বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি

অলোক আচার্য ৯:০৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ০৬, ২০১৯

print
বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি

একটা সময় ছিল যখন বই পড়ার প্রতি ছেলেমেয়েদের মধ্যে তীব্র আগ্রহ লক্ষ করা গেছে। বই হাতে পেলেই তা পড়ে দেখার এক ধরনের কৌতূহল ছিল লক্ষণীয়। আজও বই পড়ার আলাদা একটা পাঠক শ্রেণি রয়েছে। তবে তা তুলনামূলকভাবে অনেক কম। আগে এই প্রবণতা এখনকার চেয়ে অনেকটাই বেশি ছিল বলে ধারণা। দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আজকালকার ছেলেমেয়েদের মধ্যে থেকে বই পড়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে।

পাস করা, ভালো ফলাফল করা এসবই যেন আজ মুখ্য উদ্দেশ্য! অবশ্য সচেতন অভিভাবক মাত্রই সন্তানের ভালো ফলাফল আশা করে। আমিও করি। কিন্তু ভালো ফলাফল করতে গিয়ে যদি পাঠ্যবইয়ের বদলে গাইড বা প্রাইভেট বা লেকচার শিটের প্রতি আগ্রহ বেড়ে যায় তবে সেটা একদম ভালো কথা নয়। তারপর আবার পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, কবিতা এসবের ভেতরে যে জ্ঞানের এক অফুরন্ত ভাণ্ডার আছে তার খোঁজ এরা করছে না। ফলে জ্ঞান হয়ে পড়ছে সীমাবদ্ধ। সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে মুক্ত আকাশের সন্ধান মেলে কি? শুধু পাস করা বা ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে (প্রাইভেট বা কোচিংয়ে বেশি সময়) ভালো ফলাফল করা যায় বৈকি তবে প্রকৃত মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় না। 

বইয়ের বদলে ক্লাসের বাইরে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীই টিভি সিরিয়াল দেখে, মোবাইল বা ট্যাবে গেমস খেলে বা অপ্রয়োজনীয় ওয়েবসাইটে ঢুকে সময় কাটাচ্ছে। আমাদের মোবাইলের দরকার আছে কিন্তু মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ুয়া একজনের দিনের কয়েক ঘণ্টা মোবাইলের সঙ্গে কাটানো কতটা প্রয়োজন আছে তা বোধগম্য নয়।
ক্লাসের ছাত্রছাত্রীরা লাইব্রেরির বই পড়তে আগ্রহী না। হাতেগোনা কয়েকজন সিলেবাসের বাইরে এসব বই পড়তে আগ্রহী। যদিও বই পড়ানোর অভ্যাস গড়ে তোলাটা সহজ নয়। তারপরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে একবার বইয়ের ক্ষুধাটা জাগিয়ে দিতে পারলে আর পেছন ফিরে তাকাতে হবে না।

অলোক আচার্য
পাবনা।