কক্সবাজার পুলিশে চমক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

মেজর সিনহা হত্যা মামলা

কক্সবাজার পুলিশে চমক

শুক্রবার বদলি ১৩৪৭ সদস্য, আসবে নতুন টিম, স্বাভাবিক নিয়মে রদবদলের দাবি

কক্সবাজার প্রতিনিধি ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২০

print
কক্সবাজার পুলিশে চমক

কক্সবাজার জেলা পুলিশকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। এজন্য কর্মকর্তা থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত সবাইকে বদলি করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত বদলির আদেশ পাওয়া পুলিশ সদস্যের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩৪৭ জনে। এর মধ্যে রয়েছেনÑপুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ আট শীর্ষ কর্মকর্তা, ৫৩ জন পরিদর্শক, ১৩৯ জন উপ-পরিদর্শক (এসআই), ৯২ জন সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), এক হাজার ৫৫ জন নায়েব ও কনস্টেবল। পুলিশ সদর দফতর থেকে গতকাল এ বদলি করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার বদলি করা হয় ৫৩ জন পরিদর্শককে। এদিকে কক্সবাজারে শূন্যপদ পূরণে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি কার্যালয়ে যোগ দিচ্ছেন ৫৩ জন পুলিশ পরিদর্শক, ২১৫ জন এসআই-এএসআই এবং ৭৩৪ জন কনস্টেবল।

‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান নিহতের পর কক্সবাজার জেলায় পুলিশ বাহিনীতে এ রদবদল হচ্ছে। দীর্ঘদিন কক্সবাজারে কর্মরত সবাইকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

কক্সবাজার পুলিশের বদলির খবর এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, দেশে এ ধরনের নজিরবিহীন ঘটনা এর আগে ঘটেনি যে, একসঙ্গে এত পুলিশ বদলি হয়েছে।

নবাগত পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, কক্সবাজার জেলার পুরো পুলিশ বাহিনীতে পরিবর্তন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে বদলি হওয়া সদস্যরা ছাড়পত্র নেবেন এবং নিয়োগকৃতরা যোগদান করবেন। তিনি বলেন, আমি পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন এসেছি। বদলির অর্ডার হয়েছে ধাপে ধাপে। তবে তা খুবই অল্প সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে। পুলিশ সুপার জানান, জেলার আটটি থানার পুরো টিম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ সদর দফতর। তিনি অবশ্য মনে করেন, এসব বদলি পুলিশ প্রশাসনের রুটিন কাজের একটি অংশ।

সিনহা হত্যাকা- নিয়ে সমালোচনার মধ্যে কক্সবাজারের আগের পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেনকে গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়। তার জায়গায় হাসানুজ্জামানকে নিয়ে আসা হয় ঝিনাইদহ থেকে। নতুন পুলিশ সুপার হাসানুজ্জামান গত বুধবার কক্সবাজারে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর বদলি করা হয় অপর সাত পুলিশ কর্মকর্তাকে। যার মধ্যে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার, সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলামকে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কক্সবাজার সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রেজওয়ান আহমেদকে গাজীপুর জিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার এবং মহেশখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রতন কুমার দাশ গুপ্তকে চট্টগ্রাম নবম এপিবিএনের সহকারী পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার বাবুল চন্দ্র বণিককে চট্টগ্রাম আরআরএফের সহকারী পুলিশ সুপার, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলামকে নোয়াখালীর সহকারী পুলিশ সুপার এবং ডিএসবির সহকারী পুলিশ সুপার মো. শহিদুল ইসলামকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসবে বদলি করা হয়েছে।

এদের পরিবর্তে পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রফিকুল ইসলামকে কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), পুলিশ হেড কোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মামুন আল ইসলামকে কক্সবাজার সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার পংকজ বড়ুয়াকে কক্সবাজার সদরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার মো. জাহেদুল ইসলামকে মহেশখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার, চট্টগ্রামের সহকারী পুলিশ সুপার কাজি শাহবুদ্দিন আহমেদকে কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার ট্রাফিক, র‌্যাবের সহকারী পুলিশ সুপার মো. তফিকুল ইসলামকে চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার এবং খাগড়াছড়ির সহকারী পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম শাহনেওয়াজকে ডিএসবি কক্সবাজারের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।