গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ আইন করার পক্ষে মত

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ আইন করার পক্ষে মত

নির্যাতন প্রতিরোধ শীর্ষক সেমিনার

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২৬, ২০২০

print
গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ আইন করার পক্ষে মত

গৃহকর্মীদের অধিকার, সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালাকে আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিল্স) আয়োজিত ‘গৃহশ্রমিকের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতকরণ এবং নির্যাতন প্রতিরোধ : বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এই আইন করার অনুকূলে মত দেন এবং বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। 

জাসদ সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপির সভাপতিত্বে এবং ওয়ার্কার্স পার্টির নগর সম্পাদক আবুল হোসাইনের সঞ্চালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জাতীয় পার্টি নেতা মো. মুজিবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মহিলা শ্রমিক লীগের কার্যকরী সভাপতি শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ও বিল্স-এর নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, অভিনেত্রী দীপা খন্দকার, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেনসহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. মুজিবুল হক বলেন, গৃহশ্রমিকদের একটি বড় অংশ শিশু। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী শিশুদের কোনো ধরনের শ্রমে নিযুক্ত করা যাবে না। যারা শিশুদের গৃহশ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেন তাদের ভাবতে হবে এটা ঠিক করছেন কিনা? তিনি বলেন গৃহশ্রমিকদের জন্য একটি নীতিমালা ২০১৫ সালে প্রণয়ন করা হলেও তারা এখনো নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। গৃহশ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। নীতিমালাকে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য শামসুন্নাহার ভূঁইয়া বলেন, গৃহশ্রমিকরাও আমাদের মতোই মানুষ কিন্তু তাদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে। গৃহশ্রমিকদের নির্যাতন বন্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, গৃহশ্রমিকরা প্রতিনিয়ত আমাদের সহযোগিতা করেন বলেই আমরা যারা বাইরে কাজ করি তা ঠিকমতো করতে পারছি। তারপরও তারা অবহেলিত, নির্যাতিত। নির্যাতনকারীদের আইনের আওতায় এনে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে বলে তিনি জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের মতো গৃহশ্রমিকদেরও নিয়োগপত্র, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা এবং নির্দিষ্ট মজুরি থাকা দরকার।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম খান বলেন, গৃহশ্রমিকদের অধিকারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের স্বাস্থ্যের বিষয়েও সবাইকে সচেতন হতে হবে। জিডিপিতে তাদের যে অবদান তার তুলনায় তারা মর্যাদা পায় না।

সুনীতি প্রকল্পের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর ও অভিনেত্রী দীপা খন্দকার বলেন, গৃহশ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের সব খবর আমরা পাচ্ছি না। অনেক বাসায় তাদের জন্য কাজের এবং থাকার পরিবেশ নেই। তারপরও বাধ্য হয়ে জীবিকার তাগিদে তাদের সেখানে থাকতে হচ্ছে। গৃহশ্রমিকদের অধিকার এবং মর্যাদা নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে।

বিএনপি নেতা ও বিলস্-এর নির্বাহী পরিচালক নজরুল ইসলাম খান বলেন, গৃহশ্রমিকরা সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত। যারা আমাদের জন্য কাজ করেন, কষ্ট করেন তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু দিতে পারছি না। তাদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতিও নেই। বিদেশেও তারা নির্যাতিত হচ্ছেন। গৃহশ্রমিকদের সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আইএলও কনভেনশন-১৮৯ অনুসমর্থন ও গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালাকে আইনে পরিণত করা দরকার।

সারা পৃথিবীতেই নারীরা নির্যাতিত হচ্ছে, হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছে উল্লেখ করে সভাপতির বক্তব্যে শিরীন আখতার এমপি বলেন, শুধু আইন থাকলেই হবে না, গৃহশ্রমিকরা আইনের আশ্রয় এবং প্রশাসনের সহায়তা কতটুকু পাচ্ছেন সেটা দেখা জরুরি। প্রত্যেককে নিজ ঘর থেকে গৃহশ্রমিকদের অধিকার এবং মর্যাদার বিষয়ে সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি এর জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।