করোনায় বিদেশ ফেরতদের প্রশিক্ষণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০ | ৭ কার্তিক ১৪২৭

করোনায় বিদেশ ফেরতদের প্রশিক্ষণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ৭:০১ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২০

print
করোনায় বিদেশ ফেরতদের প্রশিক্ষণের নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

দেশে ফিরে আসা অভিবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিক‌‌দের এ তথ্য জানান। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্প’ অনুমোদনের সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশেই নয় বিদেশ থেকে ফিরে যারা এসেছে কোভিটের জন্য বা অন্য কারনে তাদেরকেও ট্রেনিং দেন। যাতে করে তারা আবার ফিরে যেতে পারে। ট্রেনিং দেন তারা যেন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবার ফিরে যেতে পারে।

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ‘৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন (প্রথম সংশোধন)’ প্রকল্প। এতে খরচ হচ্ছে ৩৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্না বলেন, আমদের সরকারের সিদ্ধান্ত আছে সকল উপজেলায় টেকনিক্যাল ইনিস্ট্রিটিউট করতে হবে। পরর‌্যয়ক্রমে এটা করা হবে। আমাদের বহু লোক বিদেশে কাজ করে। আমাদের অন্যতম প্রধান বৈদেশিক আয়ের উৎস প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ। প্রশিক্ষণ নিয়ে গেলে বিদেশ তারা কাজ পাবে।মধ্যমানের টেকনিক্যাল লোক তৈরী আমাদের । এটা করবে আমাদের প্রবাসীকল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণায়ল ।

প্রধানমন্ত্রীর অন্য নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় রাস্তা নির্মাণ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, নিজের বাড়ির সামনে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রাস্তা নির্মাণ বা প্রশস্তকরণ করার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। কৃষিজমি রক্ষায় নতুন রাস্তার চেয়ে বিদ্যমান রাস্তা সংস্কারে জোড় দিতে হবে। এছাড়া ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে খাঁচায় অন্যান্য মাছচাষের জন্য প্রশিক্ষণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।’

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর প্রথম মন্তব্য ছিল জামালপুরের সড়ক নিয়ে। সড়ক নির্মাণ ভালো। মেনটেন্যান্স আরও ভালো। তিনি বলেছেন, একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হবে। শুধু নির্মাণ করলে হবে না। আমাদের আর্থিক সক্ষমতা, টেকনিক্যাল সক্ষমতারও মাপজোখ রাখতে হবে।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও জানান, যাদের অল্প জমি রয়েছে এবং সেই জমিতে বাড়িঘর করে থাকছে, সেসব জমি অধিগ্রহণ থেকে যতটা সম্ভব বিরত থাকতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

ইলিশ উন্নয়নসহ একনেকে ৫ প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)। এগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৬৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সরকারি তহবিল থেকেই এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো:

জামালপুর জেলার দিগপাইত-সরিষাবাড়ি- তারাকান্দি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৭৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৭৩টি কম্পোজিট আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট নির্মাণ প্রকল্পে খরচ হবে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ৮টি সরকারি শিশু পরিবারে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট শান্তি নিবাস প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। এছাড়া ৪০টি উপজেলায় ৪০টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চট্টগ্রামে একটি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি স্থাপন প্রকল্পের ব্যয় ধরা হবে ৩৩৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আর ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪৬ কোটি টাকা।