আসছে শৈত্যপ্রবাহ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জানুয়ারি ২০২১ | ৮ মাঘ ১৪২৭

আসছে শৈত্যপ্রবাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৩, ২০২০

print
আসছে শৈত্যপ্রবাহ

শীত ধীরে ধীরে জেঁকে বসছে সারা দেশেই। তবে রাজধানীতে এখনো সেই রকম প্রভাব পড়েনি। অবশ্য তাপমাত্রা অনেকটাই কমে গেছে। আর গ্রামাঞ্চলে রাতের বেলা প্রচ- শীত পড়া শুরু হয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিকে বড় ধরনের শৈত্যপ্রবাহ আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। তারা জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ১ থেকে ২টি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে দেশে।

এদিকে গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে তেঁতুলিয়ায় ১১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ কক্সবাজারে ৩২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কয়েকদিনে আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের শেষ দিকে দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে ১ থেকে ২টি মৃদু (৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বা মাঝারি (৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস) শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এ মাসে বঙ্গোপসাগরে ১ থেকে ২টি নি¤œচাপ হতে পারে, যার মধ্যে ১টি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। তবে এটি বাংলাদেশের উপকূলে আসবে না।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে এগিয়ে ও ঘণীভূত হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘বুরেভী’ গতকাল সকাল ৬টায় দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। আজ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

ডিসেম্বর দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মাসে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত হতে পারে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমেই কমতে পারে। তবে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকতে পারে। দেশের নদী অববাহিকায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়তে পারে। নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকবে। দৈনিক গড় সূর্য কিরণকাল ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা থাকতে পারে।

গত অক্টোবর ও নভেম্বরে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ছিল। তবে অক্টোবরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হলেও তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়নি।

আবার নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিলেও তার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়েনি। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের অধিকাংশ মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস ছিল।

আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, এখনো উত্তরের বাতাস তীব্র না হওয়াতে রাতের বেলা শীত অনুভূত হলেও দিনের বেলা সূর্যের তাপের কারণে কম অনুভূত হচ্ছে। তবে চলতি মাসে এর তীব্রতা বাড়বে এবং এক থেকে দুটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। ধীরে ধীরে তাপমাত্রাও কমবে।