প্রবাসীদের এনআইডিতে ফি নেওয়ার চিন্তা ইসির

ঢাকা, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২০ | ১০ কার্তিক ১৪২৭

প্রবাসীদের এনআইডিতে ফি নেওয়ার চিন্তা ইসির

মো. হুমায়ূন কবীর ১২:১৭ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২০

print
প্রবাসীদের এনআইডিতে ফি নেওয়ার চিন্তা ইসির

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের হাতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তুলে দিতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে অনলাইনে প্রবাসীদের ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এবার এনআইডি সেবা কীভাবে দেওয়া যায় আর এজন্য কী পরিমাণ নেওয়া যায়- সে বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। কমিশনের আগামী সভার এজেন্ডায়ও বিষয়টি যুক্তি করা হয়েছে। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ইসি সূত্র জানায়, প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে এনআইডি সংক্রান্ত কোনো ভোগান্তিতে না পড়েন, সেজন্য কমিশন কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে তাদের অনলাইনে ভোটার হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। এখন এনআইডি সেবাটি কত সহজে এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাদের হাতে তুলে দেওয়া যায়, সে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। কারণ প্রবাসীরা খুব অল্প সময়ের ছুটিতে বাড়ি আসেন। এ সময় তাদের নানা ধরনের ব্যক্তিগত ও সামাজিক কাজ থাকে। তাই দেশে এসে প্রবাসীদের এনআইডি সংক্রান্ত কোনো ভোগান্তি যাতে না হয়, সেজন্য কাজ করে যাচ্ছে কমিশন।

জানা যায়, আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর কমিশনের ৭১তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় অন্য এজেন্ডার মধ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা প্রদানে ফি নির্ধারণ নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির আইন সংস্কার কমিটির সভাপতি ও নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেন, আমরা প্রবাসীদের জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা দেওয়ার বিষয়টি ভাবছি। এজন্য ফি কত নির্ধারণ করা যায়, সেটি আলোচনা করা হচ্ছে। এটি চূড়ান্ত নয়। এ বিষয়ে একেবারে প্রাথমিক আলোচনা চলছে। আগামী কমিশন সভায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে।

প্রবাসীদের এনআইডি সেবায় ফি নিধারণ করতে হলে বিষয়টি আইন বা বিধিতে যুক্ত করতে হবে কি না বা আইন সংস্কারের প্রয়োজন হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন বা বিধির কোথাও না কোথাও বিষয়টি অবশ্যই যুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে যেহেতু প্রাথমিক আলোচনা চলছে, তাই আগে দেখতে হবে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।

২০০৮ সাল থেকে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও নাগরিকদের এনআইডি দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর সে সময়ের দুই নির্বাচন কমিশনার প্রবাসীদের ভোটার করার ও ভোট নেওয়ার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বিদেশও সফর করেন।

এর ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালে ভোটার তালিকা আইন সংশোধন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের ভোটার তালিকায় এনে তাদের ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া। কিন্তু তা না হওয়ায় এবং দেশে না ফিরে জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যদিও কমিশন মাঠপর্যায়ে প্রবাসীদের ভোটার করা বা এনআইডি সেবা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়ার জন্য বারবার নির্দেশনা দিয়েছে। অবশেষে গত বছরের ৫ নভেম্বর থেকে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা শুরু হয়।

এখন প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটাররা ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারছেন। আর এজন্য তাদের বৈধ পাসপোর্ট, বিদেশি পাসপোর্টধারী হলে দ্বৈত নাগরিকত্বের সনদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্র, শনাক্তকারী প্রবাসী বাংলাদেশির পাসপোর্টের কপি, সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

২০০৮ সালে ছবিসহ ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও এনআইডি সংক্রান্ত সব সেবা ফ্রি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রাথমিকভাবে ভোটার নিবন্ধন ও প্রথমবার ফ্রিতে এনআইডি দিলেও ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে এনআইডি সংশোধন করতে, এনআইডি নষ্ট হলে পুনরায় তুলতে বা হারানো এনআইডি সেবা নিতে হলে নাগরিকদের ফি দিতে হচ্ছে। সর্বশেষ ভোটার তালিকা হালনাগাদের তথ্য অনুযায়ী, ইসির তালিকায় ১০ কোটি ৯৮ লাখ ১৯ হাজার ১১২ জন ভোটার রয়েছে। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৫ কোটি ৫৪ লাখ ৮২ হাজার ৫৩০ জন, নারী ভোটার ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ২২২ জন এবং হিজড়া ভোটার ৩৬০ জন।