করোনায় ট্রেনে যাত্রী কম

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯ কার্তিক ১৪২৭

করোনায় ট্রেনে যাত্রী কম

তোফাজ্জল হোসেন ১০:৫৭ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

print
করোনায় ট্রেনে যাত্রী কম

করোনা পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী কমেছে। সব লাইনে ট্রেন চালু হলেও আগের মতো যাত্রী মিলছে না।

রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকার নির্দেশিত উপায়ে ও বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে রেলওয়ে সব ট্রেন চালু করেছে। প্রথম কয়েকটা দিন ট্রেনে যাত্রী সংকট ছিল। এখন কিছু বৃদ্ধি পেলেও তা আগের মতো নয়। সার্বিক অর্থে ট্রেনের যাত্রী কমে গেছে। এতে আগের মতো টিকিট সংকট ও যাত্রীর হুড়োহুড়ি নেই। 

কমলাপুর রেলওয়ের স্টেশন ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম গতকাল রোববার সন্ধ্যায় দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, করোনার কারণে দীর্ঘদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়। গত জুন মাসে সীমিত আকারে চালু হওয়ার পর থেকে আগের মতো যাত্রী মিলছে না। তিনি বলেন, এখন সব ট্রেন চলাচল করছে। কিন্তু ট্রেনে যাত্রীর চাপও নেই।

করোনা পরিস্থিতিতে যারা গ্রামেগঞ্জে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন তারা নগরীতে ফিরছেন না। আর অপ্রয়োজনে মানুষ ভ্রমণও করছেন না।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গতকাল গাইবান্ধাগামী যাত্রী মশিউর রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রথম দিকে মুখে মাস্ক নিশ্চিত করে এবং ব্লিচিং পাউডারে ভেজানো পাপোসে পা ঘষে পাদুকা জীবাণুমুক্ত করার পর শরীরের তাপমাত্রা মেপে ট্রেনের বগিতে যাত্রী তোলা হতো। হাতে স্যানিটাইজার মেখে স্টেশনে প্রবেশ করানো হতো। বর্তমানে এ নিয়মের বালাই নেই। বিশেষ বিশেষ ট্রেনে যাত্রীদের মুখে মাস্ক রয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক শামসুজ্জামান দৈনিক খোলা কাগজকে বলেন, সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত সব ধরনের কাজ সচেনতার সঙ্গেই করা হচ্ছে। তবে সার্বিক বিবেচনায় যাত্রী সংখ্যা আগের চেয়ে কমেছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে, রেলপথের দৈর্ঘ্য ২৯৫৫.৫৩ কিলোমিটার এবং স্টেশন ও জংশন স্টেশনের সংখ্যা ৪৫৮। এর মধ্যে কম্পিউটারাইজড আসন সংরক্ষণ ও টিকিটিং সুবিধা সংবলিত স্টেশন ৬২টি (পূর্বাঞ্চলে ৩৫টি, পশ্চিমাঞ্চলে ২৭টি) কম্পিউটারাইজড রেলের তথ্য পরিদর্শন ব্যবস্থা সংবলিত ৫টি রেলস্টেশন (ঢাকা, বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট)। সারা দেশে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা ৩৪৭ (আন্তঃনগর ৯০টা; মেইল ১২০টি; লোকাল ১৩৫টি)। আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা ২টি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজেল লোকোমোটিভ (রেল ইঞ্জিন) এর বহরে ডিজেল-ইলেকট্রিক ও ডিজেল-হাইড্রোলিক উভয় ধরনের ইঞ্জিন রয়েছে। ২০০৭ সালে ৭৭টি ব্রড গেজ লোকোমোটিভ সক্রিয় ছিল। ২০১২ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ভারতের ডিজেল লোকোমোটিভ ওয়ার্কস থেকে ৩১০০ হর্সপাওয়ারের ১৬টি নতুন ব্রড গেজ লোকোমোটিভ অর্ডার করে ক্লাস ২০০০, ২৬০০, ২৭০০ ও ২৯০০-সহ মোট ২০৮টি মিটার গেজ ডিজেল-ইলেকট্রিক লোকোমোটিভও ছিল।

সর্বমোট ২৮৫টি লোকোমোটিভ সক্রিয় ছিল। বাংলাদেশে কিছুসংখ্যক বাষ্পীয় লোকোমোটিভ সংরক্ষণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রোগ্রেস রেল সার্ভিস থেকে ৪০টি লোকোমোটিভ অর্ডার করা হয়।