বাল্যবিয়ে রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫

বাল্যবিয়ে রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

মকবুল হামিদ ৯:৩১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৯, ২০১৮

print
বাল্যবিয়ে রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিন

বাল্যবিয়ে হচ্ছে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়েদের বিয়ে দেওয়া। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকারের আইনানুযায়ী, ছেলেদের ২১ বছর এবং মেয়েদের ১৮ বছরের নিচে বিয়ে দেওয়াকে বাল্যবিয়ে বলে। বিশেষত মেয়েরাই বাল্যবিয়ের শিকার বেশি হয়।

বাল্যবিয়ের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- প্রধানত দরিদ্রতা, যৌতুক, সামাজিক প্রথা, বাল্যবিয়ে সমর্থনকারী আইন, ধর্মীয় ও সামাজিক চাপ, অঞ্চলভিত্তিক রীতি, অবিবাহিত থাকার শঙ্কা, নিরক্ষরতা এবং মেয়েদের উপার্জনে অক্ষম ভাবা। ইউএনএফপিএর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০০-২০১১ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর ২০-২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (প্রায় ৩৪%) ১৮তম জন্ম দিনের আগেই বিয়ে হয়ে যায়। ২০১০ সালে এর আনুমানিক সংখ্যা প্রায় ৬৭ মিলিয়ন। প্রায় ১২% নারী ১৫ বছর বয়সের আগে বিবাহিত। বাল্যবিয়ের প্রবণতা স্থানভেদে ভিন্ন হয়। বিশ্বব্যাপী, শহরাঞ্চলের মেয়েদের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের মেয়েদের বাল্যবিয়ের প্রবণতা প্রায় দ্বিগুণ। বাল্যবিয়ে একটি সামাজিক প্রথা। এটা মারাত্মক একটা অভিশাপ। এই মারাত্মক অভিশাপ থেকে আমাদের তথা নতুন প্রজন্মদের বাঁচাতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন- অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেমেয়ের বিবাহ দেওয়া বন্ধ করতে হবে, অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে, শহর কিংবা প্রতিটি গ্রামে বাল্যবিয়ে রোধ কমিটি গঠন করে পদক্ষেপ নিতে হবে, সমাজ থেকে নিরক্ষরতা এবং দরিদ্রতা দূর করতে হবে, প্রাইমারি থেকে শুরু করে ভার্সিটি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বাল্যবিয়ে সম্পর্কে বুঝাতে হবে।
বাল্যবিয়ের ফলে মেয়ের ওপর নানান ধরনের বিপর্যয় নেমে আসে। যেমন- মেয়েদের স্বাস্থ্যহানি ঘটে, অল্প বয়সে বাচ্চা প্রসব করলে মা ও শিশুর জীবনের মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি আইনের কার্যকারিতা বাস্তবায়ন করুন এবং প্রতিটি নাগরিকের উচিত বাল্যবিয়ে যাতে না হয় সেদিকে সুনির্দিষ্ট নজর দেওয়াসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে এ ব্যাপারে সহায়তা করা।


বাংলা বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ।

 
.