ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৪৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১০, ২০১৮

print
ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে বঙ্গোপসাগরে কর্তৃত্ব

মিয়ানমার সৃষ্ট রোহিঙ্গা সংকটে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ উপরন্তু সেন্টমার্টিন নিয়ে বিছিয়েছে ষড়যন্ত্রের জাল  প্রতিবাদে খোলা কাগজের নিয়মিত আয়োজন-

সাদা বালি, নীল জল আর প্রবাল বেষ্টিত সেন্ট মার্টিন। বঙ্গোপসাগরের বুকে বাংলাদেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ। কিছুদিন আগে মিয়ানমার তাদের নতুন মানচিত্রে সেন্ট মার্টিনকে নিজেদের অংশ হিসেবে দেখিয়েছিল। দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে মিয়ানমারের মিথ্যাচারের কারণ জানতে চেয়ে দেশটির রাষ্ট্রদূতকে গত রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ। প্রতিবাদের পর রাতারাতি মিয়ানমার তাদের নতুন মানচিত্রের আংশিক সংশোধন করেছে।
কিন্তু হঠাৎ করে মিয়ানমারের এ অপতৎপরতা কেন?
সেন্ট মার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে সাগরসীমা নিয়ে ১৯৭৪ ও ২০০৮ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সমঝোতা চুক্তি আছে। মিয়ানমার এতে আপত্তি করে বলে, ওই সমঝোতাগুলো ছিল জাহাজ চলাচলবিষয়ক, সীমানা নির্ধারণের চুক্তি নয়, বা ওই কাজ যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা হয়নি। সমুদ্রসীমাবিষয়ক জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে (আইটিএলওএস) এ নিয়ে মামলা হয়। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সমুদ্র সীমাবিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তির রায়ও হয়েছে। বাংলাদেশ ওই চুক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে নানা প্রমাণ দেখালেও মিয়ানমার তা অগ্রাহ্য করে।
ভূ-রাজনৈতিক কারণে বঙ্গোপসাগরের অবস্থান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে বঙ্গোপসাগরের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় মরিয়া ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা। অবশ্য শ্রীলঙ্কা অবস্থানগত কারণে এ ব্যাপারে কখনোই কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ভারত বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরে তাদের একচেটিয়া আধিপত্যের চেষ্টা করেছে। যদিও আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের রায়ে তাদের সেই প্রচেষ্টায় ভাটা পড়েছে। কিন্তু মিয়ানমার এ ব্যাপারে তাদের উল্লম্ফন প্রদর্শন করেই চলেছে। যার অংশ হিসেবে তারা সেন্ট মার্টিনকে তাদের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মানচিত্রে উল্লেখ করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মিয়ানমারের এ কূটকৌশলের পেছনে দুটো উদ্দেশ্য কাজ করছে। এক, তারা রোহিঙ্গা সংকটকে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্বের নজর যাতে রোহিঙ্গাদের দিক থেকে সরে যায় এবং তাদের ওপর ক্রমাগত চাপ প্রয়োগের ব্যাপারটি যেন শিথিল হয়ে যায়। দুই, মিয়ানমারের সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য হলো বঙ্গোপসাগরে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে। রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করে তারা ওই অঞ্চলে যে শিল্প এলাকা তৈরি করতে চায়, তা রক্ষার জন্য বঙ্গোপসাগরে তাদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা জরুরি। এ কারণে তারা সেন্ট মার্টিন নিয়ে বিছিয়েছে নতুন ষড়যন্ত্রের জাল।

উল্লেখ্য, বঙ্গোপসাগরের বুকে ভেসে থাকা সেন্ট মার্টিন দ্বীপ কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। এর আয়তন ১৭ বর্গকিলোমিটার। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান ও ভারতের বিভক্তির সময় সেন্ট মার্টিন অন্তর্ভুক্ত হয় পাকিস্তানে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশের অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে সেন্ট মার্টিনের ওপর বাংলাদেশের অধিকার স্বীকার করে নিয়েই বাংলাদেশের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি করে মিয়ানমার। ২০১২ সালে সমুদ্র আইনবিষয়ক আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল এক রায়ে সেন্ট মার্টিনকে বাংলাদেশের মানচিত্রে দেখিয়েছে।