শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে যেন জটিলতা না হয়

ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারি ২০১৯ | ৫ মাঘ ১৪২৫

শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে যেন জটিলতা না হয়

মো. আজিনুর রহমান লিমন ৯:৩৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১১, ২০১৯

print
শিক্ষক নিবন্ধনধারীদের নিয়োগে যেন জটিলতা না হয়

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। শিক্ষাই দেশ সমাজ ও জাতিকে উন্নত করে। কিন্তু মানুষ শিক্ষা অর্জন করে যদি দেশ ও সমাজের কাজে না আসতে পারে, তাহলে সে শিক্ষার মূল্য কী। তবে সাধারণত বাংলাদেশের শিক্ষিত সমাজ দেশকে কিছু দেওয়ার জন্য চেষ্টার কোনো প্রকার ত্রুটি রাখে না।

কিন্তু সরকারি মাধ্যমগুলোই এ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়। চাকরির জন্য হাজার চেষ্টা করেও বারবার ব্যর্থ হয়ে পরিশেষে তাদের অন্তরে শিক্ষার প্রতি অনাস্থা তৈরি হয়। তেমনি একটি সরকারি মাধ্যম হলো ‘নন-গভর্নমেন্ট টিচার্স’ রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ)। শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম মাধ্যম এটি। শিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগদান করতে হলে নিবন্ধন পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে সনদ অর্জন করা বাধ্যতামূলক। এরই মধ্যে ১৪টি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী কৃতকার্যতার সনদ পেয়েও বেকারত্বের জীবনযাপন করছে। বিভিন্ন অজুহাতে দীর্ঘদিন নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে সমালোচনার পাত্র হয়েছে এনটিআরসিএ। এ ছাড়া নকল সনদ প্রদান করেও অনেক সমালোচনায় ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
অনেক জল্পনা-কল্পনা শেষে নিয়োগ প্রক্রিয়ার একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে এনটিআরসিএ। এ বিজ্ঞপ্তিতেও জটিলতার শেষ নেই। মেরিট লিস্ট অনুযায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়ার কথা হাইকোর্ট থেকে বলা হলেও গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়েছে অন্যভাবে। সনদ অনুযায়ী যে যত প্রতিষ্ঠানে ইচ্ছা আবেদন করতে পারবে। এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে এনটিআরসিএ যেন জুয়াখেলাকেও হার মানিয়েছে। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মহাকৌশলের ফাঁদে পড়েছে অসহায় নিবন্ধিতরা। বাধ্য হয়েই এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জুয়া খেলতে নেমেছে দেশের নিবন্ধিত এ শিক্ষিত সমাজ। তবে সব কথার শেষকথা, সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় যেন নিবন্ধিত শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পায়। জটিলতার কোনো ছোঁয়া যেন না লাগে এবারের নিয়োগে। তাহলেই এনটিআরসিএ নামক প্রতিষ্ঠানটির সুনাম বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষকদের ভরসার প্রতীক এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখতে অব্যাহত রাখতে হবে এর সুষ্ঠু কার্যক্রম।

মো. আজিনুর রহমান লিমন
ডিমলা, নীলফামারী।