অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারে ভয়ঙ্কর ফাঁদ

ঢাকা, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২০ | ১২ কার্তিক ১৪২৭

অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারে ভয়ঙ্কর ফাঁদ

প্রীতম সাহা সুদীপ ১২:১৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

print
অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারে ভয়ঙ্কর ফাঁদ

ব্যস্ততম রাজধানী ঢাকায় অ্যাপসের মাধ্যমে রাইড শেয়ার এখন বেশ জনপ্রিয়। যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে অনেকেই সহজ মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছেন আধুনিক এই পদ্ধতিকে। তবে সম্প্রতি অনেক চালকই অধিক লাভের আশায় অ্যাপসের মাধ্যমে যাত্রীসেবা না দিয়ে চুক্তিভিত্তিকভাবে যাত্রী পরিবহন করছেন। ফলে প্রায়ই ঘটছে হত্যা-ছিনতাইসহ নানা অপরাধের ঘটনা।

এমন অবস্থায় অ্যাপস ছাড়া কোনো বাহনে যারা যাত্রী হিসেবে উঠবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক রাইড শেয়ারিংয়ে জড়িত চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথাও জানানো হয়েছে। 

গত বছরের ২৭ আগস্ট শাজাহানপুরের মগবাজার-মালিবাগ ফ্লাইওভারে অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পাঠাওয়ের চালককে গলা কেটে হত্যার পর মোটসাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ১৪ মে শাহজাদপুরে ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে থেকে চুক্তিভিত্তিকভাবে মোটরবাইকে মতিঝিল এজিবি কলোনি যাওয়ার পথে বনশ্রীতে একটি নীরব সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হন ফরিদ আহমেদ। তিনি খোলা কাগজকে জানান, যানজট এড়ানোর কথা বলে ওই চালক আমাকে নির্জন একটি পথে নিয়ে যান। এরপর রাস্তায় মোটরসাইকেল থামিয়ে দেন। এরমধ্যে তিনজন এসে আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে সর্বস্ব ছিনতাই করে নেয়।

এমন আরেকটি ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটে গত ২১ আগস্ট দুপুর দেড়টায় তুরাগ থানাধীন ১৫ নম্বর সেক্টর এলাকায়। যাত্রীসহ এক মোটরসাইকেল চালক সেখানে পৌঁছামাত্র পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী অজ্ঞাতনামা কয়েকজন মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এরপর তারা মোটরসাইকেল চালককে চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তার ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার বাইকটি ছিনতাই করে নিয়ে যায়।

সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও বাগেরহাটে অভিযান চালিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেফতাররা হলেন- মো. মাসুম মোল্লা ও মো. ইমরান। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাই করা টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলটি, একটি মোবাইল ফোন ও চারটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান ডিবির নবনিযুক্ত অতিরিক্ত কমিশনার? এ কে এম হাফিজ আক্তার।

তিনি জানান, ওই ঘটনায় তুরাগ থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তে জানা যায়, যাত্রীবেশী ওই ছিনতাইকারী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ীই রাইড শেয়ারিং অ্যাপস ব্যবহার ছাড়া ওই চালকের সঙ্গে চুক্তি করেছিল। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান চালিয়ে ছিনতাই হওয়া ওই মোটরসাইকেলসহ ছিনতাইকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।

ডিবি কর্মকর্তা হাফিজ বলেন, সাধারণত পাঠাও এবং উবারের রাইড শেয়ারিংয়ে অ্যাপস ব্যবহার করে গাড়ি ভাড়া করা হয়। ছিনতাইকারীরা ঘটনার দিন যাত্রীবেশে অ্যাপস ব্যবহার না করে ভিকটিমের মোটর সাইকেল ভাড়া করে উত্তরার ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর ভিকটিমকে চাকু দিয়ে ভয় দেখিয়ে তার মোটর সাইকেল ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

এক প্রশ্নের জবাবে এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, যখন কোনো যাত্রী পাঠাও কিংবা উবারের মতো মোটরসেবার মোটরসাইকেলে ওঠেন, তখন কিন্তু পুলিশ জিজ্ঞেস করে না কে কীভাবে যাচ্ছেন। যখন বিপদ হয় বা দুর্ঘটনা ঘটে, তখন পুলিশ জানতে পারে। অ্যাপস ছাড়া মোটরসেবায় চলাচল করা উচিত নয়। কারণ এতে ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক অপরাধ বেড়ে যেতে পারে। আমরা অ্যাপসভিত্তিক মোটরসেবার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে নিয়ন্ত্রণমূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেবো। এরপরেও যদি এ ধরনের ঘটনা ঘটে তবে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাইড শে্যারিং প্রতিষ্ঠান পাঠাওয়ের বিপণন বিভাগের পরিচালক সৈযদা নাবিলা মাহবুব দৈনিক খোলাকাগজকে বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই বার বার চালক ও যাত্রী সাধারণকে সতর্ক করেছি অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ার করা কতটা বিপদজনক হতে পারে। এর আগে অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ারে দুইটি হত্যাকা- এবং অসংখ্য ছিনতাইয়ের মত ঘটনা ঘটেছে। তাই আবারও চালক ও যাত্রীদের অনুরোধ করতে চাই অ্যাপস ছাড়া রাইড শেয়ার কতটা বিপদ ডেকে আনতে পারে তা আপনারা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে পুলিশ প্রসাশনসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে মিলে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।