রোগীর পাশে থাকুন

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

পাঠকের চিঠি

রোগীর পাশে থাকুন

আল শাহরিয়ার ওছমান ৯:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

print
রোগীর পাশে থাকুন

আবদুর রহিম ধনাঢ্য একজন ব্যবসায়ী। এলাকায় খুব জনদরদি মানুষ হিসেবে পরিচিত, যখনই কোনো মানুষ অনাহারে জীবনযাপন করত ছুটে যেতেন তার কাছে। বাড়িয়ে দিতেন সাহায্যের হাত। এবার করোনার প্রাদুর্ভাবে জনজীবন বিপর্যস্ত হলে তিনি ৫০০ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। খোঁজ খবর নিয়েছেন কোনো সমস্যা হচ্ছে কিনা। কিছুদিন আগে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি।

মানুষ শুনে অবাক হয়েছে। পুরো এলাকায় উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়ে গেছে এতো ভালো মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন! প্রশাসন থেকে পুলিশ পাঠিয়ে আবদুর রহিমের বাড়ির আশপাশে কয়েক বাড়ি লকডাউনে রেখেছে। আবদুর রহিমের পরিবারে বিষণœতার ছায়া। পাশের এলাকায় দুইজন লোক ঢাকা থেকে এসেছিল করোনার উপসর্গ নিয়ে। সে আবদুর রহিমের এই অবস্থার কথা শুনে সবকিছু আড়াল করে রেখেছিল। জ্বর সর্দি কাশি নিয়ে হাটে বাজারে অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছে। পরিস্থিতি যখন তার অবনতির দিকে যায় তখন সে পরীক্ষা করে দেখে যে তার পজিটিভ। তখন প্রশাসন থেকে জানানো হয় সে অনেক দিন আগেই ঢাকা থেকে এসেছে করোনার উপসর্গ নিয়ে।

উপরোক্ত দুটি পরিস্থিতিই এখন আমাদের গ্রামে শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ঘটে যাচ্ছে। মানুষের নিজেদের কারণেই বিপদের মুখোমুখি হচ্ছে। লোকে কী বলবে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হবে সমাজ থেকে বের করে দেবে, পরিবার দূরে ঠেলে দেবে এসবের ভয়ে মানুষ প্রতিনিয়তই নিজের রোগকে আড়াল করে রাখছে। করোনাভাইরাসকে নয় মানুষ, শত্রু বানিয়েছে মানুষকে। কেন এসব কিছু? উত্তর আসলে জানা নেই!

মহামারি ভাইরাস এখন বিশ্বব্যাপী। প্রতিটা মানুষই এখন আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কায় আছে যদি সে নিয়মকানুন মেনে না চলে। তাই কাউকে দূরে ঠেলে নয়, নিয়ম মেনে সবাইকেই সচেতন হতে হবে পাশাপাশি সমাজ এবং পরিবারকে সচেতন করতে হবে। যদি কোনো আক্রান্ত ব্যক্তি প্রতিবেশী হয় তার সঙ্গে ব্যবহার খুব সুন্দর করে করতে হবে। যেমন নিয়মিত ফোনে বা এস এম এসের মাধ্যমে তার খবর নিতে হবে। সামর্থ্য থাকলে প্রতিদিন খাবারের প্যাকেট পাঠানো উচিত। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। রোগীর পরিস্থিতি খারাপ হলে ইমারজেন্সি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যাবস্থা করে দিতে হবে।

যে ব্যবহারগুলো কোনোভাবেই করা উচিত নয় আক্রান্ত ব্যক্তিকে বাঁকা চোখে দেখা যাবে না। কেউ আক্রান্ত ব্যক্তির সাহায্যে এগিয়ে এলে তাকে হেনস্থা করা যাবে না। বাড়ি বা পাড়া থেকে উৎখাত করা যাবে না। তাদের বিপদের সময় চোখ বুজে দরজা বন্ধ করে রাখা যাবে না।

আমরা একদিন সবকিছু জয় করব। মুক্ত পৃথিবীতে বুক ভরে নিশ্বাস নেব। তখন মানুষের মাঝে কোনো দূরত্ব থাকবে না, একে অপরকে বাঁকা চোখে দেখবে না। পরিবারের মাঝে থাকবে অটুট বন্ধন সমাজ থেকে দূর হয়ে যাবে সকল হীনম্মন্যতা। তাই আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে নতুন পৃথিবী গড়ার লক্ষ্যে।

আল শাহরিয়ার ওছমান, শিক্ষার্থী, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগ, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়