কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন ইরফান সেলিম

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন ইরফান সেলিম

নিজস্ব প্রতিবেদক ১১:৩৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০২০

print
কাউন্সিলর পদ হারাচ্ছেন ইরফান সেলিম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম বরখাস্ত হচ্ছেন। তিনি সরকারদলীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিমের ছেলে। ২৬ অক্টোবর, সোমবার অবৈধ ওয়াকিটকি ও মাদক রাখার দায়ে মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ও তার দেহরক্ষী মো. জাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

২৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার (আজ) সকালে এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তিনিই যত বড় ক্ষমতার অধিকারী হোন না কেন। ইরফান সেলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করাসহ তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগেও এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকার বরাবরই আইনের শাসনে বিশ্বাসী। সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় সবকিছুই করব।’

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ জানান, অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার দায়ে ছয় মাস এবং মাদক রাখা ও সেবনের দায়ে ছয় মাস করে মোট এক বছর কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। এ ছাড়া তার কক্ষ থেকে লাইসেন্সবিহীন বিদেশি অস্ত্র, একটি একনলা বন্দুক, একটি ব্রিফকেস, মদ ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার দুপুর থেকে চকবাজারের ‘চাঁন সরদার দাদা বাড়ী’ ঘিরে রাখেন র‍্যাব ও পুলিশ সদস্যরা। পরে তারা বাসায় প্রবেশ করেন। ২৬ দেবীদাস ঘাট লেনের বাড়িটি ঢাকা-৭ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের।

উল্লেখ্য, রোববার রাতে এমপি হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ‘সংসদ সদস্য’ লেখা সরকারি গাড়ি থেকে নেমে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধর করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান সিগন্যালের পাশে এ ঘটনা ঘটে। রাতে এ ঘটনায় জিডি হলেও আজ (সোমবার) ভোরে হাজী সেলিমের ছেলেসহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়, এরফানের গাড়ি ওয়াসিফকে ধাক্কা মারার পর তিনি সড়কের পাশে মোটরসাইকেলটি থামিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান এবং নিজের পরিচয় দেন। তখন গাড়ি থেকে আসামিরা একসঙ্গে বলতে থাকেন, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বের করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বের করতেছি। তোকে এখনি মেরে ফেলব’ বলে কিল-ঘুষি মারেন এবং আমার স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।

সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়, তারা আমাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে যায়। পরে আমার স্ত্রী, স্থানীয় জনতা এবং পাশে ডিউটিরত ধানমন্ডি থানার ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তা আমাকে উদ্ধার করে আনোয়ার খান মডেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

মামলায় মোট পাঁচটি ফৌজদারি অপরাধের ধারার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অপরাধগুলো হলো- দণ্ডবিধি ১৪৩ অনুযায়ী বেআইনি সমাবেশের সদস্য হয়ে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে বল প্রয়োগ করা, ৩৪১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে অবৈধভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, ৩৩২ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাধাদানের উদ্দেশ্যে আহত করা, ৩৫৩ ধারা অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তার ওপর বল প্রয়োগ করা এবং ৫০৬ ধারায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার।