পেঁয়াজ তদারকিতে ৩ সচিব

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০ | ৫ কার্তিক ১৪২৭

পেঁয়াজ তদারকিতে ৩ সচিব

আমদানিতে সুদ ৯ শতাংশের বেশি নয়

জাফর আহমদ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

print
পেঁয়াজ তদারকিতে ৩ সচিব

এ বছর দেশে চাহিদার প্রায় সমান পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি অব্যাহত রয়েছে। তারপরও গত সোমবার ভারত আগের দামে রপ্তানি বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গে দেশে পেঁয়াজের দাম কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বাজার থেকে পেঁয়াজ উধাও হতে শুরু করে। এ অবস্থা অনুসন্ধানে সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেয় সরকার। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তিন যুগ্ম সচিব পাঠানো হয়েছে পেঁয়াজ উৎপাদন হওয়া সাত জেলায়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং জোরদার করেছে।

দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনকারী জেলা- ফরিদপুর, পাবনা, রাজবাড়ী, রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোরসহ সব জেলার জেলা প্রশাসককে সরবরাহ ক্ষেত্রে যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না থাকে, সে বিষয়ে মনিটরিং জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বন্দরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

সারা দেশে পেঁয়াজের দাম নিয়ে যাতে কোনো অনাকাক্সিক্ষত মূল্য পরিস্থিতি না করা হয়, সে জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকদের কাছে বাজার মনিটরিং জোরদার করতে চিঠি দিয়েছেন। পেঁয়াজ আমদানিকারকদের এলসি খোলাসহ সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, দেশে পেঁয়াজের মূল্য ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে ট্রাক সেলে ঢাকা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসহ দেশব্যাপী ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি কেজি ৩০ টাকা মূল্যে খোলাবাজারে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করে। ফলে বাজারে পেঁয়াজের মূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়। পেঁয়াজ বিক্রির এ কার্যক্রম আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় টিসিবির মাধ্যমে এবার ব্যাপকভাবে পেঁয়াজ আমদানি ও বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে টিসিবি এবার ই-কমার্সের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি করবে। পেঁয়াজের অবৈধ মজুদ বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্যবৃদ্ধির চেষ্টা করা হলে সরকার প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

পেঁয়াজ আমদানির ওপর কৃষিপণ্য হিসেবে মাত্র পাঁচ শতাংশ হারে আমদানি শুল্ক ধার্য থাকে। নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সরকারের পক্ষ থেকে এ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। তবে শুল্ক প্রত্যাহার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে সম্পন্ন হওয়ার কারণে সরকারের ঘোষণা পণ্যের বাজারে প্রভাব ফেলতে দেরি হয়। ঘোষণা দেওয়ার পরও ২০১৭ সালে চালের আমদানির শুল্ক প্রত্যাহার করতে দুই মাসের অধিক সময় লেগে যায়। ২০১৯ সালে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর নেওয়া উদ্যোগ কার্যকর করতে প্রায় একই সময় লাগে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এবার যাতে এ ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আমদানিকৃত পেঁয়াজ স্থলবন্দর থেকে দ্রুততম সময়ে ছাড় করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এনবিআর চেয়ারম্যান এবং বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজের ওপর আরোপিত পাঁচ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

পেঁয়াজ আমদানিতে সুদ ৯ শতাংশের বেশি নয়
পেঁয়াজের দাম কমানোর লক্ষ্যে সুদহার বিষয়ে নির্দেশনা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন জারি করা নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পেঁয়াজ আমদানি করতে এলসি (ঋণপত্র) খোলার ক্ষেত্রে সুদহার কোনোভাবেই ৯ শতাংশের উপরে রাখা যাবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এ সার্কুলারে বলা হয়েছে, পেঁয়াজসহ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের আমদানি ঋণপত্র খোলার ক্ষেত্রে সুদের হার ন্যূনতম পর্যায়ে রাখার জন্য ৩০ মে পর্যন্ত যে নির্দেশনা ছিল তার সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে। পেঁয়াজ আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ সুদহার নির্ধারণের এ নির্দেশনা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।