স্কুল উন্নয়নে দুর্নীতি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬

স্কুল উন্নয়নে দুর্নীতি

ইসলামপুর ও তাড়াশ প্রতিনিধি ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

print
স্কুল উন্নয়নে দুর্নীতি

জামালপুরের ইসলামপুরে ভুয়া ভাউচারে দায়সারা কাজ করে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন মেরামত, স্লিপ, রুটিন মেইনটেইন ও ওয়াশ ব্লকের আড়াই কোটি টাকার উন্নয়ন কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানের ঘুষ বাণিজ্যকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকদের বিরুদ্ধে চলতি বছরের বরাদ্দকৃত স্লিপ ফান্ড, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও প্রকল্পে নামমাত্র কাজ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এজন্য বেশিরভাগ প্রধান শিক্ষকরা দুষছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোর পরিচালনা কমিটির সভাপতিদের। তাদের অভিযোগ বরাদ্দকৃত অর্থগুলো তারাই মূলত ব্যয় করেন। আর শিক্ষকরা নামেমাত্র স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগ উঠেছে, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় বিদ্যালয় মেরামত, স্লিপ, রুটিন মেইনটেইন ও ওয়াশ ব্লকের জন্য আড়াই কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ হয়। এসব বরাদ্দের টাকা জুন মাসের আগে প্রধান শিক্ষকরা উত্তোলন করে সঠিকভাবে কাজ করার কথা থাকলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বহীনতা, অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের কারণে এখনও ওইসব বরাদ্দের সিংহভাগ টাকা বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেনি।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইসলামপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমার একার নয়; মেরামত কাজের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কমিটি পরিদর্শন ও ইঞ্জিনিয়ার কাজের স্টিমেট তৈরি করেছেন।

ইসলামপুর বুলবুল সরকারি প্রাথমিক সরকারি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ের নামে মেরামতের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার, স্লিপ ৭০ হাজার ও প্রাক প্রাথমিকের জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ হলেও টাকা এখনও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার একাউন্টেই রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সহিদাতুন্নেছা। এছড়াও ইসলামপুর পূর্ব বামনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের টেবিল ও বেঞ্চ বন্যার সময় পলিমাটি পড়ে ডুবে থাকলেও এখনও কক্ষ থেকে মাটিগুলি সড়িয়ে ফেলা হয়নি। ফলে ছাত্র ছাত্রীদের পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিদ্যালয়টিতে ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরের উন্নয়নমূলক কাজসহ মেরামতের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার, স্লিপের ৫০ হাজার ও প্রাক-প্রাথমিকের জন্য আরও ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বরাদ্দের টাকা ভুয়া ভাউচার দিয়ে সিংহভাগ টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক এনামুল হক অভিযোগের বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যান।

এছাড়াও রৌহারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, এস. এম. এ. আর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্থ বরাদ্দ হলেও কোনো কাজ করা হয়নি।

এস. এম. এ. আর মেমোরিয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামান জানান, মেরামত কাজের ব্যাপারে তিনি বিদ্যালয় কমিটি নিয়ে কোনো মিটিং বা রেজুলেশনও করেননি। কাজের ব্যাপারে প্রধান শিক্ষিকাকে কমিটির সভা আহ্বান করতে বললেও তিনি সভা না করে নিজের ইচ্ছামত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম করছেন।

তবে প্রধান শিক্ষিকা শিরিনা পারভীন বলেন, আমি কারও স্বাক্ষর জালিয়াতি করিনি। গত ২ সেপ্টম্বর বিদ্যালয়ের সভাপতি মোরশেদুজ্জামান নবাব এক ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বলেন প্রাথমিক বিদ্যালয় মেরামত প্রকল্প কাজের জন্য টাকা আনতে অনেক খরচ হয়েছে। তাই তারা আমার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

এদিকে, সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ১৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩০-৩২টি ব্যাতীত বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠানে স্লিপ ফান্ড, প্রাক ও ক্ষুদ্র মেরামত প্রকল্পের নামমাত্র কাজ ও আসবাবপত্র, অনন্য সামগ্রী ক্রয় করে মনগড়াভাবে ভাউচার তৈরি করে শিক্ষা অফিসের যোগসাজসে অর্থ আত্মসাৎ করছেন। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বায়োমেট্রিক মেশিন কেনার জন্য ১২ হাজার টাকা ধরা থাকলেও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান ২২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা কেটে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। সে টাকাগুলো আবার উত্তোলন করে আগাম ভাউচার দেওয়া হয়েছে। তবে এখন মেশিন ক্রয় স্থগিত থাকায় এ টাকা রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর আওতায়।

তাছাড়া স্লিপ ফান্ডের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৫০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকা ও প্রাক-প্রাথমিক বরাদ্দ ১০ হাজার টাকা করে পেয়েছে। এছাড়া ১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজের জন্য এক লাখ ৫০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ পায়। এসব বরাদ্দের বেশির ভাগ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতারুজ্জামান বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে কাজগুলো ভালোভাবে হয়েছে। বায়োমেট্রিক মেশিন ক্রয় করার জন্য টাকা রাখতে বলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই ক্রয় করা হবে।