গঙ্গাচড়ায় শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় পাঠদান ব্যাহত

ঢাকা, শুক্রবার, ১২ আগস্ট ২০২২ | ২৮ শ্রাবণ ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

গঙ্গাচড়ায় শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় পাঠদান ব্যাহত

নির্মল রায়, গঙ্গাচড়া (রংপুর)
🕐 ৮:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২৩, ২০২২

গঙ্গাচড়ায় শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতায় পাঠদান ব্যাহত

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের পাকুড়িয়া শরিফ আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সহকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। তাদের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে পাঠদান কার্যক্রমসহ শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়েছে।

প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষক দেরিতে বিদ্যালয়ে আসা, পাঠদান না দিয়ে অফিসে সময় কাটানো, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ক্লাস এক সাথে নেয়া, ক্লাস সময়ে বিদ্যালয় থেকে বেড়িয়ে গিয়ে আড্ডা দেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে।

অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে বারোটায় ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে পাওয়া গেছে এর সত্যতা। বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকসহ ৫ জন শিক্ষক থাকলেও গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকা অফিসে বসে গল্প করছেন। আর শিক্ষার্থীরা মাঠে ফুটবল খেলছে। অন্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত।

সহকারী শিক্ষক মো. ওলিউল্লাহ সকালের দিকে বিদ্যালয়ে আসলেও তিনি কাউকে না বলে কোথায় গেছেন কেউ জানেন না। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাঝে মধ্যে ছুটি না নিয়ে বিদ্যালয়ে না আসার অভিযোগ।

জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, নিলিফা বেগম গেছেন ভাত খেতে। আর মামুন অর রশীদ রয়েছেন ছুটিতে। সাংবাদিক দেখে তাৎক্ষণিক প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে আসার নির্দেশ দেন। শিক্ষকের নির্দেশে শিক্ষার্থীরা এসে দুটি ক্লাসে বসে। সে সময় ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির পাঠদান হওয়ার কথা।

এসময় একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী আর অপরটিতে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণি একই সাথে। এসময় ৪র্থ শ্রেণির সিফাত, মরিয়ম, জান্নাতারা, ৩য় শ্রেণির রজব হাসান, রিফাত হোসেন, লজিব জানায়, তারা নিয়মিত একসাথে পাঠদান নেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক বলেন, বিদ্যালয়ে তো ঠিকমতো ক্লাস হয়না। এ জন্য ঠিকমতো সন্তান পাঠাই না। তারা উপজেলা শিক্ষা অফিসের নজরদারি বাড়ানোর জন্য অনুরোধ জানান।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আঞ্জুমান আরা বেগম বলেন, আজকে শিক্ষার্থী কম আসায় দুটি শ্রেণির একই সাথে পাঠদান হচ্ছে। অন্যান্য অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার নাগমা সিলভিয়া খান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 
Electronic Paper