৯৩৭ দ্বৈত ভোটারের নামে মামলা

ঢাকা, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

৯৩৭ দ্বৈত ভোটারের নামে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক ৯:৪৯ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

print
৯৩৭ দ্বৈত ভোটারের নামে মামলা

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি বন্ধে এবং নাগরিকদের এ সেবাটি সহজে দেওয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ বিষয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন মিটিংয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের (এনআইডি উইং) মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সাইদুল ইসলাম বলেন, এনআইডি উইংয়ে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য আমরা ২০১৭ সাল থেকে কাজ করে আসছি। এ বিষয়ে আমরা একটি প্রস্তাবনা পেশ করব। 

অনৈতিক কাজ করলে কাউকেই ছাড়া দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বা এনআইডি উইংয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ হোক এটা আমরা কিছুতেই চাই না। এনআইডি জালিয়াতিতে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ইতিমধ্যে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। সম্প্রতি ঢাকায় এনআইডি জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত আইডিইএ প্রকল্পের আউটসোর্সিং ডাটা এন্ট্রি অপারেটর দুজনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া বিভিন্ন অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ৮ বছরে সর্বমোট ৩৯ জনকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত এবং কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। আমরা কোনো জালিয়াতকেই ছাড় দেব না। অনৈতিক কাজের সঙ্গে সম্পৃক্তদের শুধু চাকরি থেকে বহিষ্কারই নয়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ীও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব কর্মচারি-কর্মকর্তা গোয়েন্দা নজরদারিতে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেখানে যেখানে এনআইডি সেবা দেওয়া হবে। সব জায়গা পর্যায়ক্রমে সিসি টিভির আওতায় আনা হবে।

গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়। এখন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনলাইনে ভোটার করার কার্যক্রম হাতে নেওয়ার পর পরই করোনা মহামারী দেখা দেয়। তারপর এখন পর্যন্ত মালয়েশিয়া থেকে ৪৮, সৌদি আরব থেকে ৩৯, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৫৩০ এবং যুক্তরাজ্য থেকে ১২১ জন, চার দেশ থেকে মোট ৭৩৮ জন প্রবাসী বাংলাদেশির অনলাইনে ভোটার হতে আবেদন করেছেন।

প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় ফি নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রবাসীরাও এই সেবা টাকা দিয়ে নিতে চান। তারা বলেন, আমরা ফ্রি কিছু চাই না। এটি আমরা টাকা দিয়েই নিতে চাই। এ বিষয়ে আলাপ আলোচনা চলছে। তবে এর জন্য খুব বেশি ফি ধরা হবে না। আর এই ফির টাকা কমিশনের ফান্ডে যাবে না। এই টাকা সরকারের রাজস্ব খাতে জমা হবে। আগামী ২৮ তারিখে কমিশন সভায় বিষয়টি আলোচনায় রাখা হয়েছে। সেখানেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

স্মার্টকার্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনআইডির মহাপরিচালক বলেন, প্রথম ফ্রান্সের একটি কোম্পানির সঙ্গে স্মার্টকার্ডের জন্য চুক্তি করা হয়েছিল। পরে তাদের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। আমরা চাই দেশেই স্মার্টকার্ড উৎপাদন করতে। ৯টি দেশ থেকে আমাদের আমাদের দেশ থেকে স্মার্টকার্ড নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে। আমরা স্মার্টকার্ড আমদানি করবো না, আমরা দেশ থেকে স্মার্টকার্ড রপ্তানি করবো।

এনআইডি জালিয়াতির বিষয়ে তিনি আরও বলেন, দেশব্যাপী এনআইডি কার্যক্রম তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান চলবে। ঢাকা জেলায় সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট চারটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ঢাকার প্রত্যেক থানায় অভিযান চালানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী ১০টি টিমের মাধ্যমে সাঁড়াশি ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হবে। এই অভিযান নিয়মিত চলবে। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানো নির্বাচন কমিশনের একার কাজ নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি নিয়ে বিশেষ কমিটি কাজ করছে। সমন্বয়ের মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমরা নজরদারি বাড়িয়েছি। ইসির কর্মকতাদেরও নজরদারি করা হচ্ছে। আর এনআইডি নিতে যেসব দলিল লাগে সেগুলো কিভাবে রোহিঙ্গারা পায় তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রায় ১০ লক্ষাধিক রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক তথ্যসহ আলাদা রোহিঙ্গা ডাটাবেজ স্থাপন করা হয়েছে। অবৈধভাবে রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি অনুসন্ধানে একটি টিম পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধান টিমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্তের জন্য ৮ সদস্য বিশিষ্ট একটি কারিগরি কমিটি এবং একটি প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতের বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের প্রতিনিধি রয়েছে। অধিকতর তদন্তের সুবিধার্থে একজন যুগ্মসচিবের নেতৃত্বে প্রশাসনিক কমিটি গঠন করা হয়। উভয় কমিটিতে বহিঃসংস্থার সদস্য অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

দ্বৈত ভোটার নিবন্ধন রোধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানিয়ে তিনি বলেন, দ্বৈত ভোটার পাওয়া গেলে প্রাথমিকভাবে বিধি মোতাবেক প্রথমটি রেখে পরবর্তী ভোটার তথ্য ব্লক করে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্যমূলকভাবে তথ্য গোপন করে দ্বৈত ভোটার হওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ইতিমধ্যে ৯২৭ জনের এনআইডি লক করাসহ ভোটার তালিকা আইন নির্বাচন কমিশন ফৌজদারি মামলা দায়ের করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়াও এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী দায়িত্বে অবহেলার বিপরীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দ্বৈত ভোটার হওয়ার পর কেউ যদি ভুল হয়েছে বা ক্ষমা চেয়ে আবেদন করে সেক্ষেত্রে তার বিষয় কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ২ লাখ ৭ হাজার দ্বৈত ভোটার শনাক্ত করেছি। সবার বিষয়গুলো আমরা অবজার্ভ করছি। আমরা দেখছি উদ্দেশ্য কি ছিলো। তবে আমরা সবার বিরুদ্ধে মামলা করিনি, করবও না। যারা উদ্দেশ্যমূলকভাবে এটি করেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করব। তবে কেউ যদি সে বিষয়ে কমিশনে আবেদন করে, সেটি আমরা কমিশন সভায় উপস্থাপন করবো। যাচাই-বাছাই করে কোন উদ্দেশ্যে তারা এটি জেনে কমিশন ব্যবস্থা নেবো।

যারা দ্বৈত হয়েছে আমরা তাদের নোটিফাইড করছি। এসএমএসের মাধ্যমেও তাদের জানিয়ে দিচ্ছি। তবে সবার মোবাইল নাম্বার না থাকায় উপজেলা নির্বাচন অফিসের মাধ্যমে তাদের অবহিত করার ব্যবস্থা করছি।

২৬ এপ্রিল থেকে ৩৫.১৫ লাখ নাগরিক অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেছেন, ২৫.৩৫ লাখ নাগরিক নিজে নিজে এনআইডি ডাউনলোড, ১.১৩ লাখ নাগরিক নিবন্ধন এবং ৪১ হাজার নাগরিক হারানো এনআইডি তোলার জন্য আবেদন করেছেন বলেও জানান তিনি।