৬২০ কোটি টাকায় স্পিডবোট কেনার তোড়জোড়

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

৬২০ কোটি টাকায় স্পিডবোট কেনার তোড়জোড়

জাফর আহমদ ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ১৫, ২০২০

print
৬২০ কোটি টাকায় স্পিডবোট কেনার তোড়জোড়

সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি। করোনা মোকাবিলার জন্য বাড়তি খরচ। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করতে হয়েছে। এ অবস্থায় কৃচ্ছ্র সাধানের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলাসী বা যানবাহন ক্রয় করা যাবে না। এর মধ্যেই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৬২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৪টি জলযান কেনার তোড়জোড় শুরু করেছে। কৃচ্ছ্রতা সাধানের মেয়াদ শেষ হতে তিন মাস আগেই এ সব জলযান কেনার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন চাওয়া হয়।

জানা গেছে, ডিসট্রিক্ট ম্যানেজমেন্ট এনহ্যাসমেন্ট প্রজেক্টের কম্পোনেন্ট ২ ও ৩ শীর্ষক প্রকল্পের জন্য ৬২০ কোটি ২২ টাকা বরাদ্দ আছে। এর মধ্যে প্রকল্প সাহায্য ৪৬২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এবং রাজস্ব থেকে বরাদ্দ আছে ১৫৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালর ১ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় ১২ জেলা প্রশাসন অফিসের ব্যবহারের জন্য ১২টি রেসকিউ স্পিড বোট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের জন্য ৪২টি রেসকিউ স্পিড বোট রয়েছে।

অর্থবিভাগের চলতি বছরের ৮ জুলাইয়ের এক ঘোষণা অনুযায়ী কোভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সরকারের কৃচ্ছ্রতা সাধন নীতির আলোকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও অনান্য প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ও উন্নয়ন ব্যয়ের আওতায় সকল প্রকার নতুন বা প্রতিষ্ঠাপক হিসাবে যানবাহন কেনা বন্ধ থাকবে। করোনা মহামারী শুরু হওয়ার পর থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, করোনা প্রতিরোধের জন্য কেনাকাটার খরচ বৃদ্ধি, সামাজিক নিরাপত্তামূলক কার্যক্রমে সরকারের কার্যক্রম জোরদারের কারণে আয়ের চেয়ে ব্যয় বেড়ে গেছে। একই সময়ে সরকারের দেশি-বিদেশি পূর্বের বিভিন্ন ধরনের ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধ করা লাগছে। কিন্তু আশানুরূপ রাজস্ব আদায় না হওয়ার কারণে বাণিজ্য ব্যাংক থেকে ঋণ করা লাগছে। সঞ্চয়পত্র বিক্রি করেও অর্থ সংগ্রহ করা লাগছে সরকারকে। দিন দিন এ ঋণের দায় বড় হচ্ছেই। এ সব বিষয় সামনে রেখে সরকার নতুন কবা পুরাতন গাড়ির বিপরীতে গাড়ি কেনা আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। এরই মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এই কেনাকাটার তোড়জোড় শুরু করেছে।

করোনাকালে এ ধরনের যানবাহন কেনার পক্ষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে যুক্তি দেখানো হচ্ছে, প্রস্তাবিত ৫৪টি জলযান বিশেষ ধরনের যানবাহন যা দুর্যোগকালীন মানুষের জানমাল ও সম্পত্তি রক্ষার্থে ব্যবহৃত হবে। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় প্রতিবছরে সাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। এ সব দুর্যোগ সময়ে প্রয়োজনীয় যানবাহন ও জলযানের অভাবে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হয়। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে এ সব কেনাকাটার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

করোনা মহামারীর কারণে বিগত ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারকে ঘাটতি বাজেট সামাল দিতে হয়। করোনা মহামারীর পুরো অভিঘাত নিয়ে নতুন বছর ২০২০-২১ শুরু হয়। এ সময়ে রাজস্ব আদায়ে করোনার ছাপ ইতোমধ্যে ফুটে উঠেছে। চলতি অর্থবছরে বাজেটে সরকার অভ্যন্তরীণ খাত থেকে এক লাখ ৯ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে ৮৪ হাজার ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে সঞ্চয়পত্র বিক্রি ও অন্যান্য ব্যাংকবহির্ভূত খাত থেকে মোট ২৫ হাজার কোটি টাকা নিতে চায় সরকার।

সেপ্টেম্বর মাস শেষে তিন মাসের ব্যবধানে বাণিজ্যিক খাতের ব্যাংক থেকে সরকারে ঋণ বেড়েছে ২৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা। সেই সাথে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকারের অর্থ সংগ্রহ অব্যাহত আছে। করোনা পরিস্থিতি পুরো অর্থবছর ধরে অব্যাহত থাকলে রাজস্ব আদায়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছতে পারবে না। এর মধ্যে এ ধরনের যানবাহন কেনার বিষয়টি অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যে পৌঁছানো কঠিন হবে।