বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকা এখনো থমথমে

ঢাকা, সোমবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ | ৩ পৌষ ১৪২৫

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকা এখনো থমথমে

দিনাজপুর অফিস ৪:৫৩ অপরাহ্ণ, মে ১৭, ২০১৮

print
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকা এখনো থমথমে

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় গত পাঁচদিন কর্মবিরতির ফলে যে উদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য আজ বৃহস্পতিবার কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ খনি কমপ্লেক্সের মনিমালা মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করে।

সাংবাদিক সম্মেলনে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ জানান, আজ আন্দোলনকারী শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজে জাপানে চলে যাওয়ায় বৈঠকটি স্থগিত হয়। এবং চেয়ারম্যান বিদেশ থেকে ফিরে এলে আগামী সোমবার পুনরায় বৈঠকে বসার ঘোষণা দেন। এর পরেও শ্রমিকরা কাজে যোগদান করছে না। তাদের কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে খনির ভিতরের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তিনি আরও বলেন, শতকরা ৮০জন শ্রমিক কাজে যোগদান করতে চায় কিন্তু কতিপয় বহিরাগত শ্রমিক তাদেরকে খনির অভিমুখে যেতে দিচ্ছে না। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হলে প্রায় সকল শ্রমিক কাজে যোগদান করবে।
উল্লেখ্য, আউট সোর্সিং শ্রমিকদের স্থায়ী নিয়োগ প্রদান, বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, প্রফিট বোনাসসহ ১৩ দফা দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক-কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতির পঞ্চম দিন আজ অতিবাহিত হয়েছে। লাগাতার কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে খনির কর্মকর্তা ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ হওয়ার পর থেকে আজও থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পাশাপাশি আন্দোলনরত শ্রমিকরা খনির প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে।
রবিবার থেকে খনির এক হাজার ৪১ জন বাংলাদেশি শ্রমিক এই কর্মবিরতি পালন করছে। খনির শ্রমিক কর্মচারীরা খনির গেটে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। কর্মবিরতির তৃতীয় দিনে শ্রমিকদের সাথে কর্মকর্তাদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটলেও আজ পঞ্চম দিনেও শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচী পালন করে যাচ্ছে। প্রশাসন পর্যাপ্ত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করেছে।
আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবীগুলো হলো- চুক্তি অনুযায়ী সকল শ্রমিকদের নিয়োগ প্রদান, প্রতি বছর শতকরা ৪০ শতাংশ দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ, সকল শ্রমিকদের ক্ষেত্রে গ্রাচুইটি প্রদান, আন্ডারগ্রাউন্ড শ্রমিকদের ৬ ঘণ্টা ডিউটি করানো, ক্ষতিগ্রস্ত ২০টি গ্রামের বাড়ি-ঘরের দ্রুত স্থায়ী সমাধান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রত্যেক পরিবার থেকে খনিতে চাকরি প্রদান। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক-কর্মচারীর ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ- গত ২৬ এপ্রিল খনি কর্তৃপক্ষকে তাদের দাবী এবং কর্মবিরতির বিষয়ে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ তাদের দাবীর বিষয়ে কোন কর্ণপাত না করায় তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছে। এদিকে শ্রমিকদের দাবীর সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে খনি এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত ২০ গ্রাম সমন্বয় কমিটির নেতারা বলছেন- শ্রমিকদের দাবীসহ গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দাবী বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিকরা দাবী করেছেন, কর্মকর্তাদের হামলায় তাদের ১০ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। অপরদিকে খনির কর্মকর্তারা দাবী করেছেন, শ্রমিকদের হামলায় তাদের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তা আহত হয়েছে। আহতদের ফুলবাড়ী ও পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।