মূল্য নির্ধারণ করেও কাটছে না অস্থিরতা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

মূল্য নির্ধারণ করেও কাটছে না অস্থিরতা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৫:৪৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৪, ২০২০

print
মূল্য নির্ধারণ করেও কাটছে না অস্থিরতা

আলু বিশ্বের অন্যতম প্রধান ফসল। উৎপাদনের দিক থেকে ধান, গম ও ভুট্টার পরেই চতুর্থ স্থানে আলু। বাংলাদেশে আলু একটি গুরুত্বপূর্ণ ফসল। দেশের সর্বত্রই এর চাষ হয়ে থাকে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারজাতকরণের জন্য কিছু জেলায় এর চাষ ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে আলু সাধারণত সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন তরকারির সাথে খেতে খুবই মুখরোচক। প্রক্রিয়াজাত আলু বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। পৃথিবীর অন্তত ৪০টি দেশে আলু মানুষের অন্যতম প্রধান খাদ্য। আলু একটি স্বল্পমেয়াদি উচ্চফলনশীল ফসল যা জমির স্বল্পতাহেতু বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করতে পারে।

আজ সেই সবজি আলুর মূল্য মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়ে পড়েছে। একটা সময় হরতাল-অবরোধ, পরিবহণ ধর্মঘট, বন্যা, প্রাকৃতিক দুযোগ বিভিন্ন কারণে নিত্যপণ্য দ্রব্যের মূল্যে বৃদ্ধি পেত। অথচ এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকতে যা প্রয়োজন সেই সব কিছু বিরাজমান থাকার পরও দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধি পাওয়া একটি ব্যবসায়িক ফ্যাশনে পরিণত। ইচ্ছে হলেই মূল্যবৃদ্ধি করা যাচ্ছে অনায়াসে। অথচ সিন্ডিকেট চক্রটি যখন আলুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল। তখনই বাজার মনিটরিং ও হিমাগারগুলোতে নজরদারি বাড়িয়ে সরবরাহ ঠিক রাখতে পারলে আলুর দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতো না।

মোটাদাগে বলতে গেলে আলুর দাম বেধে দিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত। এটা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা। এতে গুটি কয়েক ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট করে আলু থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

চাহিদার তুলনায় যোগানের খুব একটা ঘাটতি নেই তবুও যেন থমছে আছে সবজির বাজার। সপ্তাহের ব্যবধানে ফের দাম বেড়েছে অধিকাংশ সবজির। সবজিভেদে দাম বেড়েছে পাঁচ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত।

এদিকে, আলুর বাজারের অস্থিরতা কাটাতে সরকার দুই দফা মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও বাজারে এখনও কার্যকর নেই নির্ধারিত মূল্য। সরকার নির্ধারিত ৩৫ টাকার পরিবর্তে বিক্রেতারা আলু বিক্রি করছেন ৪৫ টাকা কেজি দরে।

খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, পাইকাররা এখনও ৩৫/৩৬ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করছেন, খুচরায় কীভাবে ৩৫ টাকায় আলু বিক্রি হবে? প্রতি কেজিতে খরচ আছে আরও পাঁচ টাকা।

অন্যদিকে আড়তদাররা বলছেন, কোল্ড স্টোর থেকে সরকার নির্ধারিত দামে আলু ছাড়ছে না। সেখান থেকে নির্ধারিত মূল্যে আলু ছাড়লে আমরাও কম দামে ছাড়তে পারি।

বর্তমানে বাংলাদেশ আলু হেক্টরপ্রতি গড় ফলন মাত্র ১১ টন। আলুর উৎপাদন ২০ টন পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব। ফলন বাড়লে উৎপাদন খরচ কমে আসবে। ভাতের বদলে আলু খেলে চালের ওপর বাড়তি চাপ কমে আসবে। বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ভাতের বদলে যদি আলু মাঝে মাঝে খাওয়া হতো তাহলে চালের ওপর নির্ভরতা অনেক কমে যেত।