শিশু শিক্ষার্থীদের ম্যাজিক ফ্রেন্ড

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

শিশু শিক্ষার্থীদের ম্যাজিক ফ্রেন্ড

লিটন ঘোষ জয়, মাগুরা ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৪, ২০২০

print
শিশু শিক্ষার্থীদের ম্যাজিক ফ্রেন্ড

জাদু দেখানোই তার আনন্দ। তিনি ভালোবাসেন ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের, শিশুরাই তার প্রিয় বন্ধু। মানুষটির মুখে সব সময় জুড়ে থাকে হাসির হিড়িক। তিনি কথা বলেন- ছন্দ মিলিয়ে। বুক পকেটে কলমের সঙ্গে চিরুনি থাকে। দেখা হলে কথার ফাঁকে ফাঁকে তিনি মাথায় চিরুনি দেয়। এটা আমার কাছে বেশ ভালো লাগে! চেহারা এবং পোশাক বেশ পরিপাটি। তার সঙ্গে দেখা হলে নতুন, নতুন গল্প শোনা যায়।

আমি ভীষণ আগ্রহ ও মনোযোগ সহকারে তার গল্পগুলো শুনি। কেননা তার কোন গল্পে কষ্ট বা দুঃখের কথা থাকে না। তার চোখে এবং মুখে থাকে- আনন্দ, স্বপ্ন, ভালোলাগা এবং ভালোবাসার বাণী। থাকে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়। বলছিলাম- মাগুরা মহম্মপুরের পলাশ বাড়িয়া গ্রামের অরুপ কুমার গুহর কথা। তিনি পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক।

‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’ এই প্রতিপাদ্যকে সম্মুখে রেখে শিক্ষাক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রেখে চলেছেন অরুপ কুমার গুহ। তিনি শিক্ষকতা করেন মাগুরা মহম্মদপুরের বালিদীয়া রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিজের ভালোলাগা ও ভালোবাসা থেকেই শিক্ষকতার পাশাপাশি কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে দেখান জাদু। তবে তার প্রতিটি ম্যাজিকই শিক্ষণীয়। তার এইসব জাদু যেন প্রতিদিনই ছড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। তিনি যেন সবার কাছে হয়ে উঠছেন- ম্যাজিশিয়ান। শিশুদের কাছে ম্যাজিক ফ্রেন্ড।

শিক্ষকতার পাশাপাশি যেটুকু সময় পান তিনি, তা জাদু দেখাতেই ছুঁটে যান মাগুরার নানা প্রান্তে। তার জাদু দেখে এলাকার সুধীজন, ছাত্র-ছাত্রী ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা তার নামের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেনÑ জাদুকর। এলাকায় এখন তিনি জাদুকর অরুপ নামে বেশ পরিচিত মুখ। আর একারণেই তিনি হয়ে উঠেছেন মাগুরার মানুষের কাছে অতি পরিচিত মুখ।

সময় সুযোগ পেলেই তার জাদুর সামগ্রী নিয়ে তিনি ছুঁটে যান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা অনুষ্ঠানে। তার জাদু দেখে যেমন আনন্দ পান দর্শক শ্রোতা, তেমনি আনন্দ পান তিনি। কেননা, জাদু দেখানো যেন তার আনন্দ, ভালোলাগা ও শখে পরিণত হয়েছে। যিনি জাদুর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে শেখান- অংক, নানা রঙ, বিভিন্ন ফুলের নাম, ফলের নাম, পাখির নাম, গাছের নাম, মাছের নাম এবং এর ফাঁকে ফাঁকে কোমলমতি শিশুদেরকে শোনান- মুক্তিযুদ্ধের গল্প, লাল সবুজ পতাকার কথা, বঙ্গবন্ধুর গল্প। অরুপ কুমার গুহ প্রায় পাঁচ শতাধিকের মতো জাদু জানেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি জাদু দেখানোই তার সবচেয়ে বেশি আনন্দ।

কথায় কথায় অরুপ কুমার গুহকে প্রশ্ন করিÑ আপনি এত কিছু রেখে, নানা রঙ, ফুল, ফল, পাখি, গাছ ও মাছের নাম কেন জাদুতে দেখান বা শেখান ? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন- ‘দেখুন, আমাদের আগামী প্রজন্ম দেশের সম্পদ। তারা অনেক কিছুই শিখছে এটা ঠিক! কিন্তু আমার মনে হয় যেটা তাদের শেখা উচিত, সেটাই তারা সবচেয়ে কম জানে! আমি তো শিক্ষকতা করি, পাশাপাশি জাদু দেখাই।

জাদু দেখাতে আমাকে নানা স্কুলে যেতে হয় এবং তখন এটা বেশ ভালোই উপলব্ধি করতে পারি। অবশ্য এটা তাদের দোষ না। আমরা কেউই এর দায় এড়াতে পারি না! এখন তাদের শেখার বয়স, আমরা যেটা শেখাব তারা সেটাই শিখবে। এই জন্যেই আমি জাদুর ফাঁকে ফাঁকে কোমলমতি শিশুদেরকে শোনাই- মুক্তিযুদ্ধের গল্প, লাল সবুজ পতাকার কথা, বঙ্গবন্ধুর গল্প। আমি মনে করি একজন নাগরিক হিসেবে, এটা আমার একান্ত দায়িত্বÑ সঠিক তথ্য শিশুদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

কথা প্রসঙ্গে অরুপ কুমার গুহ আরো জানান- ‘আমি জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের ভীষণ ভক্ত। জাদুশিল্পে তিনি আমার কাছে আদর্শ। তার জাদু দেখেই আমি প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত হই। আমার কাছে জুয়েল আইচ মানে, বিশ্ব বিখ্যাত জাদুকর- ডেভিড কপারফিল্ড। যে চোখের সামনে থেকে তাজমহল আর ট্রেন ভ্যানিস করে ফেলত।

আমার স্বপ্ন জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে, আমার এই জাদু তুলে ধরা। তিনি আরো জানান- ‘জীবনে যদি কখনো সুযোগ পাই বাংলাদেশের জননন্দিত এবং গুণী মানুষ হানিফ সংকেতের সঙ্গে দেখা করার, তাহলে নিজেকে ধন্য মনে করব।