লবলঙ্গ নদীকে বাঁচাতে হবে

ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

লবলঙ্গ নদীকে বাঁচাতে হবে

প্রকৌশলী সাব্বির হোসেন ৮:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৯

print
লবলঙ্গ নদীকে বাঁচাতে হবে

ক্রমাগত শিল্পায়ন আর শিল্পকারখানার বর্জ্য ইটিপি থেকে পরিশোধিত না হয়ে নদীতে চলে আসায় নষ্ট হয়ে গেছে মাওনা থেকে কাওনা হয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত লবলঙ্গ নদীর পানি।

বিলুপ্ত হয়ে গেছে মাছ, ব্যাঙসহ বহু জলজ প্রাণী। শত শত একর জমির চাষাবাদে ব্যবহৃত হচ্ছে এই দূষিত পানি, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশের যথেষ্ট বিপর্যয় ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। শিল্পের আগ্রাসন, দখল, দূষণে বলা চলে ক্ষত-বিক্ষত লবলঙ্গ। বায়ু দূষণে নাক চেপে চলতে হয় মানুষের।

গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার একর কৃষিজমি ভরাট করে শিল্পকারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ খাদ্যঝুঁকির জন্য যথেষ্ট।
‘পরিকল্পিত শ্রীপুর গড়ে তুলুন’ শিরোনামে একাধিক লেখা জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ হলেও, প্রশাসন কিংবা রাজনীতিবিদদের পক্ষ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

একটি নদী হয়ে উঠতে পারে সভ্যতার বাহক, সমৃদ্ধ হতে পারে জনপদ। এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করে, লবলঙ্গের দুই পাড়ে হতে পারে নান্দনিক হাঁটার পথ। সেচ কাজে সারা বছরের যে পানির চাহিদা রয়েছে তা মেটাতে পারে নদীটি। তবে তার আগে তাকে দূষণমুক্ত করতে হবে। দুই পাড়ে রোপিত হতে পারে নানা ফলদ ও বনজ গাছ যা রক্ষা করবে পরিবেশের ভারসাম্য।

লবলঙ্গ পাড়ের মানুষ এখনো আশায় বুক বেঁধে আছে, নদী রক্ষার্থে প্রশাসন বিশেষ যত্ন নেবে, যৌবন ফিরে পাবে নদীটি। লবলঙ্গ নদীকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অন্যথায় বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে।


শ্রীপুর-গাজীপুর।