নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৩৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৮, ২০২১

print
নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ

হেফাজত ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি যে অব্যাহত তা-ব চালিয়ে যাচ্ছে তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। একই সঙ্গে এই নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের তালিকা তৈরি করতে তিনি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল বুধবার সকালে ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নেতাকর্মীদের এ নির্দেশনা দেন। এদিকে শিশু বক্তা হিসেবে পরিচিত রফিকুল ইসলাম মাদানীকে নেত্রকোণা থেকে এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত ইসলামের হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

গতকাল ওবায়দুল কাদের তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, হেফাজত ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি ও শান্তি বিনষ্ট করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ওবায়দুল কাদের আওয়ামী লীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উসকানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে। দেশব্যাপী তা-ব চালিয়েছে বা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সতর্ক করে দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। দেশের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছেন শক্ত ভিতের ওপর। সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছেন বলেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিপরীতে আওয়ামী লীগ এখনো দায়িত্বশীল আচরণ করছে, দেখাচ্ছে সহনশীলতা। বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, কোনো ধর্মান্ধতাকে সমর্থন দেয় না। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুনে আপনাদের হাত পুড়ে যাবে।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে জমিজমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, খতিয়ান, নামজারি রেকর্ড ছাই হয়ে গেছে, ভূমির প্রয়োজনীয় দলিল নথিপত্রের অভাবে বংশপরম্পরায় মামলা-মোকদ্দমায় লড়তে হবে, সুতরাং যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রফিকুল ইসলাম আটক : গতকাল বুধবার দুপুরে নেত্রকোণা থেকে র‌্যাবের একটি দল মাওলানা রফিকুল ইসলামকে আটক করেছে। র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন সমকালকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ২৫ মার্চ রাজধানীর শাপলা চত্বরে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল থেকে এ শিশু বক্তাকে আটক করে মতিঝিল থানা পুলিশ। তবে কয়েক ঘণ্টা পরই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সেদিন মুক্তাঙ্গনে মোদিবিরোধী বিক্ষোভ করে ছাত্র ও যুব অধিকার পরিষদ। ওই বিক্ষোভে যোগ দেন রফিকুল।

কাউন্সিলর ইকবাল গ্রেফতার : নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হেফাজত ইসলামের হরতালে নাশকতা সৃষ্টির অভিযোগে কাউন্সিলর ইকবাল হোসেনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। র‌্যাব-১১ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন চৌধুরী জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইকবাল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মিজমিজি বড়বাড়ি পশ্চিমপাড়া এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে তিনি। আগে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

র‌্যাব-১১ বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের ডাকা দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল চলাকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মৌচাক, সানারপাড়, শিমরাইল ও চিটাগং রোড এলাকায় গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে জনমনে ভীতি সঞ্চারসহ সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করা হয়। এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় র‌্যাব ও পুলিশ বাদী হয়ে ছয়টি মামলা করে। ইকবাল এসব মামলার অন্যতম আসামি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মামুনুলদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে জানা আছে : শিক্ষা উপমন্ত্রী

করোনা পরিস্থিতিতে সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও মানছে না কওমি মাদরাসাগুলো। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে মাদরাসা চালু রাখা হয়েছে। আয়োজন করা হচ্ছে পরীক্ষারও। এমন প্রেক্ষাপটে কঠোর অবস্থানে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

গত মঙ্গলবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না এলে মামুনুল হকদের শায়েস্তা করা হবে। কীভাবে শায়েস্তা করতে হয় সেটা আমাদের জানা আছে।’

তার স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো : খেলাফত মজলিস নামক একটি দলের এক নেতা এ কুলাঙ্গার মামুনুল হকের পক্ষে যেভাবে সাফাই গাইল, এতে বোঝা যায় দীনে ইসলাম শুধুই এদের বেঁচে থাকার জন্য একটি মাধ্যম। ধর্ম ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর মনে রাখা প্রয়োজন, স্বাধীনতাযুদ্ধে এই দেশের জনগণ এদের প্রত্যাখ্যান করেছে। এদের ছাড়াই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে, আওয়ামী লীগসহ প্রগতিশীল শক্তির সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছিল। কিছু এতিম শিশুকে রাখে বলে এরা অনেকের সহানুভূতি পায়। এরা দেশের প্রচলিত সরকার কাঠামো, শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনের অধীনে না এলে, এদের কীভাবে শায়েস্তা করতে হবে তা আমাদের জানা আছে। পিতার ভাস্কর্য অপমানিত করার পর থেকে, এদের স্পর্ধার শুরু। এখন ১৭টি লাশের ওপরে চলছে এদের ‘রিফ্রেশমেন্ট’ জীবন।
আগুন যারা জ্বালিয়েছে, পিতার ছবিতে হাত যারা দিয়েছে, এদের একটা একটা করে ধরে আনা হবে, আইনের সম্মুখীন করা হবে। সামাজিক, ধর্মীয়, অর্থনৈতিকÑসর্ব পর্যায়ে এই কাঠমোল্লা গোষ্ঠীকে প্রতিহত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বানের জলে ভেসে আসেনি। গণতান্ত্রিক সমাজে রাজনীতি করতে চায় করবে। কিন্তু ধর্ম ব্যবসা করে মানুষের ঘরবাড়ি জ্বালানোর পরিণাম এদের বোঝাতে হবে। আগুন সন্ত্রাস করে বিএনপি-জামায়াত ছাড় পায়নি। এই ধর্ম ব্যবসায়ীরাও ছাড় পাবে না। ইনশাল্লাহ।’