নব্য জেএমবি মাজারে হামলার পরিকল্পনা ছিল

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

নব্য জেএমবি মাজারে হামলার পরিকল্পনা ছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক ১০:০৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

print
নব্য জেএমবি মাজারে হামলার পরিকল্পনা ছিল

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় নব্য জেএমবির সদস্যরা রাজধানীর পল্টন ও নওগাঁর সাপাহারে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান।

সিলেটে নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতারের পর গতকাল বুধবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশের বিশেষ এ ইউনিটের প্রধান ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম।

সিলেট থেকে গ্রেফতাকৃতরা হলেনÑশেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামান, সায়েম মির্জা, রুবেল আহমেদ, সানাউল ইসলাম সাদিক ও আব্দুর রহিম জয়েল। ঈদের আগে ঢাকার পল্টনে পুলিশের মোটরসাইকেলে বোমা রাখার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়। সিটিটিসি এবং পুলিশ সদর দফতরের ল ফুল ইন্টারসেপশন সেলের (এলআইসি) একটি দল গত রোববার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত সিলেটের মিরাবাজার, টুকেরবাজার ও দক্ষিণ সুরমায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারদের কাছ থেকে বোমা তৈরির সরঞ্জাম, ল্যাপটপ ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির এ দলটি ২৩ জুলাই হজরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু পুলিশের কড়া নজরদারিতে তারা ব্যর্থ হয়ে ২৪ জুলাই পল্টন চেকপোস্টের পাশে ও ৩১ জুলাই নওগাঁ জেলার সাপাহার এলাকায় হিন্দু মন্দিরে বোমা হামলা করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের নব্য জেএমবির সামরিক শাখার সদস্য হিসিবে কাজ করছে তারা এবং কথিত আইএসের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এসব হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে জানান এ কর্মকর্তা।

মনিরুল ইসলাম জানান, নব্য জেএমবির শূরা সদস্য শেখ সুলতান মোহাম্মদ নাইমুজ্জামানের নেতৃত্বে শাপলাবাগের একটি বাসায় কম্পিউটার প্রশিক্ষণের আড়ালে সামরিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিল। নাইমুজ্জামান ২০১৯ সালে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স করেছে এবং ছাত্রজীবনে শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিল। সংগঠনের সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিতেই সে শাপলাবাগের বাসাটি ভাড়া নেয়। অন্যদের মধ্যে সানাউল ইসলাম সাদিক শাহ্জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী।

রুবেল আহমেদ টুকেরবাজারে সার, বীজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করে। এছাড়া গ্রেফতার আব্দুর রহিম জুয়েল রেন্ট-এ-কারের চালক। আর সায়েম মির্জা মদন মোহন কলেজের অর্নাস শেষ বর্ষের ছাত্র। মনিরুল ইসলাম বলেন, নব্য জেএমবির এই দলের আরও কয়েকজন সদস্য পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। জঙ্গিরা একত্রিত হয়ে বড় ধরনের কোনো নাশকতা করার কোনো সমর্থ নয়। তাদের কোনো সাংগঠনিক শক্তিও নেই বলে জানান মনিরুল ইসলাম।