আইন আছে যথাযথ প্রয়োগ নেই

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫

আইন আছে যথাযথ প্রয়োগ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৬ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০১৮

print
আইন আছে যথাযথ প্রয়োগ নেই

বাংলাদেশে ধূমপায়ীর সংখ্যা দিন দিনই বাড়ছে। আগে হয়তো তামাক নিয়ন্ত্রণে কোনো আইন ছিল না, কিন্তু ২০০৫ সালের পর থেকে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন করা হয়েছে। ২০০৫ সালের পর আইনে যেসব স্থানে ধূমপান নিষিদ্ধ ছিল সেসব স্থানে ধূমপান করলে অনধিক ৫০ টাকা জরিমানা করার বিধান ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে ওই আইনকে আবার সংশোধন করা হয়েছে। তখন শাস্তির পরিমাণ বৃদ্ধ করে অনধিক ৩০০ টাকা করা হয়।

২০১৩ সালের সংশোধিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইনে আছে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টুন বা কৌটার উভয় পাশে ৫০ শতাংশ স্থানজুড়ে রঙিন ছবি ও লেখায় স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবার্তা মুদ্রিত থাকতে হবে। পাবলিক প্লেসে বা জনসম্মুখে বেপরোয়া ধূমপান সম্পর্কে ২০১৩ সালের তামাক আইনের সংশোধনীতে আরও উল্লেখ আছে, অফিস-আদালত ছাড়াও পাবলিক প্লেস হিসেবে পাবলিক ট্রান্সপোর্ট, টার্মিনাল, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং বাসস্ট্যান্ডের মতো স্থানে ধূমপান করা যাবে না। আইন অনুযায়ী ওই সব স্থানে ধূমপায়ীকে অনধিক ৩০০ টাকা জরিমানা করতে হবে। কিন্তু এসব আইনের যথাযথ প্রয়োগ হচ্ছে না। যার কারণে যে যার মতো করে যেখানে সেখানে ধূমপান করে। এমনই খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য যারা এ আইন প্রয়োগ করবেন তাদেরও অনেক সময় পাবলিক প্লেসে ধূমপান করতে দেখা যায়। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে ২০১৫ সালে পাস হয় তামাক নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০১৫। সংশোধিত আইন ২০১৩ ও বিধিমালা ২০১৫-তে নারী-শিশুসহ সব অধূমপায়ীকে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার থেকে রক্ষায় কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১০(১) বলা হয়েছে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটার উভয় পার্শ্বে মূল প্রদর্শনী তল বা যেসব প্যাকেটে দুটি প্রধান পার্শ্বদেশ নাই সেসব প্যাকেটের মূল প্রদর্শনী তলের উপরিভাগে অন্যূন শতকরা পঞ্চাশ ভাগ পরিমাণ স্থান জুড়িয়া তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট ক্ষতি সম্পর্কে, রঙিন ছবি ও লেখা সংবলিত, স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সতর্কবাণী, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে, বাংলায় মুদ্রণ করিতে হইবে।

(২) তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন বা কৌটায় নিম্নবর্ণিত সচিত্র সতর্কবাণী মুদ্রণ করিতে হইবে, যথা:- (ক) ধূমপানে ব্যবহৃত তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে:- (অ) ধূমপানের কারণে গলায় ও ফুসফুসে ক্যান্সার হয়; (আ) ধূমপানের কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা হয়; (ই) ধূমপানের কারণে স্ট্রোক হয়; (ঈ) ধূমপানের কারণে হৃদরোগ হয়; (উ) পরোক্ষ ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়; (ঊ) ধূমপানের কারণে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়;
(খ) ধোঁয়াবিহীন তামাকজাত দ্রব্যের ক্ষেত্রে:-(অ) তামাকজাত দ্রব্য সেবনে মুখে ও গলায় ক্যান্সার হয়; (আ) তামাকজাত দ্রব্য সেবনে গর্ভের সন্তানের ক্ষতি হয়; (গ) বিধি দ্বারা নির্ধারিত অন্য কোনো সতর্কবাণী।

(৩) বাংলাদেশে বিক্রীত তামাকজাত দ্রব্যের সব প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন ও কৌটায় ‘শুধুমাত্র বাংলাদেশে বিক্রয়ের জন্য অনুমোদিত’ মর্মে একটি বিবৃতি মুদ্রিত না থাকিলে বাংলাদেশে কোনো তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় করা যাইবে না।

(৪) জনস্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ও ঝুঁকি সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরির উদ্দেশ্যে, তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, কার্টন, কৌটা বা মোড়কে ব্র্যান্ড এলিমেন্ট (যেমন- লাইট, মাইল্ড, লো-টার, এক্সট্রা, আল্ট্রা শব্দ) ব্যবহার করা যাইবে না।

(৫) উপ-ধারা (২) এ উল্লিখিত সচিত্র সতর্কবাণী এবং উপ-ধারা (৩) এ উল্লিখিত বিবৃতি তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেট, মোড়ক, কার্টন ও কৌটায় মুদ্রণ পদ্ধতি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।

(৬) কোন ব্যক্তি এই ধারার বিধান লঙ্ঘন করিলে তিনি অনূর্ধ্ব ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড বা অনধিক দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দন্ডনীয় হইবেন এবং ওই ব্যক্তি দ্বিতীয়বার বা পুনঃ পুনঃ একই ধরনের অপরাধ সংঘটন করিলে তিনি পর্যায়ক্রমিকভাবে ওই দণ্ডের দ্বিগুণ হারে দণ্ডণীয় হইবেন।]

 
.