আসছে বাঁশের বিস্কুট

ঢাকা, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২০ | ৯ কার্তিক ১৪২৭

আসছে বাঁশের বিস্কুট

ডেস্ক রিপোর্ট ১০:২৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২০

print
আসছে বাঁশের বিস্কুট

ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, মিয়ানমারের এক বিস্তীর্ণ অংশে বাঁশঝাড় খুবই পরিচিত দৃশ্য। বাঁশগাছের নানা অংশ খাদ্য হিসেবেও জনপ্রিয়। এবার বাঁশ থেকে বিস্কুট বা কুকি এই প্রথম তৈরি করে দেখাল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।

গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাঁশ দিবসে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বাঁশ বা বাঁশের কোঁড়ল থেকে এই বিস্কুট তৈরির কথা ঘোষণা করেন। বাঁশের তৈরি সুস্বাদু কুকি তিনি নিজেও খেয়ে দেখেছেন, আর সেই ছবি পোস্ট করেছেন টুইটারেও।

ত্রিপুরা সরকার জানিয়েছে, দেশের বাজারে যেমন, তেমনি আন্তর্জাতিক স্তরে বাংলাদেশের বাজারেও তারা এই বাঁশের বিস্কুট বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে। গোমতী নদী দিয়ে সম্প্রতি অভ্যন্তরীণ নৌপথে ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের পণ্য চলাচল শুরু হয়েছে, সেই পথেই ‘বাঁশের বিস্কুট’ প্রতিবেশী দেশে পাঠাতে চায় ত্রিপুরা।

বাঁশের কোঁড়ল দিয়ে এই অভিনব ও স্বাস্থ্যকর কুকি বিস্কুট তৈরি করেছে ত্রিপুরার একটি সরকারি কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যার নাম ব্যাম্বু অ্যান্ড কেইন ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউট (বিসিডিআই)। বাঁশ ও আখের ফলন ও সেগুলো দিয়ে নানা ধরনের কৃষিপণ্য তৈরির জন্য গবেষণা করে থাকে এই সংস্থা। বিসিডিআইয়ের প্রধান ড. অভিনব কান্ত ও সহকর্মীরাই ত্রিপুরার মুলি বাঁশ থেকে এই বিস্কুট তৈরি করেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, ত্রিপুরার মানুষের প্রিয় খাদ্য বাঁশ কোঁড়লকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বাজারজাত করার লক্ষ্যে উদ্যোগী আমাদের সরকার। আন্তর্জাতিক বাঁশ দিবসে প্রাথমিকভাবে বাঁশ কোঁড়লের বিস্কুট বাজারজাত করার সূচনা করলাম।’ ত্রিপুরা সরকার আরও জানায়, ময়দা, আটা ও বিস্কুট তৈরির অন্যান্য উপকরণের সঙ্গেই বাঁশ কোঁড়লকে পেস্ট করে এই বিস্কুট প্রস্তুত করা হয়েছে।

মাল্টি ভিটামিনস, মিনারেলসে পরিপূর্ণ বাঁশ কোঁড়ল স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী। গবেষকদের দাবি, এই খাদ্য ক্যানসার ও ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধেও কার্যকরী ভূমিকা নেয়। বাঁশের কোঁড়লে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফাইবার থাকায় হজমেও সুবিধা হয়। পাশাপাশি শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের সৌভাগ্য এই যে, সুন্দরী ত্রিপুরার মাটিতে যে বাঁশ জন্মায় তার ৮০ শতাংশই মুলি বাঁশ। মুলি বাঁশের পেস্ট দিয়েই এই বিস্কুট প্রস্তুত করা হয়েছে।

বাঁশ কোঁড়লের বিস্কুটকে বাজারজাত করার ক্ষেত্রে প্যাকেজিংয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে বাঁশ ও ত্রিপুরার জনজাতি মানুষের অন্যতম ঐতিহ্য ‘রিশা’। বাঁশের তৈরি শিশিতে রাখা থাকবে বাঁশ কোঁড়লের বিস্কুট। আর তার আবরণ থাকবে রিশার।

আগামী দিনে বাঁশের শিশিতে মধুও বাজারজাত করা হবে বলে বিপ্লব দেব জানান।

ত্রিপুরার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, তারা এই নতুন প্রোডাক্টটির ব্যবসায়িক সাফল্যের জন্য মূলত বাংলাদেশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন। আমাদের রাজ্যের বাজার খুব ছোট। বরং বাঁশের বিস্কুটের মতো প্রিমিয়ার প্রোডাক্টের চাহিদা ঢাকা বা চট্টগ্রামে খুব ভালো হবে বলে আমাদের বিশ্বাস, আর এখন পণ্যও সেখানে সহজেই পাঠানো সম্ভব।