সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় হচ্ছে: শামসুল আলম

ঢাকা, রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১ | ৫ বৈশাখ ১৪২৮

সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় হচ্ছে: শামসুল আলম

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ২:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

print
সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় হচ্ছে: শামসুল আলম

দেশে সামাজিক সুরক্ষার ভাতা বঞ্চিত রয়েছে ৪৬ শতাংশ মানুষ। যাদের প্রয়োজন নেই এমন অনেকেই সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ভাতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (জ্যেষ্ঠ সচিব) ড. শামসুল আলম।

রোববার সকালে ‘করোনার প্রভাবে এসডিজি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: স্বাস্থ্য ও শিক্ষা’ অনলাইন সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শামসুল আলম বলেন, ‘তার মানে সামাজিক সূরক্ষা কর্মসূচিতে বড়ধরনের অপচয় আছে। আমি সেটা অস্বীকার করবো না। কারণ এটা একটা গবেষণার ফলাফল থেকে প্রাপ্ত। আমরা চাইবো, ২০২৫ সালের সব দারিদ্র্য সামাজিক সুরক্ষার কোনো না কোনো কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হোক।’

অনলাইন সংলাপটি জার্মানির ব্রেড ফর দ্য ওয়ার্ল্ডের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং অ্যাকশন ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (এএসডি) ও ডেভেলপমেন্ট জার্নালিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের (ডিজেএফবি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ে শামসুল আলম বলেন, ‘অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় আমরা শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর কথা বলছি। শিক্ষা ব্যয় ৪ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলেছি। যেটি বর্তমানে ২ দশমিক ৬ শতাংশে আছে। আসলে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, শিক্ষা ব্যয় ৬ শতাংশে যাওয়া উচিত। তবু এটা এখন যেহেতু ২ দশমিক ৬ আছে, এটাকে ৪ শতাংশে নিতে পারলেও বড়রকমের উলম্ফন হবে। আর স্বাস্থ্য খাতে আমরা এখন ব্যয় করছি ১ দশমিক ৬ শতাংশ। সেটি ২ শতাংশে নেবার কথা বলেছি অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায়। সেটি করতে পারলেও বড়রকমের উলম্ফন হবে।’

পরিকল্পনায় যা বলা হচ্ছে, তা বাজেটে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ দিয়ে সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের এ সদস্য বলেন, ‘যেসব বরাদ্দ যাচ্ছে আর পরিকল্পনায় যা বলা হচ্ছে, সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ কতটা হচ্ছে, তা খেয়াল রাখতে হবে। যেমন পরিকল্পনায় আমরা বলেছি, অনুন্নত অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ তহবিল রাখার জন্য বা সে এলাকায় স্কুল কলেজ গড়ে তোলার জন্য। পরিকল্পনার সঙ্গে বাজেটের সমন্বয় না হলে পরিকল্পনা করে ফল পাওয়া যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য সেবায়, দারিদ্র্যে, শিক্ষা ক্ষেত্রে অঞ্চল বৈষম্য আছে। সেজন্য দেখবেন নারাণগঞ্জে ৩ শতাংশ দারিদ্র্য, অথচ রংপুরে ৭১ শতাংশ। এর জন্য আমরা অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অনেকগুলো পদক্ষেপ রেখেছি। আপনারা নজরদারি করবেন, সেই প্রস্তাবগুলো কতটা বাজেটে প্রতিফলিত হচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে উত্থাপিত মূল প্রবন্ধের তথ্য তুলে ধরে জিইডি মেম্বার বলেন, ‘এখানে বলা হয়েছে, প্রাথমিকের মাত্র ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থী অঙ্ক করার বিষয়ে পারদর্শিতা আছে। বাংলার ক্ষেত্রেও হয়তো তাই হবে। এগুলো কাম্য নয়। এরকম অনেকগুলো ভিতরের দৃষ্টি এসেছে এই আলাপ-আলোচনায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষা কমিশনে বলা হয়েছিল, সকলের জন্য সর্বজনীন শিক্ষা। আমাদের অনেক বিজয়, সাফল্য, কৃতিত্ব আছে; কিন্তু শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বজনীনতা আমরা এখনও অর্জন করতে পারি নাই। জনগণকে শিক্ষার আওতায় আনতে হবে। প্রাথমিকেই প্রায় ১৮ -১৯ ভাগ শিশু ঝড়ে পড়ছে। এটা তো মানবসম্পদের বড় অপচয়। কতো প্রতিভা হয়তো ঝড়ে যাচ্ছে। আমরা জানতে পারছি না। যদি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারতাম, তাদের কেউতো বিজ্ঞানী হতে পারতো, কেউ কবি হতে পারতো। শিক্ষা না পেলে তো তারা গাড়ির হেলপার হয়েই থাকবে। এই অপচয় অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধির উচ্চতর পর্যায়ে গেছে। করোনায় কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

সামাজিক, অর্থনৈতিক, জলবায়ু– সবক্ষেত্রেই বাংলাদেশ ভালো করছে তারই প্রমাণ গতকাল প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার মাধ্যমে পেয়েছি উল্লেখ করে শামসুল আলম বলেন, ‘এসডিজি বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ তো আছেই। বিশেষ করে এই করোনার কারণে দারিদ্র্যতা বাড়ার একটা প্রবণতা দেখা দিয়েছিল। যদিও আমরা খুব সুন্দরভাবে আমরা তা হ্যান্ডেল করেছি। এসডিজি বাস্তবায়ন কিছুটা হলেও ধাক্কা খেয়েছে। তবু আমরা আশা করছি, তৃতীয় বর্ষ থেকে পুরনো প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে যাবো এবং এসডিজি বাস্তবায়ন সামলিয়ে উঠতে পারবো। সেভাবেই পরিকল্পনা সাজিয়েছি।’