১৩ দেশ থেকে আসছে পেঁয়াজ

ঢাকা, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২০ | ১১ কার্তিক ১৪২৭

১৩ দেশ থেকে আসছে পেঁয়াজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ০১, ২০২০

print
১৩ দেশ থেকে আসছে পেঁয়াজ

গত ১৪ সেপ্টেম্বর কোনো ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয় ভারত। এতে সারা দেশে পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেয় দেশে অসাধু ব্যবসায়ীরা। পরে পেঁয়াজের সংকট নিরসনে আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে বিকল্প দেশ থেকে সমুদ্রপথে পেঁয়াজ দেশে আসতে শুরু করেছে। বিকল্প ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) নিয়েছেন দেশের আমদানিকারকরা। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনটেইনারে এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে ২৫৮ টন। আর বহির্নোঙরে সাগরে রয়েছে আরও বেশ কয়েকটি চালান। ভারত রপ্তানি বন্ধের ১৬ দিনের মাথায় এসব পেঁয়াজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছল।

উদ্ভিদ সংগনিরোধ দফতরের হিসাবে, রপ্তানি বন্ধের পর ভারতের বদলে বিকল্প ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি (আইপি) নিয়েছেন দেশের আমদানিকারকরা। অনুমতি নেওয়া মানেই সব পেঁয়াজ দেশে আসবে তার অবশ্য নিশ্চয়তা নেই। কৃষিপণ্য আমদানির জন্য প্রথম ধাপের অনুমতিপত্র নিতে হয় কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্র থেকে।

ঢাকা উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক কৃষিবিদ আজহার আলী বলেছেন, এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আমদানিকারক মোট ১৩ দেশ থেকে পৌনে সাত লাখ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি নিয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে যেহেতু এসব পেঁয়াজ আমদানি হবে তাই বন্দরসংশ্লিষ্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ দফতর থেকে রিলিজ অর্ডার নিয়ে সেগুলো বন্দর থেকে ছাড় করা হবে।

জাহাজ থেকে নামার পর ২৫৮ টনের মধ্যে গত সোমবার প্রথম চালানে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৫৪ টন ছাড় নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের কায়েল ট্রেডার্স এনেছে মিয়ানমার থেকে। সেগুলো এরই মধ্যে খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। আর দ্বিতীয় চালানে পাকিস্তান থেকে আনা ১৬ টন পেঁয়াজ গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ছাড় করা হয়েছে। সেগুলো এনেছে চট্টগ্রামের প্রতিষ্ঠান গ্রিন ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে নামানো বাকি পেঁয়াজও ধাপে ধাপে ছাড় নিচ্ছেন আমদানিকারকরা।

প্রথম চালান খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে পৌঁছার বিষয় নিশ্চিত করেছেন খাতুনগঞ্জ কাঁচা পণ্য আড়ৎদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ২৭ টন পেঁয়াজ খাতুনগঞ্জে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে, বাকি ২৭ টন চট্টগ্রামের অন্য জেলায় সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। তবে এখনকার পেঁয়াজ ভারতের পেঁয়াজের তুলনায় ফ্রেশ থাকায় মুহূর্তেই বিক্রি শেষ হয়েছে। দাম ছিল কেজি ৭০ টাকা। বর্তমানে ভারতের পেঁয়াজও মানভেদে ৬৪ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পরিমাণে কম বলে বাজারে এখনো এর প্রভাব পড়েনি। তবে সরবরাহ বাড়লে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে নিশ্চিত।

আমদানিকারক ট্রেড ইমপেক্সের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, আমার ২৫০ টনের পেঁয়াজ চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছবে ৩ অক্টোবর। দ্রুততার সঙ্গেই আমরা পেঁয়াজ আমদানি করেছি। ছোট ছোট আমদানিকারকরা যে গতি নিয়ে আমদানি করে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সেটি অব্যাহত রেখেই বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। এ জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখা উচিত।

চট্টগ্রাম উদ্ভিদ সংগনিরোধ দফতরের উপ-পরিচালক ড. আসাদুজ্জামান বুলবুল বলেন, গত সোমবার মিয়ানমার থেকে আনা ৫৪ টন এবং গতকাল মঙ্গলবার পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১৬ টন পেঁয়াজ বন্দর থেকে ছাড়ের জন্য রিলিজ অর্ডার ইস্যু করেছি। আশা করছি ধাপে ধাপে বাকি আমদানিকারকরাও রিলিজ অর্ডার নেওয়া শুরু করবেন।

চট্টগ্রাম বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এ মুহূর্তে ২৫৮ টন পেঁয়াজ জাহাজ থেকে নামিয়ে ইয়ার্ডে রাখা আছে। সেগুলো ছাড়ের অপেক্ষায় আছে। বহির্নোঙরে জাহাজে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আছে তার হিসাব আমাদের কাছে নেই। তবে আমদানিকারকদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জাহাজেও প্রচুর পেঁয়াজের কনটেইনার আছে।