আবারও মিথ্যাচার মিয়ানমারের

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

আবারও মিথ্যাচার মিয়ানমারের

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৩৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৮

print
আবারও মিথ্যাচার মিয়ানমারের

মিয়ানমার সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ উপরন্তু সেন্টমার্টিন নিয়ে বিছিয়েছে ষড়যন্ত্রের জাল -প্রতিবাদে খোলা কাগজের নিয়মিত আয়োজন-

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে এখন পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ তো নয়-ই, বরং একের পর এক মিথ্যাচার করে যাচ্ছে মিয়ানমার। সেই ভুয়া ছবি থেকে শুরু, এরপর মানচিত্র প্রকাশ করে সেন্টমার্টিনকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করা এবং সর্বশেষ প্রত্যাবাসনের নামেও মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে দেশটি।
গত জুলাইয়ের শেষদিকে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ‘ট্রু নিউজ’ নামে একটি বই প্রকাশ করে। ১১৭ পৃষ্ঠার ওই বইটিতে ৮০টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যার মধ্যে আটটি ছবি রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিয়ে, আর সেই আটটির অন্তত তিনটি ছবিই ইতিহাসের মিথ্যাচার। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, এক লোক কৃষিকাজে ব্যবহৃত নিড়ানি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দুই লাশের পাশে। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘স্থানীয়দের নির্মমভাবে হত্যা করেছে বাঙালিরা’। আসল সত্য হলো, ছবিটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের, ওই সময় হত্যাযজ্ঞের পর দুই বাংলাদেশির লাশ উদ্ধারের ছবি ছিল সেটি। এমনিভাবে রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় শরণার্থীদের পালিয়ে যাওয়ার একটি ছবি দিয়ে ক্যাপশনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে বাঙালিদের অনুপ্রবেশ!
দিন কয়েক আগে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন নিয়ে মিয়ানমার ঔদ্ধত্য প্রকাশ করেছে। দেশটির শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যাবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া মানচিত্রে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দেখিয়েছে।
মিয়ানমারের এই ধারাবাহিক মিথ্যাচারের সর্বশেষ সংযোজন একটি রোহিঙ্গা পরিবারের প্রত্যাবাসন নিয়ে। মিয়ানমারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকে একটি রোহিঙ্গা পরিবারের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার কথা জানানো হলেও বাংলাদেশ বলছে, এ ব্যাপারে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানে না। মিয়ানমারের দাবি, বাংলাদেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত প্রত্যাবাসন চুক্তির অংশ হিসেবেই যাচাই-বাছাই শেষে ওই রোহিঙ্গা পরিবারকে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য স্পষ্ট-আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে কোনো রোহিঙ্গা পরিবার মিয়ানমারে ফেরেনি।
দেশটির তথ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে রোহিঙ্গাদের জাতিগত পরিচয় আড়াল করে পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারকে ‘বাস্তুচ্যুত’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। গ্লোবাল নিউ লাইটস অব মিয়ানমার সূত্রে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, পাঁচ সদস্যের একটি বাস্তুচ্যুত পরিবার ১০ অক্টোবর রাখাইনের মংতো জেলার তং পিয়ো লেতওয়ে অভ্যর্থনা কেন্দ্রে ফিরেছে।
কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম বলেছেন, একটি রোহিঙ্গা পরিবার ফেরত গেছে বলে শোনা গেছে, তবে তাদের পৌঁছানোর ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। এখনো আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করেনি মিয়ানমার।’