বাইক দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

বাইক দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু

তুষার আহসান ১০:০২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০২১

print
বাইক দুর্ঘটনায় বাড়ছে মৃত্যু

বাইক (মোটরসাইকেল) দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারিতেই সারা দেশে ঘটেছে ১৫৬টি বাইক দুর্ঘটনা। এতে দিনপ্রতি গড়ে প্রাণ গেছে ১৭১ জনের। তাদের অধিকাংশের বয়স ১৩ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। নিরাপত্তা বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা ও ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতা বাইক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এদিকে বাইকের নিবন্ধন ফি কমানোর সরকারি সিদ্ধান্ত এবং সিসিসীমা (অশ্বশক্তি) উন্মুক্ত করার সুপারিশ সড়কে বাইক দুর্ঘটনা বাড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। এদিকে গত কয়েক মাসে বাইকে নিহত পুলিশ সদস্যের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। বিষয়টি নাড়া দিয়েছে পুলিশ সদর দফতরকে। পুলিশের পরোক্ষ সুরক্ষায় বাইকে করে জেলার গ-ি না পেরোতে তাই জারি হয়েছে আদেশ।

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, ফেব্রুয়ারিতে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য ৮ জন, র‌্যাব সদস্য ১ জন নিহত হয়েছেন। আর ১৫৬টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ১৭১। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানি চরমভাবে বেড়েছে। নিহতদের মধ্যে কিশোর ও যুবকের সংখ্যাই বেশি। বয়স হিসেবে বলতে গেলে যারা নিহত হয়েছেন তাদের প্রায় সবার বয়স ১৩ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে।’ কারণ হিসেবে নিরাপত্তা বিষয়ে অজ্ঞতা, অবহেলা ও ট্রাফিক আইনের প্রয়োগহীনতাকে দায়ী করেন তিনি। সাইদুরের মতো অনেকেই মনে করেন, বাইকের নিবন্ধন ফি কমানোর কারণে বাইক কেনায় হিড়িক পড়েছে। নিবন্ধন ফি কমানো ও সিসি (অশ্বশক্তি) সীমা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত দুর্ঘটনা বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বাইকে করে কোনো পুলিশ সদস্য সরকারি কাজে, ব্যক্তিগতভাবে কিংবা ছুটিতে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় ভ্রমণ করতে পারবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। পুলিশ সদর দফতর সূত্র বলছে, সম্প্রতি পুলিশ সদস্যদের প্রায়ই সরকারি ও ব্যক্তিগত কাজে মোটরসাইকেলে করে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ভ্রমণ করতে দেখা যায়। এতে অনেকে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত বা নিহত হচ্ছেন। মূলত এ কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা। কোনো পুলিশ সদস্য এই নির্দেশনা অমান্য করলে, তা মারাত্মক শৃঙ্খলাপরিপন্থী আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে।

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি কনফিডেন্সিয়াল আব্দুল্লাহীল বাকী স্বাক্ষরিত নির্দেশনা গত ২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশের সকল ইউনিট প্রধানদের জানানো হয়। এর তিন দিন আগে ২১ ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে মোটরসাইকেল গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে এইচ এম রনি ওরফে হাদী রনি নামে এক পুলিশ সদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় তার স্ত্রী আহত হন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, ফেব্রুয়ারিতে মোট সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৪০৬টি। এতে নিহত ৫১৭ জন এবং আহত ৬৫৯ জন। নিহতের মধ্যে ৯৭ নারী ও ৬৮ শিশুও রয়েছে। নিহতদের মধ্যে র‍্যাব ও পুলিশ সদস্য রয়েছে। এ ছাড়া সাবেক এনএসআই কর্মকর্তা ১ জন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার শিক্ষক ১৮ জন, চিকিৎসক ৪ জন, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এপিপি ১ জন, ইসলামি বক্তা ১ জন, উপজেলা কার্যালয়ের অফিস সহকারী ১ জন, আইনজীবী ২ জন, নাট্যকর্মী ১ জন, সাংবাদিক ৩ জন, ব্যাংক কর্মকর্তা ৫ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৬ জন, ওষুধ ও বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিক্রয় প্রতিনিধি ২৭ জন, স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ৪৩ জন, প্রবাসী ১ জন, পল্লী বিদ্যুতের লাইনম্যান ও সুপারভাইজার ২ জন, মোটর মেকানিক ৩ জন, পাটকল শ্রমিক নেতা ১ জন, পোশাক শ্রমিক ১১ জন, ইটভাটা শ্রমিক ৫ জন, কৃষি শ্রমিক ৮ জন, রাজমিস্ত্রি ২ জন, ডিসিসি’র পরিচ্ছন্নতাকর্মী ১ জন, পত্রিকার হকার ১ জন, চার লেন প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী ১ জন, মানসিক প্রতিবন্ধী ৪ জন, ইউপি সদস্য ৩ জনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৯ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ জন এবং জাপানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ জন শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৩ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।