জলের টান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

জলের টান

হাসান মাহমুদ ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৭, ২০২০

print
জলের টান

শরতের মাঝে ডুবে থাকে আশ্বিন। হঠাৎ করে দেখা যায় নদ-নদীতে জল থইথই পানি নেই। জলপ্লাবনের রেশ নেই। ভাটার টানে কমে যায় পানি। প্রকৃতির মাঝে শুকনো একটা রেশ কাজ করে। আশ্বিনে দৃষ্টিজুড়ে পানিতে ভাসে লাল শাদা শাপলা। হৃদয়ের প্রতিবিম্বেও ভেসে ওঠে যেন আশ্বিনের জল ফুরিয়ে যাওয়া। মাঝে মাঝে হঠাৎ করেই মেঘ ভিড় করে আকাশে। ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি পড়ে আশ্বিনে হঠাৎ করেই। আশ্বিনের মুগ্ধতার রেশ ধরে পড়ন্ত বেলায় বেরুলে চোখে পড়ে শিউলি আর সাদা সাদা কাশফুল। সাদাটে আকাশ আর সাদা কাশফুল যেন প্রণয়ের মেলবন্ধন নিয়ে খেলা করে।

ভাদ্র আর আশ্বিনের মাঝেই শরতের লুকিয়ে থাকা। ভাদ্র শরতের পূর্ণতা আরম্ভ করে আর আশ্বিন এসে তাতে পূর্ণতা মেলে দেয়। পরিপূর্ণ করে তুলে আশ্বিন শরৎরানিকে। আশ্বিন অপূর্ণা শরৎকেও পূর্ণতার রূপ পরিয়ে দেয় সজ্জিত রূপে। ভাদ্রের সঙ্গে শরতের মেলবন্ধন হওয়ার আগেই আশ্বিনের আগমন বিচ্ছিন্ন করে দিতে তৎপর হয়ে ওঠে আর ভাদ্রের স্বপ্নকে নিজের করেই গড়ে তোলে আশ্বিন। তবে আশ্বিনের সে মধুপূর্ণতা বেশিক্ষণ থাকে না। ক্ষণিকের আগমন। ক্ষণিক পরেই আশ্বিনের প্রস্থান। আশ্বিনের প্রস্থান দ্রুত হলেও আশ্বিন শরতের সুরভিতে জড়িয়ে নেয় আপন মনে শিউলির শিশির ফোটা, সাদা সাদা মেঘ, শান্ত শীতল সরোবর, নদী, কাশফুল, আর ভাদ্রের তালপাকা উষ্ণতা সব মিলিয়ে শরতের অপরূপ শোভা আর প্রকৃতির রূপ-সৌন্দর্য মনে সত্যি অপার মুগ্ধতা আনে। গরমের তীব্রতা আশ্বিনে কমে আসে। মাঝে মাঝে প্রকৃতি আশ্বিনে বিপর্যস্তও হয়। ভাদ্র মাসে তাপমাত্রা বেড়ে যায়, সেই সঙ্গে আর্দ্রতাও বাড়ে। যার ফলে সহনীয় হয়ে যায় তাপমাত্রা। তীব্র গরমের ভাব আশ্বিনে অনেকটা কমে আসে। নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকে। মাটির সিক্ততাও কমে যায়। বর্ষার নিরন্তর বর্ষণের ধারা শরতে এসে আর তেমন দেখা যায় না। চারদিক ক্রমেই শুকাতে থাকে। একদিকে নদ-নদীর পানি কমতে থাকে, বৃষ্টির পরিমাণও কমতে থাকে। আকাশের সাদা সাদা মেঘ আর শরতের ডাক প্রকৃতিকে আনন্দের হিল্লোল বইয়ে দেয়। আশ্বিনের এই অপূর্ব রূপকে সবাই যার যার মতো করে উপভোগ করতে পারে। গোলাপ, বকুল, শিউলি, কামিনী, মল্লিকা, মাধবী ফুলের সৌরভে মুখরিত থাকে প্রকৃতি। বাতাসে শীতের স্পর্শ লাগে আশ্বিনের প্রভাতে।

আকবরপুর, মৌলভীবাজার