৫০ লাখ টিকা আসছে আগামী সপ্তাহে

ঢাকা, রবিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

৫০ লাখ টিকা আসছে আগামী সপ্তাহে

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৯, ২০২১

print
৫০ লাখ টিকা আসছে আগামী সপ্তাহে

সরকারিভাবে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার তিন কোটি ডোজ কিনছে। যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ টিকা ২৬ জানুয়ারির মধ্যে দেশে পৌঁছাবে বলে আশা করছে সরকার। এর পাশাপাশি ভারত সরকার উপহারস্বরূপ ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন বাংলাদেশকে দেবে। তা আগামী ২০ জানুয়ারি দেশে আসবে। আর এ টিকা দিতে রাজধানী ঢাকার সরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩০০ টিকাদান কেন্দ্র করা হবে। এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে। তবে এ টিকা ১৮ বছরের নিচের কাউকে দেওয়া হবে না। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি ও টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে সেক্ষেত্রে টিকার দাম সরকার নির্ধারণ করে দেবে। গতকার সোমবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে এ কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

টিকা আনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল ও সেরামের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির কথা জানানো হয়েছে। এর আগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলমও ২৬ জানুয়ারির মধ্যে টিকা আসার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছিলেন। গতকাল বিষয়টি নিশ্চিত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আগামী ২৫ বা ২৬ জানুয়ারির মধ্যে ৫০ লাখ করোনার টিকা দেশে আসবে। এর পাশাপাশি ভারত সরকার উপহারস্বরূপ বাংলাদেশকে কিছু টিকা দেবে। এ টিকা ১৮ বছরের নিচের কাউকে দেওয়া হবে না। রাজধানীর সরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৩০০টি টিকাদান কেন্দ্র করা হবে। এখান থেকে টিকা দেওয়া হবে। বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি ও টিকাদানের ব্যবস্থা রাখা হবে। তবে সেক্ষেত্রে টিকার দাম সরকার নির্ধারণ করে দেবে। এর নীতিমালাও তৈরির প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, করোনাকালে কিছু দুর্নীতি হয়েছে। এ দুর্নীতিবাজদের আমরা ছাড় দেইনি। আর কোনো দুর্নীতিবাজকে ছাড় দেওয়া হবে না।

টিকার পাশর্^প্রতিক্রিয়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহিদ মালেক বলেন, সব ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। এ কথা সব ওষুধের গায়েই লেখা থাকে। টিকা দেওয়ার পর কোনো সমস্যা হলে যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সে জন্যই হাসপাতাল বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে বেছে নেওয়া হয়েছে টিকাদানের কেন্দ্র হিসেবে।

টিকার দামের প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ৪ ডলার দরে টিকা কিনছে। আর পরিবহন খরচ এক ডলার। তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি সাংবাদিক করোনার টিকা পাবেন। তবে ঢাকায় অবস্থানরত সাংবাদিকরা আগে টিকা পাবেন।

ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি টিকা বাংলাদেশ নিতে চায় কি না, তা জানানোর শেষ দিন ছিল আজ। বাংলাদেশ এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না, এ প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এ বিষয়ে আগ্রহী জানিয়ে চিঠি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বরাবর দিয়েছি।

তিনি বলেন, করোনার পর আমরা তাড়াতাড়ি ট্রিটমেন্ট শুরু করেছি, যা অন্যরা করতে পারেনি। আমাদের ২০ হাজার বেড তৈরি করতে হয়েছে, আইসোলেশন বেড তৈরি করতে হয়েছে, ডাক্তারদের ট্রেনিং দিতে হয়েছে, ১৫ দিনে ২০ হাজার ডাক্তার, ১৫ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর আমরা মিডিয়া ক্যাম্পেইন করেছি, সেটাতে সফলও হয়েছি। একটা সেন্ট্রাল মিডিয়া সেল করা হয়েছিল।

তারপরও বলা হয়েছে আমাদের অব্যবস্থাপনার কথা। তিনি বলেন, করোনার পর থেকে হাসপাতালগুলোতে নানারকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যে ব্যবস্থা আমেরিকা, ইউরোপ নিতে পারেনি। তারা ট্যাকেল করতে পারছে না, সেখানে আমরা খুব ভালোভাবে ব্যবস্থা নিয়েছি। এমনকি মাস্ক যে কার্যকরী ব্যবস্থা সে বিষয়টি তুলে ধরেছি। নো মাস্ক নো সার্ভিস ব্যবস্থা চালু করার পর মাস্ক ব্যবহার বেড়েছে।
জাহিদ মালেক বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আমরা বুঝতেই পারিনি। কিন্তু আমেরিকা, ইতালি, যুক্তরাজ্য হিমশিম খাচ্ছে। এসবই আমাদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার কারণে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মুরসালিন নোমানীর সভাপতি। বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মসিউর রহমান খানসহ অন্যরা।