বন্যার কবলে দেশ

ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

বন্যার কবলে দেশ

খোলা কাগজ ডেস্ক ৬:৪৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০১৯

print
বন্যার কবলে দেশ

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষ। তলিয়ে গেছে ইরি-বোরো ধানক্ষেত। তবে বন্যাদুর্গতরা এখন পর্যন্ত ত্রাণ সহায়তা পাননি। বিস্তারিত জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে-

প্লাবিত ধোবাউড়া
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের মধ্যে দক্ষিণ মাইজপাড়া, গামারীতলা, পোড়াকান্দুলিয়া, ঘোষগাঁও, গোয়াতলা এবং ধোবাউড়া সদর ইউনিয়ন বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের কিছু অংশেও বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় তিন শতাধিক পরিবার।

সরেজমিন বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের বহরভিটা, কালিনগর, উদয়পুর, রাউতি, মানিকপুর আঠাম, পাতামসহ বেশকিছু গ্রামে শতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নে সোহাগীপাড়া, খাগগড়া, পঞ্চনন্দপুর, কালিকাবাড়িসহ বিভিন্ন গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। গামারীতলা ইউনিয়নে কামালপুর, মুক্তাগাছা, রনসিংহপুর, রায়পুর, রানিপুর, রামনাথপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে অর্ধশতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। নেতাই নদীর পাড় ভেঙে কয়েকটি ঘর পানিতে ভেসে গেছে।

ঘোষগাঁও ইউনিয়নের গলইভাঙ্গা, গানই, বামনবধুয়া, ভালুকাপাড়া, ভূঁইয়াপাড়াসহ বেশকিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বেশ কয়েকটি বাড়ি। ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলায় গত দুদিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে কয়েকটি ঘর। বন্যার পানিতে ভেসে গেছে পুকুরের মাছ। পানি উঠে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উপজেলার দুধনই রাউতি রাস্তায় খালের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রবল স্রোতে রাস্তাটি ভেঙে যায়। এতে সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারছে না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওমর ফারুক জানান, প্রায় ১০০ হেক্টর বীজতলা পানির নিচে নিমজ্জিত রয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান স্বপন তালুকদার জানান, পানিবন্দি লোকদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানি শুকিয়ে গেলে যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেগুলো সংস্কার করা হবে।

ঘোষগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামসুল হক জানান, পানিবন্দিদের সরানো হচ্ছে। গামারীতলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান জানান, উপজেলা প্রশাসনের কাছে ত্রাণের জন্য বলেছি। বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাফিকুজ্জামান জানান, আমরা ত্রাণ দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা চেয়ারম্যান ডেভিড রানা চিসিম জানান, আমি বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া এবং ত্রাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমায়
টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দ্বিতীয়বারের মতো বাড়তে শুরু করেছে নেত্রকোণার দুর্গাপুর, কলমাকান্দা, বারহাট্টাসহ সব নদ-নদীর পানি। সেই সঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে বাড়িঘর, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। গত চারদিন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় বাড়িঘর, নদ-নদী ভাঙন ও বাড়তে শুরু করেছে সোমেশ্বরী, কংস, উব্দাখালী, ঘোমাই, মগড়াসহ সবকটি নদ-নদীর পানি। নদীগুলোর দুই তীরের গ্রামসহ প্রায় ৫০টির অধিক এলাকা পানির মধ্যে রয়েছে।

স্থানীয়রা বলছেন, ভারতের মেঘালয়ে ঢলের কারণে বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে নদীর পানি। উজানে আবহাওয়া এখনো খারাপ থাকায় পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক মো. মঈন-উল-ইসলাম জেলার প্রত্যেকটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্লাবিত এলাকার তালিকা তৈরি করার জন্য।

স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিন বৃষ্টিতে দ্বিতীয় দফায় দ্রুতগতিতে বাড়তে শুরু করেছে সোমেশ্বরী, কংস ও ঘোমাই নদীর পানি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় রাজনৈতিক মহল বা সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আভাস পাওয়া যায়নি।

গত বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে দুর্গাপুরের বিরিশিরি পয়েন্টের পানির গেজ রিডার নাঈম আহমেদ জানান, সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমার ১৫৭ সেন্টিমিটার এবং জারিয়া এলাকার পানির গেজ রিডার আলমগীর হোসেন জানান, কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এতে দুর্গাপুর-শিবগঞ্জ, বিরিশিরি-শিবগঞ্জ, ফারাংপাড়া-কামারখালী, চৈতাটি-গাঁওকান্দিয়া ঘাটে নদীতে স্রোত থাকায় নৌকা নিয়ে মানুষকে পারাপারে বেগ পেতে হচ্ছে। অনেককেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভরা নদীতে ইঞ্জিলচালিত নৌকা দিয়ে পারাপার হতে দেখা গেছে।

অপরদিকে পৌরসভার শিবগঞ্জ-ডাকুমারা, কুল্লাউড়া ইউনিয়নের কামারখালী এলাকায় নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙনের আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয়রা। নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, নদীতে যেভাবে পানি বাড়ছে তাতে করে বাড়িঘরে পানি উঠতে বেশি সময় লাগবে না।

এদিকে দুর্গাপুর-শ্যামগঞ্জ মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশ ইন্দ্রপুরের সরু কালভার্টের নিচ দিয়ে বেড়েছে পানি প্রবাহের গতি। ফলে নতুন করে আবারও ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে সড়কটি। তবে ভাঙনরোধে বালুর বস্তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা খানম বলেন, ঢলের পানি মোকাবেলায় উপজেলার সব দফতরকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোও চিহ্নিত করে সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ডিসি স্যারের নির্দেশে বন্যায় প্লাবিত এলাকাগুলোর তালিকা তৈরি করা হচ্ছে এবং সরকারিভাবে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ঝুঁকিতে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক
টানা ছয়দিনের বৃষ্টিতে ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ ফুট অংশ। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে বাঘাইছড়ি উপজেলার দেড় হাজারের অধিক পরিবার। বরকল উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পাহাড় ধসের শঙ্কায় সদর, রাজস্থলী, কাপ্তাই, উপজেলার কয়েক হাজার মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে গেছে।

রাঙ্গামাটির কাউখালীর ঘাগড়ার কলাবাগান এলাকায় সড়কের দিকে তীব্র স্রোতে পাহাড়ি ছড়ার গতিপথ পরিবর্তন করায় এ ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। যে কোনো সময় সড়কটি ধসে বন্ধ হয়ে যেতে পারে যানবাহন চলাচল। এ অবস্থায় ছড়ার স্রোতের গতিপথ নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ।

কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সামসুদ্দৌহা চৌধুরী বলেন, গত সোমবার রাতে ঘাগড়ার ছড়ার স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়ে সরাসরি সড়কে গিয়ে আঘাত হানতে শুরু করে। এতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়ক। মূলত ওই ছড়ার ওপর একটি ঘর নির্মাণের কারণে স্রোতের দিক পরিবর্তন হয়েছে। সওজ সড়কটি রক্ষায় কাজ করলেও বৃষ্টি না কমলে তেমন কোনো লাভ হবে না বলে মনে হচ্ছে।

এ বিষয়ে সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু মুছা বলেন, সড়কের পাশ দিয়ে তীব্র ছড়ার স্রোতের কারণে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ৩০ মিটার ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে। আমরা প্রাথমিকভাবে গাছের খুঁটি ও বস্তা ফেলে স্রোত নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

শুধু ঘাগড়ার কলাবাগানেই নয়, একইভাবে ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি-বান্দরবান সড়কের অনেক অংশ। ২০১৭ সালে রাঙ্গামাটিতে ভয়াবহ ভূমি ধসের পর শুধু কাঠের খুঁটি দিয়ে সে সড়ক রক্ষার কাজ করে সওজ। সড়কগুলো রক্ষায় কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় আবারও টানা বর্ষণে সড়কগুলো ঝুঁকিতে পড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ক্রমেই শহরের পাঁচটি আশ্রয়কেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতি বাড়ছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে শতাধিক পরিবারের প্রায় এক হাজার মানুষ। তাদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। বৃষ্টি যতদিন থাকবে, ততদিন আশ্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে।

বন্যার কবলে সুনামগঞ্জের ছয় উপজেলা
অব্যাহত ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ছয় উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রাস্তাঘাট, জনপদ, হাট-বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। টানা বৃষ্টির কারণে নিম্ন আয়ের মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ঢল ও বর্ষণে জেলার অন্তত ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। আরো শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা।

এদিকে সবগুলো প্রধান নদ-নদীসহ সীমান্ত নদীগুলোর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত চার দিনের টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা ও দোয়ারাবাজার উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের প্রধান নদী সুরমা, কুশিয়ারাসহ সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার রিডিং অনুযায়ী ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত ও ঢল অব্যাহত থাকায় পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতোমধ্যে জেলা সদরের বিভিন্ন উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর-বিশ্বম্ভরপুর ডুবন্ত সড়ক গত চারদিন ধরে ডুবে আছে। ফলে চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টিতে জেলার ১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্লাবিত হয়েছে। ধর্মপাশা উপজেলায় পাঁচটি, তাহিরপুরে দুটি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় দুটি এবং সদর উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। জেলার শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা ও আঙিনায় পানি প্রবেশ করায় অভিভাবকরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য প্রতি উপজেলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। তাছাড়া বন্যা মোকাবেলায় প্রশাসনের সব প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল আহাদ। গত বুধবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভা করে মাঠ প্রশাসনকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন, ঢল ও বর্ষণে নদ নদীর পানি বাড়ছে। সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমার পানি বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ঢল ও বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

সিলেটে বাড়ছে নদ-নদীর পানি
মৌসুমি বৃষ্টি সিলেটের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। দিনভর কখনো গুঁড়িগুঁড়ি আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে বাড়ছে সিলেটের সুরমা, কুশিয়ারা, সারি, ধলাই, সারীগোয়াইন নদীর পানি। গত তিন দিনের বৃষ্টির কারণে সব নদ-নদীর পানি বাড়লেও বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্য নদ-নদীর পানিও বাড়ছে প্রতিনিয়ত।

এদিকে সিলেটে গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী।