। একজন মেধাবী তরুণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পেয়ে হতাশ হচ্ছে। সে ভাবছে, ‘হয়তো সেখানে কোনো অনিয়ম হচ্ছে। অতএব আমার দ্বারা সম্ভব নয়।’ আর তার পরই সে পিছিয়ে পড়ছে। উচ্চ শিক্ষার হাল ছেড়ে দিচ্ছে। কিন্তু না, এই সামান্য বৈরি পরিবেশে হাল ছেড়ে দিলে যেন তারুণ্যকে অবমাননা করা হবে। উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের অনেক পথ খোলা আছে। হতাশ না হয়ে সে পথে পা বাড়ালে সফলতা আসতে কতক্ষণ? দেশের শিক্ষিত তরুণরা মনে করে, ‘আমরা তো পর্যাপ্ত শিক্ষাগ্রহণ করেছি, তাহলে সরকার কেন আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেয় না?’ এটা পুরোপুরি ভুল ধারণা। দেশে জনসংখ্যার তুলনায় কর্মসংস্থান সংকুলান নয়। তাই সকলকে চাকরি দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় তরুণদেরকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। তাদের গৃহীত উদ্যোগ বদলাতে পারে সমাজ ও দেশকে। উদ্যমী করতে পারে হাজার হাজার তরুণকে।


দক্ষিণখান, ঢাকা।