ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ শঙ্কায় ভাটি অঞ্চল

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ শঙ্কায় ভাটি অঞ্চল

নিজস্ব প্রতিবেদক ৮:৫২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০২০

print
ব্রহ্মপুত্রে চীনের বাঁধ শঙ্কায় ভাটি অঞ্চল

এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ নদ ব্রহ্মপুত্র, অর্থাৎ ‘ইয়ারলুং জ্যাংবো’ নদীতে বিশাল জলবিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প শুরু করতে যাচ্ছে চীন। বেইজিংয়ের ১৪তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তে চিন্তা বাড়তে পারে ভারতসহ ভাটি অঞ্চলের দেশগুলোর। কারণ ব্রহ্মপুত্রর সমতল যাত্রাপথের অনেকটা ভারতের মধ্য দিয়ে বয়ে নদীর উচ্চগতিতে পরিবর্তন এলে বা কোনো বাধা তৈরি হলে নিম্নগতির পরিবর্তন হতেই পারে। তাতে ব্রহ্মপুত্র-নির্ভর মানুষেরা নানা সমস্যায় পড়তে পারেন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাধা তৈরি হলে পানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারতে। পাশাপাশি বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা। কারণ ভারতের অরুণাচল ও আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্র সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

চীনের পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ইয়ান ঝিইয়ং চীনা সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, নদের নিম্ন গতিপথের শুরুতেই একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। যেটি দেশের একাধিক অংশের মূল পানি সরবাহের উৎস হয়ে দাঁড়াবে। তেমনই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নিরাপত্তাতেও সাহায্য করবে। চীনের শক্তি উৎপাদনের ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে দাবি তার।

তিনি বলেন, দেশের একাধিক অংশের পানি সরবাহের উৎস ছাড়াও এ বাঁধ বিদ্যুৎ সরবরাহে ব্যাপক সাহায্য করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে পানিবণ্টন ব্যবস্থা ও জাতীয় সুরক্ষা বজায় রাখা যাবে। তিনি আরও জানান, বাঁধটি থেকে বছরে ৬ কোটি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা বার্ষিক ৩০০ বিলিয়ন কিলোওয়াট কার্বনমুক্ত ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে এবং বছরে ৩০০ কোটি ডলার আয় হবে।

এর আগে ভারত বারবার চীনের সরকারকে অনুরোধ করেছে, নদীর উচ্চগতিতে যেন এমন কিছু বানানো না হয়, যাতে নিম্নগতির কোনো ক্ষতি হয়। সেই কারণেই ব্রহ্মপুত্র নদের উপর বাঁধ বানানো নিয়ে চিরকালই কৌতূহল প্রকাশ করছে। এর আগেও ব্রহ্মপুত্রের ওপর প্রকল্প তৈরির কথা হয়েছিল।

তিব্বতের পশ্চিমাঞ্চলে হিমালয় পর্বতমালার কৈলাস শৃঙ্গের কাছে জিমা ইয়ংজং হিমবাহে ব্রহ্মপুত্রের উৎপত্তি। এরপর ভারতের অরুণাচল ও আসাম হয়ে ব্রহ্মপুত্র সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।

উল্লেখ্য, একইভাবে ভারতও বাংলাদেশের উজানে বেশ কয়েকটি বাঁধ নির্মাণ করেছে।

ফারাক্কা বাঁধ : রাজশাহী সীমান্তের ১৬.৫ কিলোমিটার উজানে গঙ্গা নদীতে এ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কলকাতা বন্দরের নাব্যতা বৃদ্ধির অজুহাতে ভারত ১৯৫৬ সালে এই প্রকল্প হাতে নেয়।

১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে গঙ্গা প্রশ্নে জরুরি আন্তরিক আলোচনা শুরু করে। ১৯৭২ সালে গঠিত হয় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন (ঔজঈ)। ১৯৭৫ সালে ভারত বাংলাদেশকে জানায় যে, ফারাক্কা বাঁধের ফিডার ক্যানাল পরীক্ষা করা তাদের প্রয়োজন। এসময় পরীক্ষামূলক চালুর কথা বলে ভারত এই বাঁধ আর বন্ধ করেনি।

গজলডোবা (তিস্তা) ব্যারেজ : গজলডোবা বাঁধ স্থাপিত হয়েছে ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর উজানে ভারতীয় অংশে। গজলডোবা বাঁধের (ব্যারাজ) মাধ্যমে তিস্তা নদীর নিয়ন্ত্রণ ভারতের হাতে চলে গেছে। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিস্তা নদীর বাংলাদেশ সীমান্তের ৬০ কিলোমিটার উজানে ভারত সরকার এই বাঁধ নির্মাণ করে।

ভারত এ নদীতে ছয়টি বড় বাঁধ দিয়েছে। এছাড়া ছোট সেচ প্রকল্পের জন্য তিস্তার উপনদীগুলোতে দেয়া হয়েছে আরো অসংখ্য বাঁধ। পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে ৩০টির মতো।