‘কাউন্সিলর ইরফানকে আজকের মধ্যেই বরখাস্ত করা হবে’

ঢাকা, সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০ | ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

‘কাউন্সিলর ইরফানকে আজকের মধ্যেই বরখাস্ত করা হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক ৩:০০ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
‘কাউন্সিলর ইরফানকে আজকের মধ্যেই বরখাস্ত করা হবে’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার সমর্থিত কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিমকে কাউন্সিলর পদ থেকে আজকের মধ্যেই সাময়িক বরখাস্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হাজী সেলিমের পুত্র এবং নোয়াখালীর সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর জামাতা।

গত রোববার রাতে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান ও তার বডিগার্ড নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তাকে মারধর করেন। রাতে ঘটনার বিষয়ে একটি জিডি হলেও সোমবার ভোরে হাজী সেলিমের ছেলে ইরফানসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

পরে সোমবার দুপুরে ইরফানকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পুরান ঢাকার তার বাসায় অভিযানও পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩৮টি ওয়াকিটকি, পাঁচটি ভিপিএস সেট, গুলিসহ একটি পিস্তল, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, একটি হ্যান্ডকাফ, একটি ড্রোন এবং সাত বোতল বিদেশি মদ ও বিয়ার উদ্ধার করা হয়।

বাসায় বিদেশি মদ ও অনুমোদনহীন ওয়াকিটকি রাখায় কাউন্সিলর ইরফান সেলিম ও তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদকে এক বছর করে জেল দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। রাতেই তাদের কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ইরফান সেলিমের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘যে কাউন্সিলরের কথা জানতে চাচ্ছেন, সেই অভিযোগটি আমাদের নথিভুক্ত হয়েছে। আমরা প্রসেস করছি। সম্ভবত আইন অনুযায়ী তাকে আজকেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করব।’

তিনি বলেন, ‘তাকে বরখাস্ত করার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে।’

আমরা বলতে পারি আপনারা বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, প্রজ্ঞাপনটা দিয়ে দেবেন- এ বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এক্সাক্টলি।’

অনেক কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ আসে, তারা এক ধরনের মাস্তানিই করেন। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের মনিটরিংয়ের কোনো উদ্যোগ আছে কিনা- জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো শ্রেণি পেশা বা পদ-পদবিকে ভিন্নভাবে বিবেচনা করব না। আমার মনে হয় বাংলাদেশে সকল পেশা সকল পদের লোকজনের মধ্যে ভালো-মন্দের দুই কাজের মিশ্রণ প্রত্যক্ষভাবে লক্ষ্য করি। সব কাউন্সিলর খারাপ কাজ করেন, এটা আমি মনে করি না। কিছু কিছু কাউন্সিলর দৃষ্টিকটু, অনিয়ম এবং অত্যন্ত নিন্দনীয় কাজের সঙ্গে কেউ কেউ কখনও কখনও সম্পৃক্ত হয়নি এটা বলা যাবে না। যেটা হয়েছে তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

কাউন্সিলর ইরফানের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত আমলে নেয়া হবে বলেও জানান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

এদিকে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যার হুমকির মামলায় ইরফান সেলিমকে সাতদিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডি থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকরাম আলি মিয়া।